১৮ নভেম্বর ২০১৮

আইনজীবীদের মানববন্ধন : খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবী

-

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, অবিলম্বে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি ও বিচারিক আদালত জেলে স্থানান্তরের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের ব্যানারে অর্ধশতাধিক আইনজীবী মানববন্ধনে অংশনেন।
মানববন্ধনে প্রধান অথিতির বক্তব্যে প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীরা রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলন এখন আর আদালত অঙ্গনে নয়, রাজপথে আন্দোলন করতে হবে। তিনি বলেন, একজন অসুস্থ আসামীকে জোর করে কারাগারে স্থাপন করা আদালতে বিচারকরার কোনো নজির নেই। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করা হলে, তার জিবন বিপন্ন হলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজ দেশে আইনের শাসন নেই। বিচার বিভাগ ও প্রশাসন সরকারের ইচ্ছায় চলছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসা করতে হবে। তা না হলে আইনজীবীরা দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, মো: মনির হোসোনে, আবেদ রাজা, সাবেক যুগ্ম জেলা জজ মো: শামসুল আলম, মাওলানা আবদুর রকিব, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রফী, আনজুমান আরা বেগম মুন্নি মাসুদুল আলম দোহা, ওয়াসিল উদ্দিন বাবু, নাজমুল হোসেন, আবদুস সাত্তার, মো: মহীদ উদ্দিন, শফিউর রহমান শফি প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা।
তমুর আলম খন্দকার বলেন, আজ যখন খালেদা জিয়া কারাগারে চিকিৎসার অভাবে হাত পা অবাশ হয়ে যাচ্ছে তখন মনে হচ্ছে যারা সরকারে আছে তাদের মাথা অবাশ হয়েগেছে। সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীর গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রশাসন ও বিচার বিভাগ থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তা হলে বর্তমান সরকারের সঙ্গে স্বৈর শাসকের পার্থক্য কি? তিনি বলেন, আইনজীবীরা আজ রাস্তায় নেমেছে। প্রয়োজনে প্রধামন্ত্রীর দপতরের সামনে যাবে। তিনি আরো বলেন, দেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনীরও বিবেক আছে। ৭৩ বছর বয়সের সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান বলেন, সারা বিশ্ব জানে, দেশবাসী জানে একটা মিথ্যা মামলায় প্রহসনের বিচার করে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন দেয়ার পরও তারা কারাগারে রেখে ৫ জানুয়ারি মতো আরেকটি নির্বাচন করার পায় তারা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন দিন, ফেয়ার নির্বাচন দিন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।
মনির হোসোনে বলেন, আমি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। গত ৩১ বছরের আইনজীবী হিসেবে প্যাক্টিসে কখনো দেখিনি ফৌজদারী মামলায় করাগারে বিচার করা হয়। এটা প্রথম দেখছি। আজ দেশের মানুষ বিচার পাচ্ছে না। ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনিই দেশে ভহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন। আজ আমরা আইনজীবীরা গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য এখানে এসেছি।


আরো সংবাদ