২৫ মে ২০১৯

বিরোধী মনোভাবকে সহ্য করতে হবে : আকবর আলি খান

জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘গুণীজন বক্তৃতামালা’র দ্বিতীয় পর্ব - ছবি : নয়া দিগন্ত

তত্ত্বাবধাক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদ ড. আকবর আলি খান বলেছেন, ধর্মীয় বহুত্ববাদ গণতন্ত্রের মুল ভিত্তি। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিরোধী মনোভাবকে অবশ্যই সহ্য করতে হবে। একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ শাসন করতে হবে।

জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘গুণীজন বক্তৃতামালা’র দ্বিতীয় পর্বের প্রথম বক্তৃতায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ধর্মীয় বহুত্ববাদ: প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলায়’ শীর্ষক বক্তৃতায় প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো ড. আবদুল মমিন চৌধুরী মূল বক্তৃতা দেন।

ড. আকবর আলি খান বলেন, বিরোধী মতবাদকে সহ্য করাই বহুত্ববাদ, অনেক কারণে আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতাবোধে বিশ্বাস করে এবং আমরা দেশে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ধর্মীয় নিরপেক্ষতাবাদের জন্য সবার আগে প্রয়োজন ধর্মীয় বহুত্ববাধ। এ বহুত্ববাদ আমাদের শিক্ষা দেয় সমাজে সকলকে সহনশীল হতে হবে। যারা আমাদের সাথে মতের সাথে যারা একমত নয়, তাদেরকে সহ্য করতে হবে। দেশে এখন রাজনৈতিক সামাজিক সঙ্কট বিরাজ করছে। সে প্রেক্ষাপটে এটি এখন অনেক প্রয়োজন। প্রয়োজন সহনশীলতা।

মূল বক্তৃতায় ড. আবদুল মমিন চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সহিষ্ণুতা, সহাবস্থান ও সমন্বয় বাংলার ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কৃতির মূখ্য উপাদান। আগত সকল ধর্মকেই বাংলা নিজের আর্য-পূর্ব মানসিকতা দিয়ে সিক্ত করেছিল। আর সেই মানসিকতায় প্রাধান্য লাভ করেছিল মানবতা, উদারতা ও সাম্যভাবনা। তিনি বলেন, উপমহাদেশে ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও সমন্বয়ের ইতিহাস অনেক পুরনো। আর্যদের আগমনের ফলে স্থানীয় এবং বহিরাগত সংস্কৃতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং তার ফলে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে আর্য এবং অনার্য উভয়ের ধর্মে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এখান থেকেই বাংলার ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কৃতিতে ‘সমন্বয়’ প্রক্রিয়া বিশেষ স্থান অধিকার করে নেয়। এই ‘সমন্বয়’ই কালক্রমে পরিণত হয় বাংলার ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কৃতির বিশেষ ঐতিহ্যে।

বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ায় ইতিহাসের রাজনৈতিক অপব্যবহার সম্পর্কে ড. আবদুল মমিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে শুধু বাংলাদেশ নয় বরং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াতেই একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অতীতকে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা চলছে বিভিন্ন ধ্যান-ধারনা প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে। রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য বর্তমানের ধ্যানধারণা অতীতের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমদ। উল্লেখ্য, গুণীজন বক্তৃতায় এর আগে বক্তৃতা করেছেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, বদরুদ্দীন উমর, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. রওনক জাহান, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক প্রমুখ।


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa