১৪ নভেম্বর ২০১৯

‘জনতার কাউন্সিলর’ রাজীবের বৈধ আয়ের কোনো উৎসই নেই!

তারেকুজ্জামান রাজীব - ছবি : সংগৃহীত

কাউন্সিলর হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া ভাতা ছাড়া তারেকুজ্জামান রাজীবের বৈধ কোনো আয়ের উৎস এখনো খুঁজে পাননি আইনশৃখলা বাহিনীর সদস্যরা। অথচ তার বাড়িটির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকা। বাড়িটির প্রতিটি আসবাবপত্র বিদেশ থেকে আমদানি করা। তবে তল্লাশিকালে তার বাসা থেকে পাঁচ কোটি টাকার চেক ছাড়া তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। গত শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় আত্মগাপনে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর তাকে নিয়ে রাতভর মোহাম্মদপুরের বাসা ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় র্যাব। অভিযানে পাঁচ কোটি টাকার চেক ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। র্যাবের ধারণা, আগে থেকেই সতর্ক থাকায় কাউন্সিলর রাজীব আর্থিক লেনদেনের আলামত সরিয়ে ফেলেছেন। তবে গ্রেফতারের সময় ওই বাসা থেকে সাতটি বিদেশী মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

র্যাব জানায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্বের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে সাথে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসা ও কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, মোহাম্মদপুরে তার বাসা এবং অফিসে তল্লাশি করে তেমন কিছু পাইনি। কারণ তার বাড়িতে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত যেসব ডকুমেন্ট ছিল সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তবে রাজীবের একজন সহযোগীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে একটি চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে। বইটিতে দেখা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে একদিনে (তিনটি চেকের মাধ্যমে) পাঁচ কোটি টাকা জমা দেয়া হয়েছে। আমরা এগুলো তদন্ত করে দেখছি কোথায় টাকা জমা দিয়েছেন, টাকাগুলো কোথায় গেছে। রাজীবের সহযোগী এবং তার সাথে জড়িত রয়েছে এমন আত্মীয় বা অনাত্মীয় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, রাজীবের বৈধ আয়ের কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। সিটি করপোরেশন থেকে যে সম্মানী পায় সেটা তার একমাত্র বৈধ আয়। অবৈধ লেনদেনের বিষয়গুলো রয়েছে, সেসব তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে।

আপাতত তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অর্জিত আয়ের উৎস এবং অর্থ পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং এই অর্থ তিনি কোথায় খরচ করেছেন তো দেখা হবে। সারওয়ার আলম বলেন, বৈধ আয় না থাকলেও রাজীবের রাজকীয় বাড়ি রয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সব জিনিস বাইর থেকে আমদানি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার আগে দৃশ্যমান কোনো ব্যবসাই ছিল না মোহাম্মদপুরের সুলতান তারেকুজ্জামান রাজীবের। বর্তমানেও কাউন্সিলর হিসেবে সরকারি সম্মানীর বাইরে তার কোনো আয়ের উৎস নেই। তবুও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্বঘোষিত ‘জনতার কাউন্সিলর’ রাজীব।


আরো সংবাদ