২০ আগস্ট ২০১৯
চট্টগ্রামের মহাসমাবেশে মীর্জা ফখরুল

গণআন্দোলনে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে। এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এই কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

শনিবার বিকেলে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় নেতারা। সমাবেশকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক মিছিল যোগে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে যান। ফলে পুরো নগরী ছিল মিছিলে প্রকম্পিত।

সমাবেশে বক্তৃতা করেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, মহাসমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

মীর্জা ফখরুল বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তিনি জনগনের ভোটের অধিকার, বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে আনতে গণঐক্য গড়ে তুলতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণকে হত্যা করছে। দেশে এখন হত্যা ও ধর্ষণের উৎসব চলছে। প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, মেগা প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাট। ব্যাংকগুলোকে লুট করে শেষ করে দেয়া হয়েছে। এসব কিছুই হচ্ছে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কারণে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সরকার এসব অন্যায় করার সাহস পেত না।

মীর্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে দেশে যে অবস্থা চলছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এই সরকার পুলিশ, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। এমনকি মিডিয়াতেও হস্তক্ষেপ করছে।
মীর্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাজীদের তত্বাবধানে একজন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্য হয়ে হজে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাস্কর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার জনগনকে, নির্বাচনকে ভয় পায়। সেজন্য রাতের আধারে ভোট নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় কোথাও কোন জবাবদীহিতা নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় এসেও তারা একইভাবে জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি’র নেত্রী নয় মন্তব্য করে মীর্জা ফখরুল বলেন, তিনি দেশের সকল স্বাধীনতাকামী, গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী। তিনি এদেশের স্বাধীনতার ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি- উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন খালেদা জিয়া। ১/১১ সরকারের সাথে আপোষ না করায় তারা ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল এবং আবারও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগ ছলচাতুরীর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চালিয়েছে মন্তব্য করে মীর্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী তার বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিলেন। সেজন্যই তিনি আজ মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাগারে। শুধুমাত্র তাকে হয়রানি করার জন্য ৩৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৭ মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা দাবি করেছি। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারনে সরকার সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। নানা অজুহাতে জামিন না দিয়ে সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে, নইলে গণতন্ত্র মুক্ত হবেনা।

সভাপতির বক্তৃতায় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম খালেদা মুক্তির আন্দোলন চট্টগ্রাম থেকে শুরু হলো। আমরা নেত্রীকে মুক্ত করে আনবই।


আরো সংবাদ




bedava internet