২২ আগস্ট ২০১৯

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি : ফারুক

বিএনপি
বক্তব্য রাখছেন জয়নুল আবদিন ফারুক - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, আমরা আশা করবো তীব্র আন্দোলনে সরকারের গদি নাড়িয়ে দেয়ার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে নাটকীয়তা’র প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, গতকাল বরিশালের মহাসমাবেশে দেশবাসী লক্ষাধিক লোকের সমাগম দেখেছে। আগামীকাল চট্টগ্রামে হবে, ২৫ তারিখ খুলনায় হবে। এখানেও লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটবে। আশা করবো সরকার তার আগেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করবে। সেটি না করলে সারা দেশে যে তীব্র আন্দোলন হবে সেই আন্দোলনে অবশ্যই তাদের গদি নাড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২০১৪ সালের অবৈধ নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশে যে দলটি ক্ষমতাসীন সেই দলটির অত্যাচার-নির্যাতনে, গুমে-খুনে জর্জরিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং দলটির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই নেত্রী আজ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় কারাগারে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা আজকে রাজপথে দাঁড়িয়েছি।

এ সময় বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, কার কাছে আমরা দাবি করবো। একটি কাল্পনিক ও অসত্য মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়ার এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। যদি সত্যিকার অর্থেই এই সরকার মানবিক হতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার হতো তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। আমরা বারবার এই সরকারের কাছে দাবি করে আসছি।

সাবেক বিরোধীদলীয় এ চিফ হুইপ বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদেরকে অত্যাচার করছে। হত্যা করছে, নির্যাতন করছে। ২৫ লক্ষের অধিক মামলা বহন করে আমাদের নেতাকর্মীরা জীবন যাপন করছে। আজকে আমাদের নেত্রী অসুস্থ তার চিকিৎসার জন্য কেন আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে বারবার দাবি জানাতে হবে। আপনি যদি একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি হয়ে থাকেন মুক্তিযুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার স্বামীর কথা যদি স্মরণ করতেন তাহলে আজকে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকতে হতো না। তাই আজকে আমরা দাবি করছি অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়া হোক। আর সেটি না হলে যে কোনো অঘটনের জন্য আপনাকে দায়ী থাকতে হবে।

ফারুক বলেন, এই সরকারের কাছে দাবি করে লাভ কি? যে সরকার বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। যে সরকার পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না, একটু বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রাম শহর তলিয়ে যায় সেই সেই খবরও রাখে না। তারা আজকে কি করে বেগম খালেদা জিয়ার খবর রাখবে। তারা কোনোভাবেই চায় না বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হোক, দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হোক, তাই আমি মনে করি ভোটবিহীন সরকারের এসব মনে রাখার কথা না। ভোটবিহীন সরকার চায় কৌশল করে ক্ষমতায় থাকতে আর সেটিই করছে তারা।

জয়নুল আবদিন ফারুক দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাস্তায় নেমে পড়ি। যতই অত্যাচার হোক যতই নির্যাতন হোক যতই মামলা হোক বিএনপির ঐক্য আরো জোরদার হচ্ছে বিএনপির ভীত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet