১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

জাফরউল্লাহ চৌধুরীর হাসপাতালের পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি

জাফরউল্লাহ চৌধুরীর হাসপাতালের পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি - ছবি : সংগৃহীত

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরীর ধানমন্ডির হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছুক্ষণ ঘিরে রাখে। বিকেল ৫টা থেকে ঘেরাও করে রাখার কারণে তিনি গতকাল জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের বাসায় বৈঠকে যেতে পারেননি। তাকে  ঘেরাওয়ের খবর ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতাদের কাছে পৌঁছলে তারা গতকালের যৌথসভা বাতিল করেন।

বিএনপি যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন নয়া দিগন্তকে জানান 
ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরীর মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ ধরনের পরিস্থিতিতে রেখে আমরা বৈঠক করতে পারি না। আর এ জন্য বৈঠকটি বাতিল করা হয়।

তবে তিনি রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ধানমন্ডির হাসপাতাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরে গেলে ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী তার বাসায় চলে যান।

বিএনপি যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার বৈঠক হয়নি

বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকটি গতকাল অনুষ্ঠিত হয়নি। বৈঠকটি প্রথমে বেইলী রোডের ড. কামাল হোসেনের বাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিকেলে সিদ্ধান্ত হয় বৈঠক রাত ৯টায় হবে। জানানো হয়, রাত ৯টায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতারা। উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব নয়া দিগন্ত প্রতিবেদককে গত রাত পৌনে ৮টায় জানান, বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে সাংগঠনিকভাবে কিভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে আরো বেগবান করা যায় তা নিয়ে আলোচিত হওয়ার কথা ছিল। এ বৈঠকে ঐক্যপ্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপস্থিত থাকতে পারছেন না বলে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে অন্য একটি সূত্র জানায়।

নতুন কর্মসূচি আসবে

জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই আন্দোলনের উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

গত শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, পাঁচটা দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে। এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যে কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন আনা সম্ভবপর হবে। পরিস্থিতি বলে দেবে কী ধরনের কর্মসূচি দিতে হবে? গণমাধ্যমের অনেক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেন কী ধরনের কর্মসূচি দেবেন কখন দেবেন? আমি বলতে চাই এগুলোর সময় নির্ধারণ করা সম্ভবপর নয়। আগামী এক মাসেই আপনারা অনেক পরিবর্তন দেখতে পারবেন। তারা একতরফাভাবে যতই প্রচারণা করুক না কেনো, তাতে কোনো লাভ নাই।

রাজধানীতে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কার্যালয় মিলনায়তনে চেতনায় বাংলাদেশ নামক সংগঠনের উদ্যোগে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি ও দোহার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রহিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই এই সরকারের অপসারণ ঘটানো হবে। কারণ সারা জাতি আজকে ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্য নষ্ট করার জন্য সরকার অনেক ষড়যন্ত্র করছে এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী হবে, আরো জোরদার হবে এবং সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবে। একটা স্বৈরাচার সরকারকে অপসারণ করতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই। সেজন্য এই ঐক্যভাবে সমস্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, নেতা, শ্রেণী সবাইকে সংযুক্ত করে আমাদের এই দাবি আদায় করতে হবে।

 


আরো সংবাদ