২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খালেদা জিয়াকে নিয়েই বিএনপি নির্বাচনে যাবে : ড. মোশাররফ

খালেদা জিয়াকে নিয়েই বিএনপি নির্বাচনে যাবে : ড. মোশাররফ - ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিন। চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হলে তার বিচার করা হোক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
রোববার দুপুরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেত্রীদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ড. মোশাররফ এ কথা বলেন।
ড. মোশাররফ বলেন, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে, সংসদ ভেঙে দিয়ে এবং সেনাবাহিনীর মোতায়েন করতে হবে। খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, সারাদেশে নতুন করে গণগ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। দলের কোনো আন্দোলন-কর্মসূচি নেই এবং রাজপথে কোনো কর্মী নেই। কিন্তু এখন কেন গণগ্রেপ্তার চলছে? উদ্দেশ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, দলের নেতাদের আদালতের কাঠগড়ায় রেখে, বিএনপি ও ২০ দলকে বাইরে রেখে সরকার নির্বাচন করতে চায়।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্বাচনে যাবে। সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুক, এবার সরকার পার পাবে না।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ‘সংঘাতের রাজনীতি গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, দেশের বিচার, প্রশাসন, রাজনীতি সব কিছুকে কলুষিত করে আওয়ামী লীগ সংঘাতের রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। সংঘাতময় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ। দেশের বিচার, প্রশাসন, রাজনীতি সব কিছুকে কলুষিত করেছে তারা।
আয়োজক সংগঠনের চীফ কো অর্ডিনেটর আলহাজ মো. সালমান ওমর রুবেলের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির নেতা সুকোমল বড়ুয়া, শিরিন সুলতানা, কণ্ঠশিল্পী মনির খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। সংঘাতের রাজনীতি কাকে বলে মানুষ তা হাড়ে হাড়ে টের পায় তখন আর বিএনপি সংঘাতের রাজনীতি থেকে দূরে আছে। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ যদি জোর করে আবারো ক্ষমতা দখল করে তাহলে দেশে যে পরিমাণ লুটপাট হবে তা অবিশ্বাস্য। তখন ট্রেন, বিমান, বাস কিছু চলবে না, মানুষকে নৌকায় চড়তে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে আওয়ামী লীগেরই।
মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগের বাঁচার একমাত্র পথ হল- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তন্তরর না করা পর্যন্ত দেশে আওয়ামী লীগও নিরাপদ নয়।

 


আরো সংবাদ