১৮ আগস্ট ২০১৯

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: মেডিকেল বোর্ড প্রধান

খালেদা জিয়া। - ফাইল ছবি

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান ফাইলপত্র পর্যালোচনা করে সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন আজ (মঙ্গলবার) বেলা ৯ টা ২০ মিনিটে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে পারেননি। তারা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ফাইল পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা করেন। আগামীকাল বিকাল ৪টায় আবার বেগম জিয়ার সাথে দেখা করবেন বলে জানান তিনি। এরপর প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিবেন।

 জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, গতরাতে বোর্ড তার স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করে আজ থেকে ফিজিওথেরাপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিচালক জানান, ওনি (বেগম জিয়া) বিগত বিশ বছর ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন।

বেগম জিয়ার রোগটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, এটা প্রকাশ করা চিকিৎসা শাস্ত্রের এথিকসের মধ্যে পড়ে না। আপনারা (সাংবাদিকরা) ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তার রোগের ব্যাপারে জানতে চান।

বেগম জিয়ার চিকিৎসা কারাগারে হবে না কি এখানে (হাসপাতালে) হবে এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা বলার সময় এখনো আসেনি। বঙ্গবন্ধু হাসপাতালেই উন্নত মানের চিকিৎসা সম্ভব বলে জানান তিনি।

মেডিকেল বোর্ডের পাঁচ সদস্যের মধ্যে মাত্র দুইজন ডা: জলিল ও রিউমাটোলজির অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আতিকুল হক বেগম জিয়াকে দেখতে তার কেবিনে গিয়েছিলেন।

গত শনিবার খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এনে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। তার আগে ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেদিন জানানো হয়, রোববার দুপুরে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে দেখে তার চিকিৎসার ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে যে পাঁচ চিকিৎসক আছেন এদের দুইজন আগের মেডিক্যাল বোর্ডে ছিলেন। এরা দুইজন হলেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী (মেডিসিন), ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চলতি দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক ডা: বদরুন্নেসা আহমেদ। অন্য যে তিনজন নতুন মেডিক্যাল বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন এরা হলেন রিউমাটোলজির অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা: নুকুল কুমার দত্ত।

আরো পড়ুন: খালেদার চিকিৎসা বিষয়ে যা বলল মেডিক্যাল বোর্ড

হামিম উল কবির, ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:০৫


বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান ফাইলপত্র পর্যালোচনা করেছেন মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা। এসময় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের সাথে ছিলেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন রহমান।

আজ (রোববার) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকে গিয়ে তারা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ফাইল পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুনও মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের সাথে ছিলেন।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান ফাইলপত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং পুরনো মেডিসিনই আপাতত চলবে বলে জানিয়েছেন। আগামীকাল আবারো চিকিৎসকরা বেগম জিয়াকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।

এ ব্যাপারে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. আব্দুল জলিল চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে পুরোপুরি আলাপ করব। কোনো পরীক্ষা লাগলে সেটি পরে জানানো হবে।

শনিবার খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এনে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। তার আগে ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেদিন জানানো হয়, রোববার দুপুরে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে দেখে তার চিকিৎসার ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে যে পাঁচ চিকিৎসক আছেন এদের দুইজন আগের মেডিক্যাল বোর্ডে ছিলেন। এরা দুইজন হলেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী (মেডিসিন), ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চলতি দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক ডা: বদরুন্নেসা আহমেদ। অন্য যে তিনজন নতুন মেডিক্যাল বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন এরা হলেন রিউমাটোলজির অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা: নুকুল কুমার দত্ত। 

 

আরো পড়ুন: হাসপাতালে যেভাবে চিকিৎসা চলছে খালেদা জিয়ার

হামিম উল কবির, ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:৪৭


কারাগার থেকে হাসপাতালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষের গাড়িতে করে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আনা হয় এবং কেবিন ব্লকের ৬১১ কেবিনে ভর্তি করা হয়। 

সাদা রঙের একটি মিৎসুবিশি প্রাইভেট কারে (ডিএমপি ৭১৬০) বিএনপি চেয়ারপারসনকে কেবিন ব্লকের নিচে নিয়ে আসা হয়। এর আগেই দুটি হুইল চেয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্টরা অপেক্ষা করছিলেন বেগম খালেদা জিয়াকে কেবিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তখন বাইরে মুসলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার জন্য হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে শতাধিক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন। যদিও মারমুখী পুলিশ কিছুক্ষণ পরপর তাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছিল। পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেককেই খালেদা জিয়ার কাছে ঘেঁষতে দেয়নি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, খায়রুল কবির খোকন, শিরিন সুলতানা প্রমুখ। তবে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস গেটে ঢুকলেও পুলিশ তাদের বাধা দেয়। 

কেবিনে উঠার পরপরই বোর্ডের চেয়ারম্যান বিএসএমএমইউ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে যান এবং চিকিৎসা শুরুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন বলে বিকেলে ব্রিফিংয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন জানান। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার জন্য পাঁচ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করলেও তাতে খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী কোনো চিকিৎসককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা দেখা করতে দেয়া হয়নি। বিএসএমএমইউর একটি সূত্র গতকাল সন্ধ্যায় জানান, খালেদা জিয়ার আত্মীয় কার্ডিওলজিস্ট ডা: মামুনকে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুন খবরটি সত্য নয় বলে জানান। 

