২১ আগস্ট ২০১৯

২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে নয় গণতন্ত্রকে বন্দি করা হয়েছিল : তথ্যমন্ত্রী

রাজনীতি
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণতন্ত্র বন্দি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। - ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নয় দেশের গণতন্ত্রকে বন্দি করা হয়েছিল। দেশে যখন ন্যায়ের নামে অন্যায় করা হচ্ছিল তখন মানুষের অধিকার আদায়ে এসবের প্রতিবাদ করেছিলেন শেখ হাসিনা। মানুষের অধিকার হরণের জন্য মূলত তখন তাকে আটক করা হয়। তাই ১৬ জুলাই শেখ হাসিনার বন্দি দিবস নয় গণতন্ত্রের বন্দি দিবস পালন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সে সময়ের সেনাসমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা যদি সত্যিকারে ন্যায় প্রতিষ্টা করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে প্রথমে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করার কথা ছিল। কিন্তু সেটি তারা করেননি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতাদে যখন গ্রেফতার করা হয়েছে তখন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ বুধবার দুপুরে গণতন্ত্র বন্দি দিবস পালন উপলক্ষে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুখের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাবেদ, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সিএনসি, ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, আবুল কাশেম প্রমুখ।

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে যাতে পূর্বের ন্যায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি না করেন সেই অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেখা গেছে বিএনপি একটি ছোট্ট সভা করলেও সেখানে নিজেদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। নিজেরাই নিজেদের সমাবেশ পন্ড করেছেন। আপনারা এখন বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অন্তত সেখানে চেয়ার ছোড়াছুড়ি না করে নিজেদের সমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবে করার যোগ্যতা অর্জন করবেন। আশা করি এবার নিজেরা নিজেদের সমাবেশ পন্ড করবেন না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২১ বছর বুকে পাথর বেঁধে যেসব কর্মীদের নেতৃত্বে দল ২১ বছর পর ক্ষমতায় গেছে সেই ধরনের চেতনায় উজ্জীবিত ও মূল্যবোধে জাগ্রত দলের জন্য অন্তঃপ্রাণ আওয়ামী লীগে সেই ধরনের কর্মী দরকার। আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দলের মধ্যে অনেক সুযোগ সন্ধানী ও অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। সুযোগসন্ধানীদের আমাদের দরকার নেই।

তিনি বলেন, সবার দল করার অধিকার থাকলেও পদ পাওয়ার অধিকার নেই। দলের পদ দিতে হবে বেছে বেছে। যারা সত্যিকারে আমাদের আদর্শে বিশ্বাস করে। দল এবং আমাদের আদর্শকে অনেকে সমর্থন করতে পারে তাই বলে তাদেরকে দলের পদ দিতে হবে তা কিন্তু নয়। যাদের কারণে দলে বদনাম হয় তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৭৪ ও ৭৫ সালের আগে কেউ ভাবেনি বঙ্গবন্ধুকে এভাবে নৃশংস ভাবে হত্যা করতে পারে কেউ। বর্তমানে দল পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে বিধায় আমাদের সব সময় এভাবে যাবে তা ভাবলে চলবে না। সেজন্য দলের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতির আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হচ্ছে ব্রত। আওয়ামী লীগ জনগণের উন্নয়নের জন্য ও দেশের জন্য ব্রত নিয়ে রাজনীতি করে। বিএনপি মনে করে রাজনীতি হচ্ছে হালুয়া-রুটির জন্য। জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন ক্ষমতার হালুয়া রুটি বিলিয়ে দল গঠন করেছিলেন। হালুয়া-রুটি খেয়ে তখন যারা বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন তারা এখন বিএনপির বড় বড় নেতা। বিএনপির সাথে আমাদের পার্থক্য সেখানেই।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার হাতে দেশ নিরাপদ। তার হাত থেকে যদি অন্য কারো হাতে যায় তাহলে দেশ আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে। দেশে আবার খুন-খারাবি বাড়বে, দেশ পথ হারাবে। তাই দেশের যে অগ্রগতি এই অগ্রগতিকে ধরে রাখতে হলে আজকের তরুণরা যে স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে আমরা স্লোগান দিয়েছি তারুণ্যেই শক্তি, তারুণ্যেই সমৃদ্ধি। এই শ্লোগানকে বাস্তবায়িত করতে হলে দেশ শেখ হাসিনার হাতে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া একদিনও আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে চাই না। অব্যাহত ভাবে জনগণের সমর্থন পেতে হলে সবাইকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। শেখ হাসিনা সব সময় জনগণের পাশে ছিলেন বিধায় জনগণ ও তার পাশে আছে।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃসময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যারা দলে সম্পৃক্ত হয়েছেন আপনারা দলের দুঃসময়ে ছিলেন না। আজকে দলের সুদিন রয়েছে, এই সুদিন নাও থাকতে পারে। দলের দুঃসময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নেতাকর্মীদেরকে ত্যাগী মনোভাব রাখতে হবে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet