০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

সাদেক হোসেন খোকার শেষ ইচ্ছা

-

যে দেশের স্বাধীনতার জন্য রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন গেরিলা যোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা, মৃত্যুর সময় সে দেশে ফেরার সুযোগ হয়ে উঠেনি তার। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

সাদেক হোসেন খোকা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর দুর্নীতি মামলায় তার সাজা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়। এরপরও বারবার দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শরীর তার সে চাওয়ার পক্ষে ছিল না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথেও একাধিকবার তিনি দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোকার জন্য দোয়া মাহফিলে সে কথাই স্মরণ করলেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আজ যখন আমরা স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করছি, তখন সাদেক হোসেন খোকাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। আমি কয়েকবার তার সাথে নিউইয়র্কে দেখা করেছি। প্রতিবারই তিনি আমাকে বলেছেন, যদি অসুস্থ না হতাম, তা হলে আমি দেশে গিয়ে জেলে যেতাম, মানুষের সাথে থাকতাম।’

তিনি আরো বলেন, সাদেক হোসেন খোকা আমাদের ও তার বন্ধুদের বলেছেন যে, ‘দেশের মাটিতেই যেন আমার কবর হয়’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোববার সকালে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে আমাকে ফোন করে বলে, তার বাবার ইচ্ছাটা সে পূরণ করতে চায়। তিনি যেন দেশে ফিরতে পারেন তার উদ্যোগ নিতে আমরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, তিনি যেন সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।’

এদিকে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খোকার শেষ ইচ্ছে যেন পূরণ করা হয়, সেজন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

খোকার মৃত্যুর আগে দেয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা খোকা আজ মত্যুসজ্জায় শায়িত। সে বুঝে গেছে যে, একদিন যুদ্ধ করে যে দেশকে সে শত্রুমুক্ত করেছিল, সে দেশের মাটির আলো-বাতাসের স্বাদ নিয়ে তাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সুযোগ দিবে না সরকার। তাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে না পারলেও দেশের মাটিতে যেন তাকে সমাহিত করা হয়, এমনটাই চায় সাদেক হোসেন খোকা।’

পাসপোর্ট জটিলতার বিষয়ে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তার বাবা-মায়ের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারপর সেটি বাংলাদেশ দূতাবাসে নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দূতাবাস থেকে কোনো সদূত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। এ ছাড়া দেশে আসার পর তার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার তার ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘নিউ ইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার পরিবার ‘ট্রাভেল পারমিট’-এর জন্য আবেদন করলে আমাদের মিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি এবং তার স্ত্রীর যেহেতু পাসপোর্ট নেই, সেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে অন্য দেশ থেকে নিজের দেশে ফেরার এটিই একমাত্র ব্যবস্থা।’

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে সপরিবারে নিউইয়র্ক যান সাদেক হোসেন খোকা। তারপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন বিএনপির এ নেতা।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik