১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাপায় দৃশ্যমান সমঝোতা হলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ

রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের
রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের - ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় পার্টিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পার্টির মরহুম চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিণী বেগম রওশন এরশাদ ও অনুজ গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জি এম কাদের) মধ্যে দৃশ্যমান সমঝোতা হলেও উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পার্টিতে জি এম কাদেরপন্থীরা বলছেন, উভয় পক্ষের লড়াইয়ে রওশনপন্থীরা শতভাগ বিজয়ী হয়েছেন। আমরা যারা জি এম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম তারা সবাই পার্টিতে রওশন-আনিসের কাছে বিরাগভাজন হয়ে গেলাম। ভবিষ্যতে এ দলে নিজের অবস্থান কতটুকু শক্ত করতে পারব তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

তারা বলছেন, প্রেসিডিয়াম ও এমপিদের যৌথসভা করে সিদ্ধান্ত হলো ব্যারিস্টার আনিস ও ফখরুলকে অব্যাহতি দেয়ার। এ বিষয়ে আমাদের সাথে কোনোরূপ আলোচনা না করেই এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো। পার্টির এ সিদ্ধান্তে সে বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র ৩৪ জন নেতাকে অপমান করা হয়েছে। জি এম কাদের পুনরায় আমাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। এ ছাড়া যে ব্যক্তি পার্টি অফিসে মনোনয়নপত্রই জমা দেননি এমনকি আমাদের মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেননি তাকেই মনোনয়ন দেয়া হলো। এতে করে বৃহত্তর রংপুরের তৃণমূলের আস্থা হারিয়েছেন জি এম কাদের। এ ছাড়া আমরা যারা জি এম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলাম তাদেরকেও ভবিষ্যতে তিনি কাছে পাবেন কি না আমরা সন্দিহান।

জি এম কাদেরপন্থী পার্টির এক সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমরা শুনেছি আওয়ামী লীগ রংপুর-৩ আসনে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে। সে ক্ষেত্রে মতাসীনেরাও রংপুরে সাদকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করবে। সাদ বিজয়ী হওয়ার পর আগামী ৩০ নভেম্বর অনু্ষ্িঠতব্য জাপার কাউন্সিলে সাদ যদি পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী হন তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আমরা যারা জি এম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম তাদের বেশির ভাগই তিনি আর কাছে পাবেন না। আমরা মনে করি জি এম কাদের আপস করেছেন। পার্টির অনেক সিনিয়র নেতাসহ তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী পার্টির কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে জি এম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি বলেন, দুই পক্ষকে এক করার জন্য অনেক অযৌক্তিক দাবি মানতে হয়েছে। অন্যায় যুক্তির কাছে মাথা নত করতে হয়েছে। এরশাদের মৃত্যুর পর পার্টির ভাঙন ঠেকাতে, ঐক্যের স্বার্থে অগ্রহণযোগ্য আবদার আমাদের মেনে নিতে হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, জি এম কাদের যদি নিজের অবস্থান শক্ত করতে না পারেন, অবস্থান পরিষ্কার করতে না পারেন তাহলে দল শক্তিশালী করা তার পক্ষে কঠিন হবে। আমাকে মনোনয়ন বোর্ড সিলেক্ট করে পরে আবার সাদকে মনোনয়ন দেয়া হলো। রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন করেছেন। মনোনয়ন পরিবর্তন করে শুধু আমাকেই নয় রংপুরবাসীকেও অপমান করা হয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়ন বোর্ড তাহলে কেন গঠন করা হলো। আমার মতো ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করা হলো না। তাহলে সারা দেশের নেতাকর্মীরা আর কখনো মূল্যায়িত হবেন মনে হয় না। আসলে ত্যাগের মূল্যায়ন নেই- আছে ভোগের মূল্যায়ন।

রওশনপন্থী বলে পরিচিত পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, আমাদের মধ্যে গঠনতন্ত্র নিয়ে যে বিরোধ ছিল তার অবসান হয়েছে। সমাঝোতার ভিত্তিতেই আমরা আগামী ৩০ নভেম্বর পার্টি কাউন্সিল করব। আমরা রওশন এরশাদকে বিরোধী দলের নেতা ও জি এম কাদেরকে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে মেনে নিয়েছি।
পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, জি এম কাদের সব সময় বলে এসেছেন রওশন এরশাদ তার মায়ের মতো। প্রথম অবস্থায় যদি রওশন এরশাদ জি এম কাদেরকে ডেকে নিয়ে বলতেন তুমি পার্টির চেয়ারম্যান আর আমি বিরোধী দলের নেতা; তাহলে পার্টিতে আর দ্বন্দ্ব হতো না। নেতাকর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত হতেন না।


আরো সংবাদ