২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে এগোচ্ছে বিএনপি

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে এগোচ্ছে বিএনপি - সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দল গোছানোর মাধ্যমে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। বর্তমানে সংগঠন গোছাতেই বেশি ব্যস্ত দলটি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংগঠন গোছানোর কাজগুলো নিজেই তদারকি করছেন। প্রায় দিনই বিভিন্ন জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলে মতামত নিচ্ছেন। হালনাগাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলা কমিটি। বিশেষ করে খালেদা জিয়া জেলের বাইরে থাকাকালে যেসব জেলায় আংশিক কমিটি হয়েছিল সেসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হচ্ছে। একই সাথে যেসব জেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেসব জেলায়ও নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে। এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠনে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। দলের হাইকমান্ড আগামী তিন মাসের মধ্যে সব অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।

ইতোমধ্যে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে মৎস্যজীবী, কৃষক দল, অ্যাব ও ড্যাব, ওলামা দল, তাঁতী দলের আহ্বায়ক এবং মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এভাবে দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিগগিরই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি দিয়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নামার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অত্যন্ত সঠিকভাবেই অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন ও সক্রিয় করার কাজ শুরু করেছেন। বিএনপির সাংগঠনিক জেলাগুলোকে সক্রিয় করার কাজ শুরু করেছেন। আমার বিশ্বাস, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের এই সংগঠন আবার তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবেই। অনেক ঝড় গেছে, অনেক ঝঞ্ঝা গেছে, অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যেও বিএনপি কিন্তু উঠে দাঁড়িয়েছে সবসময়ে।

তিনি বলেন, বিএনপি সেই দল যে দলের রাজনীতি হচ্ছে এ দেশের জনগণের রাজনীতি। এ দেশের মানুষই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। বারবার বিএনপিকে ভেঙে ফেলা ও নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে, কিন্তু বিএনপি ঠিকই উঠে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করে বিএনপি আবার উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। আজকে দেশনেত্রীর মুক্তিই আমাদের কাছে প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেই মুক্তির জন্য আমাদের সংগঠিত হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে এগোতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্রভাবে আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে।

জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপিপন্থী পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৬১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন মাসের মধ্যে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচনের নিদের্শনা ছিল। কিন্তু এখনো কাউন্সিলের লক্ষণ নেই। এ ছাড়া ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল, ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, ২৭ মার্চ ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গত ৩ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ২৬৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৫ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট এবং ৬ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ১২৮ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) জেলের বাইরে থাকাবস্থায় যেসব জেলায় আংশিক কমিটি হয়েছিল সেগুলো পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে। একই সাথে যেসব জেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ, সেসব জেলায়ও নতুন আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া চলমান। এসব বিষয় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেয়া হলেও অদ্যাবধি তা হয়নি। একইভাবে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও ইয়াসিন আলীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষ হলেও এ কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি দায়িত্বশীল নেতারা। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন হয়নি।

দলের নির্বাহী কমিটির কী অবস্থা? জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক মাস পর জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা দেয় বিএনপি। নির্বাহী কমিটিতে ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির তিনটি পদ শূন্য। আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার ও তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন। তাদের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। কয়েকজন সদস্য গুরুতর অসুস্থ। দীর্ঘদিন ভারতে রয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। অন্যরা সভা-সমাবেশে অংশ নিলেও মিছিলের অগ্রভাগে থাকেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ৭৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৫ জন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব একজন ও যুগ্ম মহাসচিব সাতজন। বিভিন্ন বিষয়ে সম্পাদকীয় ১৬৩টি পদের মধ্যে পাঁচটি শূন্য। নতুন-পুরনো মিলে নির্বাহী কমিটির সদস্য ২৯৩ জন। ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকসহ কয়েকটি পদ শূন্য থাকলেও সে পদগুলো পূরণের কোনো লক্ষণ আপাতত বিএনপিতে নেই।


আরো সংবাদ

সকল