১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

এক সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়ার কাছে চিকিৎসক যায়নি : রিজভী

বিএনপি চেয়ারপরসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কারাগারে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অপকৌশল প্রয়োগ করছে সরকার। বিনা চিকিৎসায় তাকে কারাগারে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে। গত ৬৪৫ দিন ধরে বিনা অপরাধে কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ এটা দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন। সুচিকৎসার অভাবে ৭৫ বছর বয়স্ক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে অবনতি ঘটছে। বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও সুচিকিৎসার কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোনো চিকিৎসক বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি। তার হাতে যে ব্যথা ছিল তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা। নার্সরা তার হাতে-পায়ে হাত দিতে পারছেন না, হাত দিলেই তিনি প্রচন্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। তার ডান পায়ের গোড়ালীতে একটা ফোঁড়ার কারণে সেই যন্ত্রণা আরো তীব্রতর হয়েছে। অথচ সরকারি চিকৎসকরা দেশনেত্রীকে চিকিৎসা করছেন না। তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন।

দেশবাসী তার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুণলেও স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না সরকার। বেগম জিয়ার রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস এর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড এর চেয়ারম্যান এখনো কোনো মতামত দিচ্ছেন না। অথচ ইতোমধ্যে রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস এর তিন জন চিকিৎসক সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ডের যে রিপোর্ট সেটিও প্রকাশ করা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান তার বোর্ডের অপর তিন জন সদস্যকে নিয়ে অদ্যাবধি কোন বোর্ড মিটিং করেননি। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অন্যান্য সদস্যদেরকে জানাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, বুধবার দেশনেত্রীর সঙ্গে তার ভাই-বোনরা সাক্ষাত করে তার গুরুতর অসুস্থতায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। দেশনেত্রী হাইলি এক্টিভ ডিফরমিং, রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। রোগের প্রয়োজনীয় যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা না হওয়ার কারণে উনার হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। উঠতে-বসতে পারছেন না। জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা অচিরেই স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে। হাত, পায়ের আঙুল বেঁকে যাচ্ছে। নিজ হাতে কিছু খেতেও পারছেন না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অথচ এই সমস্ত জটিল ও গুরুতর রোগগুলোকে নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা উপহাস করছেন। জনগণের সেন্টিমেন্ট তোয়াক্কা করে না বলেই সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়ার সকল আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক, সাহস ও প্রেরণার প্রতীক। সরকারের এই টালবাহানায় খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এখনো সময় আছে, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন।

রিজভী বলেন, বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি’। আসলে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী আজগুবি কথা বলছেন। ইতিহাস সাক্ষী, দেশের জনগণ সাক্ষী, মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ১৯৭৮ সালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৯২ সালেও রোহিঙ্গা সঙ্কট কঠোর ও সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রোহিঙ্গা সঙ্কট কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটা একটা জাতীয় সঙ্কট। এই সঙ্কট বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ফলে জাতীয় সংলাপ ডাকুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। রোহিঙ্গা ইস্যু দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এখন সমস্যাটিকে উপক্রান্ত অবস্থায় সমাধান না করে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতায় প্রমাণিত হয়েছে- এই সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে অন্যের সফলতা নিয়ে অবান্তর কথা বলছেন।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik