০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না : মির্জা ফখরুল

পেশাজীবীদের সমাবেশে মির্জা ফখরুল - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না। জনগণই তাদের প্রিয় নেত্রীকে আন্দোলনের মাধ্যমে বের করে নিয়ে আসবে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ-বিএসপিপি আয়োজিত পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারো অনুকম্পায় মুক্ত হবেন না। তিনি অবশ্যই তার ন্যায্য অধিকার, তার যে জামিন পাওয়ার হক, সেই অধিকারেই তিনি মুক্ত হবেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীকে অবশ্যই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বের করে আনবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আজকে ক্যাসিনো নিয়ে খুব লাফালাফি হচ্ছে। ক্যাসিনো লুট করেছে। তারচেয়ে অনেক বড় সম্পদ লুট হয়ে গেছে। সেই সম্পদ হচ্ছে আমার ভোটের অধিকার, আমার গণতন্ত্রের অধিকার, আমাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু আমাদের দেশের সম্পদ লুট হয়ে গেছে এবং লুট করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের সাথে এই সরকারের নাকি সব সময় সুউচ্চ সম্পর্ক তাই আমরা সব সময় ভালো কিছু আশা করে থাকি। কিন্তু আমরা বারবার হতাশ হই। যতবার যান আমরা দেখি আমাদের যে মূল সমস্যাগুলো রয়েছে সেই সমস্যাগুলো সমাধান হয় না কিন্তু আমরা দিয়ে আসি একেবারে উজাড় করে। আমাদের সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে কোন সমস্যার সমাধান হয় না, আমাদের তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে যে সমস্যার সমাধান হয় না, ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়া হয় আমরা বন্যায় ডুবে যাই সেই সমস্যার সমাধান হয় না। আজকে জনগণ আশা করবে জনগণের যে প্রত্যাশা তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। সে বিষয়ে অবশ্যই একটা সুখবর বাংলাদেশে আপনি নিয়ে আসবেন আমরা অবশ্যই সেটা আশা করি। আমরা আশা করব আমাদের সীমান্তে হত্যা যেন বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ভারতের এমপি, মন্ত্রী এবং নেতারা যখন বলেন আসাম থেকে, ত্রিপুরা থেকে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে তখন স্বাভাবিকভাবেই আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে উদ্বিগ্ন হই। এই জন্য উদ্বিগ্ন হই যে আমাদের কোন নাগরিক ভারতে গেছেন বলে আমারা মনে করি না। আমরা মনে করি এটা একটা ষড়যন্ত্রের কথা, এটা একটা চক্রান্তের কথা যা দিয়ে বাংলাদেশের উপর আরো একটা বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এমনিতেই রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এই সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গা কেউ তারা ফেরত পাঠাতে পারেনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান এই অবৈধ সরকার তারা যারা সব সময় জনগণের অধিকার নিয়ে সবসময় খেলা করেছে, যারা জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, যারা সব সময় গণতন্ত্রের সাথে বেঈমানি করেছে। সেই অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রেখেছে। একটাই মাত্র কারণ তারা জানেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে দুর্নীতির যে স্বর্গরাজ্য, লুটতরাজের যে স্বর্গরাজ্য, দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার যে নীল-নক্শা সেই নীলনকশা তার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সেই জন্যই আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা ভালো করে জানি এই সরকার গণতন্ত্রের কথা বারবার বলেছেন কিন্তু যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছেন তখন তারা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছেন। এটাই তাদের ইতিহাস তাদের চরিত্রের মধ্যে গণতন্ত্র বলতে কোন কিছু নেই। তাদের একটাই আছে একনায়কতন্ত্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা,এক দলের শাসন ব্যবস্থা করা। ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করার মাধ্যমে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং আজকের দীর্ঘদিন ধরে তাদের কৌশল পাল্টে ফেলে গণতন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলে দিয়ে, সংবিধানকে লংঘন করে তারা ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন ভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীণ সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে পেশাজীবী সমাবেশে আরো বক্তব্যে রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম, প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতি জোটের মহাসচিব এম আমিনুল হক প্রমুখ।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik