২১ জানুয়ারি ২০২০

সোহরাওয়া‌র্দি‌তে ফি‌রে এ‌লো সেই ঐতিহা‌সিক বিজয় মুহূর্ত

-

রাজধানীর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়া‌র্দি উদ্যান। শিখা অনির্বানের ঠিক দক্ষিণ পাশে একটি জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে একটি টেবিল। সাথে রাখা দুটি চেয়ার। ঘড়িতে তখন চারটা বেজে ৩১মিনিট।

ধীর পদক্ষেপে একটি চেয়ারে এসে বসলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী।অন্য চেয়ারে বসলেন বাংলা‌দেশ-ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি এবং ভারতের বিমান ও নৌবাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডারা।

আত্মসমর্পণ দলিলে পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করলেন জেনারেল নিয়াজী। একই দলিলে স্বাক্ষর করলেন মিত্র বাহিনীর প্রধান জগজিৎ সিং অ‌রোরা। এরপর বাঁশি বাজাতে বাজাতে চলে যান পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পরক্ষণে চারদিক থেকে 'জয় বাংলা' ধ্বনি তুলে এগিয়ে আসতে থাকেন স্বাধীন বাংলার মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা।

বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আজ সোমবার এভাবে তুলে ধরলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১।

বিজয়ের ৪৮ তম বার্ষিকীতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শিখা অনির্বাণ এর পাশেই বিজয় স্তম্ভের পাদ‌দে‌শে অনুষ্ঠানটি এভাবেই প্রত্যক্ষ করলেন বর্তমান প্রজন্মের হাজার হাজার দর্শনার্থী। মুহূর্তে জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে
সমস্ত উদ্যান। সাথে উপস্থিত ছিলেন আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ও কয়েকটি সংগঠনের সহযোগিতায় মঞ্চস্থ হয় পুরো অনুষ্ঠানটি।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, নাচ ও কবিতায় মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন তরুণ সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল (অব) কে এম শফি উল্লাহ। পরে তরুণ প্রজন্মের হাতে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং দীপ্ত শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান পর্ব।


আরো সংবাদ




krunker gebze evden eve nakliyat