২১ নভেম্বর ২০১৯

ট্রেনকে লাভজনক করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রেনকে লাভজনক করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী - ছবি : সংগৃহীত

রেলওয়েকে লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার পুরো দেশকে রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘যারা অলাভজনক বলে রেল পথগুলো একেবারে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দিতে চাই যে এগুলোও লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি, রেলপথের আধুনিকায়নের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণসহ মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা যায়।’

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটের ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ এবং রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের নতুন বগি সংযোজনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে রেল অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু বিএনপি সরকার এটা লাভজনক হবে না বলে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কথা মতো পরিকল্পিতভাবে রেলপথগুলো বন্ধ করে দেয়।

‘আমি মনে করি এটি দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের যোগাযোগের জন্য রেলকেই বেছে নেয়। একটি দেশের জন্য রেল, পানি, আকাশ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা খুবই প্রয়োজন,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার বরিশালসহ প্রতিটি বিভাগে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য একটি বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ‘আমরা অনেকগুলি নতুন রেল পথ নির্মাণ করেছি এবং বহু পুরাতন রেললাইন মেরামত করেছি।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো পুরো বাংলাদেশকে, এমনকি দেশের দক্ষিণাংশকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা। সরকার বরিশাল, বাগেরহাটের মংলা ও পটুয়াখালীর পাইরা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করবে। আমরা দ্রুত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি।’

পরবর্তীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিহাট জেলার স্থানীয়দের সাথে মত বিনিময় করেন।

লালমনিরহাটের স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের এ জেলায় সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি (বিএসএমআরএএইউ) প্রতিষ্ঠা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে লালমনিরহাটের অ্যারোনটিকাল সেন্টার থেকে হেলিকপ্টার, বিমান এবং যুদ্ধ বিমান তৈরি করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ এখন জাহাজ নির্মাণ ও রফতানি করতে পারে বলেও জানান তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রেলওয়ে সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন গত ১১ বছরে দেশের রেলপথের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপর একটি অডিও-ভিজুয়াল উপস্থাপনা দেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনবার কুড়িগ্রাম সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে জেলার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঢাকা-কুড়িগ্রাম একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুরও প্রতিশ্রুতি দেন। সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা পেল কুড়িগ্রামবাসী। সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