২০ জুলাই ২০১৯

পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকনিকে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতার মারধর

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাহিদ হাসান সুজন - সংগৃহীত

পাওনা টাকা চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতার মারধরের শিকার হয়েছেন এক দোকান মালিক ও বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম নাহিদ হাসান সুজন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী।

এদিকে পাওনা টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সুজন। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পলাশী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের একাধিক ভিডিও ফুটেজ নয়া দিগন্তের কাছে রয়েছে। তাছাড়া পলাশী বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগ নেতার মারধরের শিকার ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী পলাশী বাজারের ‘সিটি কনফেকশনারি’ নামক দোকানের মালিক ও বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব। অভিযুক্ত নাহিদ হাসান সুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী। এর আগে বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির এক মামলার আসামি করা হয়েছে ছাত্রলীগের ওই নেতাকে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সুজনের মারধরের শিকার ব্যবসায়ী মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আমার দোকানে প্রায় চার মাস যাবত বাকিতে খায়। তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে সে দিতে অস্বীকার করে।

তিনি অভিযোগ করেন, আজকে (বুধবার) ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আবারো খাবার চাইতে আসে। আমি বাকিতে খাবার দিতে অস্বীকার করায় তিনি ও তার অনুসারীরা মিলে আমাকে মারধর করেন। এছাড়া নাহিদ প্রায়ই দোকানে ফাও খান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ প্রায় প্রতিদিন আমার দোকান থেকে ২০০/৩০০ টাকার খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যান। চার মাস ধরে তিনি এভাবে খেয়ে টাকা দিচ্ছেন না। তার কাছে সব মিলিয়ে আমি ৫ হাজারের বেশি টাকা পাই। দুদিন আগে তিনি এক ছেলে পাঠিয়ে খাবার বাকিতে দিতে বলেন। তখন আমি বাকিতে খাবার দেব না বলে জানাই। এর জেরেই তিনি জসিমউদ্দীন হলের এক ছাত্রকে নিয়ে এসে আমাকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ পাওনা টাকা ও ফাও খাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ব্যবসায়ী মাহবুবকে মারধরের কথা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, খাবার পরিবেশনের সময় খারাপ ব্যবহার করায় ওই দোকানীকে চড়-থাপ্পর দেই। পাওনা টাকা ও ফাও খাওয়ার বিষয়টি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ কারার চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে ক্যাবল চুরির ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতা নাহিদসহ ঢাবির হলের তিন ক্যান্টিন বালকের নামে মামলা করে। পরে আটককৃতদের কোর্টে চালান ও রিমান্ডেও নেয়া হয়। তবে এখনো অজানা কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন এই ছাত্রলীগ নেতা।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi