১৯ জুলাই ২০১৯

বিদেশে নেয়ার অবস্থায় নেই ওবায়দুল কাদের  : সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদের (বাঁয়ে)। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কনক কান্তি বড়ুয়া (ডানে) - সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সকাল ও দুপুরের চেয়ে উন্নত হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির ধারা অব্যাহত আছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেয়ার অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুর থেকে আসা দুই চিকিৎসক।

রোববার (৩ মার্চ) রাত সাড় ৯টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া।

ব্রিফিংয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে বলেন, সকাল ও দুপুরের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। উনি চোখ খুলে তাকান, উনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে পানি খাবেন কি না, তিনি মাথা নেড়ে উত্তর দিয়েছেন। তিনি হাত-পা নাড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, দুপুরের দিকে ওবায়দুল কাদেরের প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন প্রস্রাবও করছেন। ঘণ্টায় একশ সিসি করে প্রস্রাব হচ্ছে তার। রক্তচাপও এখন স্ট্যাবল আছে। অর্থাৎ, তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে এবং উন্নতির ধারা অব্যাহত আছে।

শারীরিক অবস্থার উন্নতির এই ধারাবাহিকতার কারণেই ওবায়দুল কাদেরকে আপাতত সিঙ্গাপুরে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএসএমএমইউ উপাচার্য। তিনি বলেন, আমরা সিঙ্গাপুরের টিমের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপাতত উনি এখানেই থাকবেন। পরবর্তী সময়ে অবস্থার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার পরবর্তী তথ্য জানানো হবে বলে জানান কনক কান্তি বড়ুয়া।

এর আগে অবশ্য সিঙ্গাপুরের চিকিৎসক দলের সাথে বিএসএমএমইউয়ে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে দুই পক্ষই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। ওই সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানিয়েছিলেন, সময় চূড়ান্ত না হলেও কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন সংশ্লিষ্টরা।

ওবায়দুল কাদেরকে যে কারণে হাসপাতালে আনা হয়
ভোরে শ্বাসকষ্ট শুরু হবার পর তাকে দ্রুত শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়। সেখানে আনার পর তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তখন তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে আনার পর এনজিওগ্রাম করে চিকিৎসকরা তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক চিহ্নিত করেন। হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান আহসান সকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি পুরোপুরি শঙ্কা মুক্ত নন।

তিনি বলেন, ‘ওনার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। এনজিওগ্রামে দেখা গেছে তিনটা নালী ব্লক। একটা নালী খুলে দিছি।’

‘এখন মোটামুটি উনি স্টেবল (স্থিতিশীল) আছে। স্ট্যাবল থাকলেও বলা যাবেনা যে স্ট্যাবল। এটা যে কোন মুহূর্তে আনস্টেবল (অস্থিতিশীল) হয়ে যেতে পারে। এবং হয়ে যেতেও পারে।’

হাসপাতালের ‘আইসিইউতে হার্ট অ্যাটাক’ হয় কাদেরের
এদিকে রোববার দুপুরে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিতি ছিলেন।

অধ্যাপক বড়ুয়া বলেন, ‘ওনার একটু শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। এই শ্বাস কষ্ট নিয়ে আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উনি সকাল পৌনে আটটায় আসেন’।

‘আমরা আইসিইউতে নিয়ে যাই। আইসিইউতি চিকিৎসা দিতে দিতেই ওনার একটা হার্ট অ্যাটাক হয়। সে হার্ট অ্যাটাকের জন্য কোথায় কী হলো না হলো সেটা দেখার জন্য এনজিওগ্রাম করা হয়।’

‘এরপর একটা স্ট্যান্টিং করে দেয়া হয়। তার পরবর্তীতে উনি এখন স্ট্যাবল (স্থিতিশীল)।’

আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া জানিয়েছেন, কাদেরের হৃদরোগের কোন ইতিহাস নেই। কাদের ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi