২১ মে ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বিষয়ে সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত : নুর

ডাকসু
নুর বললেন, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বিষয়ে সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত - ছবি : নয়া দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রীর চায়ের আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ বিষয়ে সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অনিয়ম কারচুপির পরেও নির্বাচনে বিজয়ীদের প্রধানমন্ত্রী চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এখন সেটা সকলকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি একা বললে তো হবে না, এখানে আরো অনেকে রয়েছে যারা স্বতন্ত্রভাবে মেয়েদের হলে নির্বাচিত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্যানেলগুলো রয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে এরপর সিদ্ধান্ত জানাতে হবে যে যাবে কিনা।’

নুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়েও তার দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের ছাত্রদের সমস্যা, ছাত্ররা পুনর্নির্বাচন চায়। তো পজেটিভভাবে আমি যাওয়ার পক্ষে। যেন আমরা আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারি। তবে আমি আমার আন্দোলনকারী ভাই বোনদের সাথে কথা বলে এবং যারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তাদের সাথে কথা বলে ফাইনাল ডিসিশন নেব। কারণ তারা যদি এগ্রি না করে তাহলে তো আমি যেতে পারবো না। আশা করি তারা হয়তো এগ্রি করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের নামে সন্ত্রাসীদের হাতে বার বার রক্তাক্ত হয়েছি। তখন আমার এ ভাই-বোনরাই আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং তারা না চাইলে দায়িত্ব গ্রহণ কিংবা দেখা করতে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

‘আমার ব্যক্তি ইমেজকে নষ্ট করার জন্য ও সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের বিভ্রান্ত করার জন্য নানা কিছু ছড়ানো হচ্ছে। আমি আগেও বলছি এখনো বলছি আমি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। তবে আমি এখন কোনোভাবেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ পরিষদের পক্ষ হতে আমি ডাকসুতে নির্বাচন করেছি। সুতরাং এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই’, বলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের এ নেতা।

ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি আগে ছাত্রলীগ করেছি। আমার মনে হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে কিছু কাজ আমার নৈতিকতায় সায় দেয় না। সেজন্য আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিততে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছি।’

আরো পড়ুন :
উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পুনরায় নির্বাচনের দাবি না মানলে সোমবার থেকে আন্দোলন; পাঁচ জোটের টানা তৃতীয় দিনের আমরণ অনশন প্রার্থীদের; জিএস রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ১৫ মার্চ ২০১৯
জালিয়াতির ডাকসু নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যাপক অনিয়মে গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। প্রায় ২৯ বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন থমকে যায় পক্ষপাতিত্বের কারণে। তাই দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নচুরির এ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব জোট ও সংগঠন।

একই দাবিতে নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে বর্তমানেও আন্দোলন করে আসছেন তারা। টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো অনশন পালন করছেন ডাকসুর বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা। কারচুপির নির্বাচন বাতিল এবং প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করে আসছেন রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত ৯টা থেকে একই দাবিতে অনশন করছেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী- যারা নির্বাচনে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ দিকে বুধবার গভীর রাতে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে নবনির্বাচিত জিএস এবং ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। তবে ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা। ছাত্রীদের আন্দোলনের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে স্ববিরোধী বক্তব্য দেন জিনাত হুদা।

বস্তাভর্তি সিলমারা ব্যালট পেপার ট্রাঙ্ক ভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধার এবং ছাত্রলীগের বাধার মুখে ধীরগতির ভোটগ্রহণসহ নানান অনিয়মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি জোট, সংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। নির্বাচনে সে সন্দেহ বাস্তবতায় রূপ নেয়। ভোট গণনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ছিল মারাত্মক অস্বচ্ছতা। গণমাধ্যমের ওপর ছিল কড়াকড়ি। অস্বচ্ছতা এবং প্রকাশ্য অনিয়মের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ এ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে অংশগ্রহণকারী সংগঠন জোট ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা। এ দাবিতে গত বুধবার তিন দিনের আলটিমেটাম দেয় পাঁচ জোটের প্রার্থীরা। এ সময় তারা বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন না দিলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দিতে বাধ্য হবেন বলে ঘোষণা দেন। একই দিনে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৩১ মার্চের মধ্যেই পুনরায় ডাকসু এবং হল সংসদের প্রতিটি পদে নির্বাচনের দাবি জানান নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর। একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকালও রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের অনশনে একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্রদল।

গতকাল নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা আমাদের দাবিতে অটল আছি। দাবি না মানলে আগামী রোববার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সোমবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবো আমরা।

এ দিকে কারচুপিতে অভিযুক্ত রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচন এবং হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে বুধবার রাত ৯টা হলের ফটকে অনশন করছেন পাঁচ ছাত্রী। তাদের চারজন বিভিন্ন প্যানেল থেকে হল সংসদে প্রার্থী ছিলেন। তাদের অন্য দুই দাবি হলো ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীসহ সাতজন ও অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেয়া হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জিএস রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ : ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনশনরত রোকেয়া হলের ছাত্রীদের মধ্যরাতে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

অনশনকারী শ্রবণা শফিক দীপ্তি বলেন, চারটি দাবিতে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে অনশন করছিলাম। গত বুধবার রাতে গোলাম রাব্বানী তার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এসে আমাদের ও সমর্থনকারীদের হেনস্তা করেন। ছবি দেখিয়ে একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমরা মদ গাঁজা খেয়ে আন্দোলন করছি। এ ছাড়া আমাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য প্রক্টরকে বলেন।

