২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

৫ দাবি ও ৯ লক্ষ্য চূড়ান্ত যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার

৫ দাবি ও ৯ লক্ষ্য চূড়ান্ত যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার - ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকারকে জনসমর্থনহীন ও অনির্বাচিত মনে করে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে দুইটি জোট। আজ শনিবার বিকেলে পাঁচ দফা দাবি ও নয়টি ল্য প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন জোটের নেতারা। জোটের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

গত বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে ড. কামাল হোসেন শহীদ মিনার থেকে আজ শনিবার সকালে কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল। পরে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণার সময়ের ব্যাপারে পরিবর্তন আসে। জোটের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ডা: জাহেদ উর রহমান জানান, ‘যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বি. চৌধুরীর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সকালের আয়োজন পিছিয়ে বিকেলে নেয়া হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় শহীদ মিনার থেকে জাতীয় নেতারা কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করবেন।’ তবে ভেনু হিসেবে শহীদ মিনারের অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি। অনুমতি না মিললে সে েেত্র জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে পাঁচ দফা দাবি ও নয়টি ল্য ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
জোটের সূত্রগুলো বলছে, ইতোমধ্যে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার দফাগুলো সমন্বয় করে পাঁচ দফা দাবি চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সাথে জোটের ল্য নির্ধারণ করা হয়েছে নয়টি। মোট ১৪ দফা প্রস্তাব করবেন জোটের নেতারা। আজ বিকেলে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে প্রস্তাবগুলো।

জোট সূত্র জানায়, পাঁচ দফা দাবির মধ্যে সবই সরকারের উদ্দেশে করা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ নির্দলীয়-নিরপে সরকারের অধীনে নির্বাচন করা, তফসিলের আগেই সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনী রোডম্যাপ নির্ধারণ, নির্বাচনের এক মাস আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, বর্তমান সরকার বাতিল করা, নির্বাচনের এক মাস আগে ও ১০ দিন পর পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি মতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা, ইভিএম বাতিল, নিরপে ও নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা। নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ না নেয়া। সংবিধানের সাত অনুচ্ছেদে বর্ণিত সংবিধানের প্রাধান্যকে সমুন্নত করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। স্বাধীন ও মতাসম্পন্ন নির্বাচন কমিশন গঠন করা। গণমুখী প্রশাসন তৈরি করা, রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা ইত্যাদি বিষয় থাকবে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান থাকতে পারে।

সূত্রের দাবি, নয়টি লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মতার বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ দাবি যুক্তফ্রন্টের ৯ দফার অন্যতম ছিল। সেখানে বলা আছেÑসরকার, সংসদ, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, দুর্নীতির বিচার করা এবং মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে শরণার্থীদের বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি থাকতে পারে।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরো পড়ুন :

কারাগারে আদালত সংবিধানসম্মত নয় : ড. কামাল
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশিষ্ট আইনজীবী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কারাগারে আদালত বসানো সংবিধান সম্মত না। তিনি বলেন, আমার ধারণা বিএনপি এটা নিয়ে কোর্টে যাবে। কোর্টই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আমি কোর্টে গেলে তো এটাই বলতামÑ যে এটা সংবিধান সম্মত নয়। 

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার গণফোরামের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ধরপাকড় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিনি আরো বলেন, কর্নেল তাহেরের বিচারের সাথে খালেদা জিয়ার বিচার মেলানো হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। পাশাপাশি তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া উচিত এবং চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় আমরা সভ্যসমাজে বাস করি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, যেভাবে ধরপাকড় হচ্ছে এটা নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। কাউকে গ্রেফতার করতে হলে ওয়ারেন্টসহ ইউনিফর্ম পরে আসতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে। যেন সে জামিন চাইতে পারে। তিনি বলেন, বিশেষ কারণে দুই একবার সাদা পোশাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। তবে এটা এখন নিয়মিত করা হচ্ছে। কারো অপরাধ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাও সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে কিভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এখন যা হচ্ছে সরকার তা করতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা বেআইনি শাসনে চলে যাচ্ছি। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সাবধান হতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে। দ্রুত ধরপাকড় বন্ধ করা হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রয়োগ হবে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে। কিন্তু এখন যেভাবে সাদা পোশাকে ধরা হচ্ছে সেটা সংবিধান সম্মত নয়, আইনের লঙ্ঘন। সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে না। সংবিধানে বলা আছে, কাউকে আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। সংবিধানের এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা এসব বিষয়ে আদালতে যাবো। উচ্চ আদালতের কাছে আমরা আদেশ চাইব।

সোহরাওয়ার্দীতে নয় মহানগর নাট্যমঞ্চে : এ দিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছিল। জানা গেছে এক মাস আগে অনুমতি চেয়ে পাওয়া যায়নি। ফলে ঐক্য প্রক্রিয়ার সে সমাবেশটি হবে এখন গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে, এখানে অনুমতিও মিলেছে। তবে কেন সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি জানতে চাওয়া হলে ড. কামাল হোসেন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এটা সরকারকে জিজ্ঞেস করুন। আমরা অনুমতি পাইনি। তা ছাড়া আমি অনুমতিÑ এমন শব্দ বুঝি না। সরকার যখন তখন সেখানে সমাবেশ করবে আর আমরা বা বিরোধী দল চাইলে তাদের করতে দেয়া হবে না এটা কি করে সম্ভব? এটা জমিদারি না। এটা সংবিধানের ১৬ আনা পরিপন্থী। তা ছাড়া সংবিধানে এসব বৈষম্য তো নেই। তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের বৈষম্য করে সংবিধানকে বারবার অশ্রদ্ধা করছে। 
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। আমি আগে বলেছিলাম নির্বাচনটা আদৌ হবে কি না। আসলে নির্বাচনটা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন ভয়ভীতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতকে নিয়ে ঐক্য আমি করব না। অন্য কেউ করলে সেটা জানি না। তবে জামায়াত তো এখন দলই নেই। তারা নির্বাচন করতে পারবে না। আমরা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টা ইতিবাচকভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। ঐক্য হলে আপনারা জানতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিক উল্লাহ, নৃপেণ ঘোষ, অ্যাডভোকেট মো: সগীর আনোয়ার, সাইদুর রহমান, মোশতাক আহমেদ।


আরো সংবাদ