১৪ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশের প্রয়োজনের সময় মানবিকতার প্রশ্ন কোথায় থাকে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

ছাত্রলীগের হাতে নিহত বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারের স্মরণসভায় মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার - নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আধুনিক আধিপত্য বিস্তারের নতুন রূপ হলো তারা ভূখণ্ডকে ঠিক রাখবে কিন্তু দেশের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করবে। পানি নিয়ে যাবে, দেশের বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ করবে, শিল্প-কলকারখানা সব লুট করবে- এটাই হল আধুনিক আধিপত্য বিস্তারের নতুন পদ্ধতি। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বুয়েট ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২০দলীয় জোট আয়োজিত স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মরণ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

স্মরণ সভায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আজকে আমাদের বেশি খুশি হওয়ার কিছু নেই যে, আমাদের সীমানা তো ঠিক আছে, আমাদের পতাকা তো ঠিক আছে। এই সবকিছু ঠিক রেখে গোটা জাতির জাতিসত্ত্বা, অখণ্ডতা সবকিছু ধ্বংস করে দেয়ার জন্য নবরূপে ভারতীয় আদিত্যবাদের নব রূপে আত্মপ্রকাশ হয়েছে। তাই আমি দেশবাসীর কাছে বলতে চাই আজকে আবরারের রক্তদান হচ্ছে দাসত্ববাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতিসত্ত্বার মহান পতাকা। এই মহান পতাকাকে তুলে ধরে আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, ৭টি দেশবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে। কি আজব ব্যাপার! বলা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ পানি খেতে পারছে না, তাই তাদেরকে মানবিক কারণে ফেনী নদীর পানি দেয়া হয়েছে। তাহলে আমাদের তিস্তার খবর কি? আমাদের দুটি পোর্ট দিয়ে দিলেন, আমাদের উপর দিয়ে রেল চলে যাবে, এত চুক্তি আপনি করলেন আর ওখানে কোন মানবিকতার প্রশ্ন নেই? তিনি বলেন, আচ্ছা আপনি ১.৮ কিউসেক পানি দেয়ার চুক্তি করে আসলেন। এর আগে থেকে যে সীমান্তে ৩৬টি পাম্প বসিয়ে ভারত এতোকাল পানি নিয়ে যাচ্ছে সেখানে কত পানি চলে গলো সেটার হিসেব কে দেবে?

অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব দেশবিরোধী চুক্তি লক্ষ্য করার কারণে আবরারের ভেতরে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়েছিল। এটা হল দেশপ্রেম। জাতিসত্ত্বার পক্ষে কথা বলার জন্য বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হয়ে আজকে তিনি জাতির জন্য, দেশের জন্য, দেশের পক্ষে কথা বলার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এটাই যদি তার অপরাধ হয়, আবার বলা হচ্ছে শিবির করার সন্দেহে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ধরে নিলাম শিবির করার অর্থ আপনারা যদি এই কথা বলেন তার মানে কি এই দাঁড়ায় যে শিবির করলেই তাকে মেরে ফেলতে হবে?

তিনি আরো বলেন, খুব দুঃখের সহিত আমি বলছি মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিশনাল কমিশনার মনিরুল সাহেব বলেছেন প্রেস কনফারেন্সে যে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের কাছ থেকে জানা গেছে শিবির সন্দেহেই আবরারকে মারা হয়েছে। কথাটা এমন ভাষায় বলা হচ্ছে শিবের করলেই তাকে মারপিট করা যাবে, শিবির করলেই তাকে হত্যা করা যাবে এরকম জাস্টিফাই করার মত একটা ল্যাংগুয়েজ কিন্তু আমরা সোমবার প্রেস কনফারেন্সে তার কথা থেকে বুঝতে পেরেছি। তিনি তো এটা নেগেটিভলি নেননি। এটা যে নৃশংসতা এটার মধ্যে যে কোন মানবতা নাই, এটা যে পশুত্ব, সেটা তার কাছে অনুভব হয়নি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোতেও এত মেধাবী ছেলেরা আসছে। এখানে আসার আগেও তো তারা এরকম ছিল না। এখানে এসেই তারা কেন পশুতে পরিণত হলো? দানবীয় চরিত্র তাদের কেন হলো? এর মানে বুঝতে হবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ঠিক নেই। আমাদের কারুকলাম, আমাদের সিলেবাস, আমাদের সংস্কৃতি আমাদের আদর্শ গোটা ব্যবস্থাকে ঢেলে না সাজালে এরা মানবতার পরিবর্তে পশুতে পরিণত হয়ে তারা বের হবে এর আলামত আমরা পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের সোনার ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পশুতে পরিণত হয়ে যায়। কত নিলিপ্ত হত্যাকাণ্ড! আবরার চিৎকার করছিল পানির জন্য হাহাকার করেছিল, কিন্তু তাকে পানি না দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেরা ক্যান্টিনে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রকে নিষ্ঠুরভাবে নির্মম প্রহার করে তার শরীর থেতিয়ে গেছে তারপরও যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেই দৃশ্য প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ কতটা পৈশাচিক ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ কতটা সন্ত্রাসী। আমাদের মনে করিয়ে দেয় বর্তমান সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে কিভাবে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষকে হত্যা করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছে। তাই আজকে আবরার ফাহাদের এই হত্যাকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দেয় এই সরকার বিষাক্ত সাপের মতো জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন বেগবান করার জন্য আজকে প্রয়োজন বেগম খালেদা জিয়াকে। আজ বেগম জিয়া কারাবন্দি, এদেশের সোচ্চার কণ্ঠ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কারাবন্দি। আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং আবরার ফাহাদ এর হত্যার পেছনে যারা ইন্ধন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াসহ ২০ দলীয় নেতৃবৃন্দকে কারাগার থেকে মুক্তি করার মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।


আরো সংবাদ