২১ আগস্ট ২০১৯

‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি...’

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার নালিশ - ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে হোয়াইট হাউজে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে এক নারী বললেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি’। মিসেস সাহা পরিচয়ের ওই নারীর অভিযোগ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে ও দেশে থাকতে পারছে না। নিজেকে বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে ওই নারী অভিযোগ করেন, তার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, জমি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তিনি আইনি সুরক্ষা পাননি। নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেছেন ওই নারী। এ দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার উত্থাপিত অভিযোগ সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অভিযোগকে উদ্দেশ্যমূলক বলে অভিহিত করেন। 

সম্প্রতি চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউজে। গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করেন তারা। ট্রাম্প যখন একে একে সবার বক্তব্য শুনছিলেন তখন এক নারী নিজেকে বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ‘নাই’ হয়ে গেছে। দয়া করে বাংলাদেশী জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

ট্রাম্প তখন বলেন, ‘বাংলাদেশ?’ জবাবে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে ওই বাংলাদেশী নারী আরো বলেন, ‘এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’
হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে ওই নারীর পরিচয় লেখা হয়েছে মিসেস সাহা নামে। তার পুরো নাম প্রিয়া সাহা বলে জানা গেছে। তার অভিযোগ, মুসলিম উগ্রপন্থীরা এ কাজ করছে এবং সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। 

অভিযোগ সঠিক নয় : মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি এক বাংলাদেশী সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক বলে মনে করেন না ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মিলার এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ মন্দিরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার প্রথম ৮ মাসের দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি। মসজিদ, মন্দির ও চার্চে গিয়ে ইমাম পুরোহিতদের সাথে কথা বলেছি। এখন আমি এসেছি একটি বৌদ্ধ মন্দিরে, আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, এখানকার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের লোকজন একে অপরকে শ্রদ্ধা করে। তাই আমি মনে করি, তার অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। যদিও কোনো দেশই সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে সফলতা পায়নি।’ 
তিনি আরো বলেন, ‘এ অঞ্চলের প্রধান ইস্যুগুলো কী তা যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে।’

নালিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘এই অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ বাংলাদেশে এখনো এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই ঘটনা কেন ঘটল তা খতিয়ে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেন। 
প্রিয়া সাহার মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজা, মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম।

বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা বিনষ্টের মানসে হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে করা ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব আল্লামা এম এ মান্নান ও এম এ মতিন। তারা প্রিয়া সাহাকে দ্রুত দেশে এনে গ্রেফতার করে তার আসল রূপ উন্মোচিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


আরো সংবাদ




bedava internet