১৮ জানুয়ারি ২০২০

জিয়াউর রহমান দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিলেন : ফখরুল

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামী আলমগীর বলেছেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই এদেশের জনগণ বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 

আজ রোববার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের এই দেশকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ধ্বংস করে ফেলেছে। তিনি বলেন, এদেশে আর কখনো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে কিনা আমি জানি না। আমরা জানি এখন ৯ শতাংশ, ৮ শতাংশ এমনকি ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে যায় না। কারণ ভোট ব্যবস্থার উপর তাদের আস্থা চলে গেছে। তারা জানে যে ভোট দিতে গিয়ে লাভ কি হবে? গিয়ে তো দেখব আমার ভোট নাই, ভোট দেয়া হয়ে গেছে, নয়তোবা আমার ভোট জোর করে দিতে বলা হচ্ছে। এটা এখন সর্বত্র এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও এটা চালু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এবং আস্থা বিচার বিভাগের প্রতি। মানুষ যেখানে গেলে মনে করে আমরা একটু আশ্রয় পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের সেখানে আমাদের দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি একটি নির্বাচনেও জীবনে পরাজিত হননি তাকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে বেআইনিভাবে তার প্রাপ্য যে জামিন সে জামিন থেকে বঞ্চিত করে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমার গণহত্যা করেছে, এই সরকার এ কথাও বলেছে বলে আমি শুনিনি। গাম্বিয়া আফ্রিকার একটি দেশ, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করেছে যে, রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়েছে। আর আমাদের বাংলাদেশের সরকার বলছে, তারা নাকি সাহায্য করার জন্য সেখানে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওখানকার আন্তর্জাতিক আদালতে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখানে আগে কোনো এপ্লাই করে নাই, তাই তাদেরকে কাজ করার মতো আর কোনো সুযোগ দেয়ার সুযোগ নেই।

ভারতের এনআরসি সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি এই এনআরসি বিষয়টিতে আমাদের সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত। তাদের ভারতের সাথে কথা বলা উচিত। কারণ এখানে আমাদের স্বার্থ আছে। আজকে বারবার বলা হচ্ছে বাংলাদেশিরা বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করছে, এটা একটা মারাত্মক কথা। তার মানে এনআরসি করে তারা বলছে কাউকে থাকতে দেয়া হবে না। তাদের মন্ত্রীরা বারবার ঘোষণা দিচ্ছেন সেইসব বাংলাদেশীকে পাঠিয়ে দেয়া হবে জোর করে, একটাকেও রাখা হবে না। আমাদের নাগরিক না। অথচ বাংলাদেশী বলে তারা ফেরত পাঠিয়ে দিবেন এবং সেটা আমাদের উপর লাখ লাখ মানুষের আরেকটি চাপ আসবে। এটা তো আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা সকল কিছুর উপর চাপ সৃষ্টি করবে। সেসব বিষয়ে এ সরকারের কোনো কথা নেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ -সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।


আরো সংবাদ