২৪ জানুয়ারি ২০১৯

অপু রিমান্ডে

অপু রিমান্ডে - সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ঢাকার একটি আদালত। শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারী রিমান্ডের এ আদেশ দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে আজ হাজির করে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে তারেক রহমানের সাবেক এপিএস মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান রিমান্ড শুনানি করেন। আসামি পক্ষে মো. তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

রিমান্ডে নেয়ার জন্য আনা আবেদনে ৫টি কারণ উল্লেখ করা হয়। তা হলো-আসামি অপু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানাবিধ সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করার মূল হোতা ও নিয়ন্ত্রক বিধায় তার দলের সহযোগিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, গ্রেফতার করাসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন। অপু ও তার মামা মো. মাহমুদুল হাসানকে উদ্ধারকৃত নগদ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫০ টাকার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা। অপুর সঙ্গে মামলার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের কোন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা জানা। ব্যাংক হিসাব নম্বরে কার নির্দেশে কোথায়, কিভাবে টাকা লেনদেন করা হত সে বিষয়ে জানা। উদ্ধারকৃত টাকা দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কি ধরনের নাশকতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিক তথ্য সংগ্রহ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর মতিঝিল থানাধীন সিটি সেন্টারের ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইউনাইটেড করপোরশনে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনাকালে প্রতিষ্ঠানটির এমডি আসামি আলী হায়দারকে আটক করার পর প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জব্দ হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুসারে পল্টন থানাধীন হাউজ বিল্ডিং রোডের বায়তুল খায়ের টাওয়ারের সিটি মানিটারী এক্সচেঞ্জ থেকে আরও ৫ কোটি টাকা জব্দ হয়। বিপুল অর্থসহ আটককৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি মিয়া নূর উদ্দিন আহমেদ অপুর সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পায়। এছাড়াও এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন এবং আলমগীর হোসেনকে টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়।

গত ৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অপুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পরও তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে আজ তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তাকে মতিঝিল থেকে আট কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আনা মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতাার দেখানো হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-ভেদরগঞ্জ-গোসাইরহাট) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন অপু।


আরো সংবাদ