১২ নভেম্বর ২০১৯

বয়স ও অবদান বিবেচনায় খালেদা জিয়ার জামিন চান অলি আহমদ

বয়স ও অবদান বিবেচনায় খালেদা জিয়ার জামিন চান অলি আহমদ - নয়া দিগন্ত

বয়স ও অবদান বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জাতীয় মুক্তি মঞ্চের প্রধান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ।  শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আবেদন জানান তিনি।

অলি আহমদ বলেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের জাজ সাহেবদের কাছে আমরা অনুরোধ করবো, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায়, তার অবদান বিবেচনায় নিয়ে, তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান বিবেচনায় নিয়ে বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে মুক্তি দান করবেন।

কাওরান বাজারে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার রাশেদ প্রধান, বিএনপির সারোয়ার হোসেন, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুনির হোসেন কাশেমী, জাতীয় দলের রফিকুল ইসলাম, এনডিপির মো. তাহের চৌধুরী, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, তমিজউদ্দিন, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অলি আহমদ বলেন, জনগনকে বলব, ঘরে বসে থাকার সময় শেষ। এর অর্থ এই না- ভাংচুর করবো, লাঠি হাতে নেবো, ধবংসাত্মক কর্মকান্ডে যাবো। না, এটা আমরা পছন্দ করি না। দেশের ক্ষতি হোক-এই ধরনের কর্মকান্ডে আমরা লিপ্ত হতে চাই না। আপনারা ছোট-খাটো মিটিং করেন, ছোট ছোট মিছিল করেন, প্রত্যেকটা জায়গায় একত্রিত হোন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু পুণঃনির্বাচনের দাবিতে আপনারা সোচ্চার হউন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রতি সন্মানের কথা উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, বেগম জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। কারণ তিনি পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী ছিলেন। অনেকে বলতে পারেন তাকে এতো কেনো সন্মান দেয়া হয়েছিলো? আমি এখানে জনগণকে বলতে চাই, যে নিয়াজি (আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী) সাহেব এখানে ছিলেন। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম অধিনায়ক। প্রথম অধিনায়ক হলো পিতার মতো। সুতরাং ব্যাটেলিয়ানের অন্যান্য অফিসার হলো তার সন্তানের মতো, অফিসারদের স্ত্রীরা ছিল তার মেয়ের মতো। পাকিস্তান সৈন্যরা অনেক কিছু করেছে। কিন্তু তাদের যে একটা কালচার, তাদের যে একটা স্ট্যান্ডার্ড সেটা তারা বিসর্জন দেয় নাই।

বেগম জিয়াকে সেই সন্মান তারা (পাকিস্তান) দিয়েছিল। আজকে নিজের দেশের লোকদের কাছে সেই সন্মান তিনি পাচ্ছেন না। যাদেরকে আমরা গালি দেই, তারাও বেগম জিয়াকে সর্বোচ্চ সন্মান দিয়েছিলো। অথচ যারা জাতির পিতার সন্তান হিসেবে দাবি করেন তাদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোনো সন্মান নাই।

অলি আহমদ জানান, আগামী ৬ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে সার্বিক বিষয়ের ওপর কর্মশালা হবে।


আরো সংবাদ