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে যে পাঁচ চিকিৎসক আছেন এদের দুইজন আগের মেডিক্যাল বোর্ডে ছিলেন। এরা দুইজন হলেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী (মেডিসিন), ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চলতি দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক ডা: বদরুন্নেসা আহমেদ। অন্য যে তিনজন নতুন মেডিক্যাল বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন এরা হলেন রিউমাটোলজির অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা: নুকুল কুমার দত্ত। 

মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। বিএনপি বলছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়নি। আদালত এমন চিকিৎসককে দিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যারা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) অথবা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সদস্য হবেন না। মেডিক্যাল বোর্ডের তিন সদস্যের ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি, অধ্যাপক ডা: নুকুল কুমার দত্ত ও সহযোগী ডা: বদরুন্নেসা আহমেদ স্বাচিপের সদস্য। ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি সম্বন্ধে অধ্যাপক ডা: জাহিদ বলেন, এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুতর অসুস্থ থাকার পরেও ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি মির্জা ফখরুলকে সুস্থ বলে সার্টিফিকেট দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জিকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেন।

অধ্যাপক জাহিদ ডা: সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি সম্বন্ধে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিমে’ সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি সম্বন্ধে বিচারপতি এস কে সিনহা লিখেছেন, অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি বিচারপতি সিনহাকে অসুস্থ বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। ডা: জাহিদ মন্তব্য করেন, ‘এমন একজন চিকিৎসক (অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি) বিএনপি চেয়ারপারসনকে কী চিকিৎসা দেবেন তা সহজেই অনুমেয়।’

তবে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ীই মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে আপনি কেমন দেখেছেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী উনাকে দেখেছেন, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। আজ রোববার বেলা ১টার পর বোর্ডের সভা হবে। তখন বিস্তারিত জানানো যাবে। ‘বেগম খালেদা জিয়াকে খুবই অসুস্থ দেখা গেছে’ এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পরিচালক বলেন, ‘উনি কিন্তু আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, কুশল বিনিময় করেছেন। আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ও দেখা করেছেন এবং উনার সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে।’ বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে আসার পর অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

বেগম খালেদা জিয়াকে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনার আগে থেকে হাসপাতালে পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। হাসপাতালে কাজ নেই এমন কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনকি কিছুক্ষণের জন্য রোগীর সাথে থাকা লোকদেরও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

সি-ব্লকের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সামনে হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক-কর্মকর্তা এবং কর্মচারীকে আটকে দেয়া হয়। আবার কিছু চিকিৎসক কেবিন ব্লকের সামনে এসে দাঁড়ালে তাদের ঠেলতে ঠেলতে টিনশেডের ওয়াকিংওয়েতে গিয়ে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ডাক্তারকে পুলিশ ওয়াকিংওয়েতে নিয়ে যায় ঠেলতে ঠেলতে। ডা: জাহিদ হোসেনের সাথে সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ছানাউল্লাহ মিয়াসহ কয়েকজন ডাক্তার ছিলেন। 

খালেদা জিয়াকে সাদা প্রাইভেটকারে আনা হলেও তার ব্যবহৃত মাল-সামান পুলিশের গাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বিকেল ৪টার পর এসব কেবিনে উঠিয়ে দেয়া হয়। খালেদা জিয়া আসার আগেই অন্য একটি কারে তার জন্য বিছানা নিয়ে আসে পুলিশ। 

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। ইতঃপূর্বে খালেদা জিয় লন্ডনে চোখের অপারেশনও করেন। সার্ভাইকাল স্পন্ডোলাইসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে তার বাম হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোমরের সমস্যার কারণে তার শরীরের বামপাশ ও বাম পায়ের তীব্র ব্যথা ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামছে। তিনি ঠিকমতো হাঁটা-চলাও করতে পারছেন না। কারাগারে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন না, হুইল চেয়ারে চলতে হয় তাকে। চিকিৎসকদের পরিভাষায়, তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যাসাপেক্ষ রোগী (পেশেন্ট উইথ স্পেশাল কেয়ার)।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়। সেদিন থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন তিনি। গত ৯ এপ্রিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে আনা হয়। চার ঘণ্টা হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানানো হয়। কিন্তু বিএসএমএমইউতে চিকিৎসার কথা বলা হয় কারাগারের পক্ষ থেকে। কিন্তু বিএনপি তখন রাজি হয়নি এতে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বেগম খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন। 

বৃষ্টিতে ভিজে বিক্ষোভ :

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়া হবে, এমন খবরে পুলিশের কড়াকড়ির মধ্যেই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে দুপুরের আগেই শতশত নেতাকর্মী ঢুকে পড়েন। বিকেলে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি যখন হাসপাতালের কেবিন ব্লকের সামনে পৌঁছায়, তখন তুমুল বৃষ্টি পড়ছিল। এর মধ্যেই আগে থেকে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা সেøাগান তোলেন। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের থামানোর জন্য চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। মহিলা পুলিশের সাথে ছাত্রদল নেত্রীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। খালেদা জিয়াকে আনার সময় রাস্তার দুইপাশে নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। 

বিএনপি নেতাদের মধ্যে তখন উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শামীমুর রহমান শামীম, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, নাজিম উদ্দিন আলম, আবু নাসের মো: রহমাতুল্লাহ, আরিফা জেসমিন নাহীন, ছাত্রদলের রাজীব আহসান, মামুনুর রশীদ মামুন, আসাদুজ্জামান আসাদ, আবুল হাসান, মফিজুর রহমান আশিক, রাজিব আহসান পাপ্পু, আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, মুহাম্মদ এরশাদ খান, তানভীর আহমেদ খান ইকরাম এবং মহিলা দল, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা। 


আরো সংবাদ




bedava internet