২১ নভেম্বর ২০১৮

ফখরুলের নিউ ইয়র্ক সফরে সরকার আতঙ্কিত : মওদুদ

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ - সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ায় সরকার আতঙ্কিত, ঈর্ষান্বিত ও বিব্রত।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘গণগ্রেপ্তার ও বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি’তে এক আলোচনা সভায় মওদুদ এ দাবি করেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘মির্জা ফখরুল জাতিসংঘে গেছেন দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে। আর এটাতেই ক্ষমতাসীন সরকার আতঙ্কিত, ঈর্ষান্বিত ও বিব্রত। আমাদের মহাসচিব ইচ্ছে করে সেখানে যাননি, তাঁকে জাতিসংঘের মহাসচিব আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

নালিশ করতে বিএনপির মহাসচিব নিউইয়র্কে গেছেন বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালেচনা করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব নালিশ করতে জাতিসংঘে যাননি, তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে সেখানে গেছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে, কোনো কারণ ছাড়াই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের যে হামলা, মামলা ও গুম করা হচ্ছে এসব সত্যিকার অবস্থাই তিনি সেখানে তুলে ধরছেন।’

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের উদ্দেশ্য অত্যন্ত খারাপ। তারা কোনো অবস্থাতেই সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না। আওয়ামী লীগ এখনো মনে করছে, আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একদলীয়ভাবে ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এটা তাদের দুঃস্বপ্ন, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি এ দেশে আর হবে না।’

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, ‘যতই কথা বলুক না কেন, সরকারকে সংলাপ করতে বাধ্য করা হবে। আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা অনেকটাই এগিয়েছি। সরকার সংলাপ না করলে রাজপথে তাদের জবাব দেওয়া হবে। কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হবে, তখন সরকার বাধ্য হবে সংলাপের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’

‘জাতীয় ঐক্য হবে’ জানিয়ে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। জাতীয় ঐক্য হবেই। ক্ষমতাসীনরা ছাড়া সব রাজনৈতিক দল আজকে একটা পয়েন্টে ঐকমত্য যে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাইদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, জাতীয় পার্টি (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরো পড়ুন : জাতিসঙ্ঘে ফখরুল-জেনকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
মঈন উদ্দিন খান, ঢাকা ও ইমরান আনসারী, নিউ ইয়র্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:২০

নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে জাতিসঙ্ঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় এ বৈঠক শুরু হয়। এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জাতিসঙ্ঘের উচ্চপদস্থ আরো চার কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছি। একই সাথে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিরোধী দলের ওপর সরকারের দমন-নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছি। জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তারা আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তারা আমাদের তথ্য-উপাত্ত ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।


জানা গেছে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বৈঠকে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। বিএনপিসহ বিরোধী দল-মতের ওপর ‘সরকারের দমন-পীড়নের’ চিত্র তুলে ধরা হয়। বিগত তিন সিটি নির্বাচন, গুম, খুনসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের চিত্রসহ সমসাময়িক পরিস্থিতির একটি সচিত্র প্রতিবেদনও জাতিসঙ্ঘের রাজনীতিবিষয়ক উচ্চপদস্থ ওই কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছেন মির্জা ফখরুল। 

এ বৈঠকে অংশ নিতে স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান মির্জা ফখরুল। বিমানবন্দরে দলের নেতাকর্মীরা না থাকলেও বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় তাদের স্বাগত জানান। এরপর সেখান থেকে তিনি ম্যানহাটন হোটেলে ওঠেন। বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, ‘এখানে তিনি দুই দিন অবস্থান করবেন। তিনি নিজস্ব কাজে এসেছেন।’

জানা গেছে, জাতিসঙ্ঘে এ বৈঠকে অংশ নিতে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবিরও লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্কে গেছেন। বৈঠকে তারা সবাই উপস্থিত ছিলেন। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণেই মূলত মির্জা ফখরুল নিউ ইয়র্কে গেছেন। 

গত জুলাই মাসের শুরুতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তখন তার আগমনের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখা। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও যৌথ মিটিং করেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব। বিএনপি ওই সময় জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের সাথে একটি বৈঠকের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরই প্রোপটে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বিএনপিকে নিউ ইয়র্কে আমন্ত্রণ জানান। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নিরপে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়ও একই দাবিতে অনড় ছিল এই জোট। ওই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের পাঠানো বিশেষ দূত তারানকো। যদিও তারানকোর সে সমঝোতার ফর্মুলা পরে মানা হয়নি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।


আরো সংবাদ