এ সময় রাব্বানীর আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনশনরত ছাত্রীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বমূলক ফলাফলে বিজয়ী ঘোষিত হলে, সে ব্যক্তি জিএস কিংবা অন্য কিছুই হোক না কেন, শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে যৌক্তিক এবং সম্মানজনক আচরণের আশা করতে পারে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত দেড়টায় মোটরসাইকেলে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে রোকেয়া হলের সামনে আসেন গোলাম রাব্বানী। এসেই তিনি ছাত্রীদের হলের ফটকের বাইরে অনশন করা ও তাদের সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর সাথে কথা বলেন। তিনি প্রক্টরকে জানান, হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘিœত করছেন। তিনি বলেন, ‘এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে, স্যার। তাদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খোদা হাফেজ করে দেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের কথোপকথনে রাব্বানী প্রক্টরের কাছে একই দাবি জানান।

এ বিষয়ে রাব্বানীর সাথে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, হলের গেট খোলা রেখে ছাত্রীদের অবস্থানের কথা শুনে হলে অবস্থান করা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আসি আমি। এসে দেখি, কয়েকজন মদ গাঁজা খেয়ে এখানে আন্দোলন করছে। এই ১০-১৫ জনের কারণে অন্যদের ক্ষতি হলে সে দায় নেবে কে? পরে রাব্বানী একজন ছাত্রীকে দেখিয়ে বলেন, ‘বোরকা পরে মুখ ঢাকা মেয়েরা এখানে কেন? এরা শিবিরের ছাত্রী সংস্থার। তারপরেও তারা ক্যাম্পাসে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। এর পরে রাত সোয়া দুইটায় হলের সামনে থেকে চলে গেলেও কয়েক মিনিট পর মোটরসাইকেলে এসে স্লোগান দিয়ে শোডাউন দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গতকাল ছাত্রীরা অনশনরত আছেন।

ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে কিছুই জানেন না প্রাধ্যক্ষ : এ দিকে আমরণ অনশনরত রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে হেনস্তার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা প্রশ্নের জবাবে জিনাত হুদা বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত না। কোনো আবাসিক শিক্ষকও আমাকে অবগত করেননি। তিনি বলেন, ছাত্রীরা হলের গেটের বাইরে গিয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে হেনস্তা হওয়ার ঘটনাটি আমাদের কনসার্ন না। আমাদের কনসার্ন তাদের গেটের বাইরে থেকে হলের ভেতরে নিয়ে আসা। আবার তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিন রাত ঘুমাতে পারিনি। সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের ঘটনাকে মিস কনসেপশন (ভুল বোঝাবুঝি) বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হলের প্রভোস্ট হিসেবে কোনো মামলা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করিনি। মামলার বিষয়টি জেনেছি গণমাধ্যমে। কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার এখতিয়ার কোনো প্রভোস্টের নেই।

ছাত্রীদের অনশনে সংহতি নতুন ভিপি নূরের : এ ঘটনার পর গতকাল দুপুরের দিকে ছাত্রীদের অনশনে সংহতি জানাতে আসেন ডাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূর। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান প্রমুখ ছিলেন।

এ সময় নূর বলেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীকে লাঞ্ছনা ও হেনস্তার অপসংস্কৃতি চালু করতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

এর আগে দুপুরে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন পালনকারীদের সাথে সংহতি জানান ভিপি নূর। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির কারণে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে জানিয়ে নূর বলেন, রোকেয়া হলে ঢাকসুর নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে। তাতে হল প্রাধ্যক্ষ পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।

একই সময় সংহতি জানাতে আসেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্যান্য প্যানেলের নেতারা। এরপর সংহতি জানাতে আসেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়ে ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান।

ছাত্রীদের অনশনে আরো সংহতি জানান- জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়ে ডাকসুর সহসভাপতি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ছাত্রীদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আছে। ছাত্রদল তাদের সঙ্গে থাকবে সব সময়।

নতুন করে নির্বাচন দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অনশন : ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাবির সাত শিক্ষার্থী। অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অনশনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা পুনরায় নির্বাচনের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগও দাবি করেছেন। জানা যায়, অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া অনিন্দ্য মণ্ডলের সহপাঠী তাহিদ জামিল জানান, অনিন্দ্যকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরে তাকে জগন্নাথ হলে নিয়ে আসা হয়। অনিন্দ্যকে এখন স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে অনশনকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত পোস্টার দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন- বিভিন্ন পদে নির্বাচন করা ডাকসু ও হল সংসদের প্রার্থীরা।


আরো সংবাদ

২০২০ সালে কে হবেন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী? মেয়ের মৃত্যুর বেদনা ভুলে খেলবেন আসিফ মার্কিন নৌবাহিনীতে সহকর্মীদের ধর্ষণের পরিকল্পনা! চেয়ারে বসার ‘অপরাধে’ দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ বালিশ ও আসবাব ক্রয়ের তদন্ত রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট সব ধর্মের মানুষকে সমান সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে : প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে মার্কিন সহায়তা কামনা শুরু হয়েছে ঈদ কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ঋণের সুদ ৯ ভাগ নামিয়ে আনতে ব্যর্থ ব্যাংক এডিপির আমানত পাবে না ঢাকা চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

সকল




agario agario - agario