২০ আগস্ট ২০১৯

বন্যাদুর্গতরা চরম সংকটে নিপাতিত : বাম গণতান্ত্রিক জোট

চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষরা চরম সংকটে নিপাতিত হয়েছে।

জোট সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নুর সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে জোট নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরের সদস্য বহ্নি শিখা জামালী, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকম-লীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লীবী পার্টির লিয়াকত আলী। সভা পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের উজানে ভারতীয় অঞ্চলে অতি বর্ষণের ফলে সৃষ্টি বন্যায় দেশের ১৬টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অতি দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র খুলে বন্যাদুর্গতদের পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী যাতে লুটপাট না হয়ে যায় সে বিষয়ে নেতৃবৃন্দ সরকারকে সর্তক করেন। নেতৃবৃন্দ বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনরত পৌর কর্মচারী ও শিক্ষকদের দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং তাদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে বিভিন্ন জেলায় ভয়াল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষ আজ না খেয়ে আশ্রয়হীন অবস্থায় আছে। অবিলম্বে বন্যার্ত অসহায় মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহম্মেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ১৫-২০টি জেলায় বন্যা আজ ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। মানুষের ঘরবাড়ি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এসব মানুষ আজ খোলা আকাশের নীচে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে উপোস জীবন-যাপন করছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ত্রাণ সামগ্রীর অভাব নেই বললেও বাস্তবে বন্যার্ত মানুষ তা পাচ্ছে না। যেখানে যাচ্ছে তা অপ্রতুল। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দুকেজি করে চাল দেওয়ায় মানুষ সে ত্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে। বন্যার্ত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে এদিক সেদিক ছুটছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বন্যায় সকল ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ যাতে নিরাপদ আশ্রয় এবং খাবার ও ঔষধ পায় তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।


আরো সংবাদ




bedava internet