২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি বিএনপি নেতাদের

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি বিএনপি নেতাদের - সংগৃহীত

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

রোববার সচিবালয়ে বিএনপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাথে বৈঠক করেন। দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে শুরু হয়ে এ বৈঠক ৩টা ৫৫ মিনিটে শেষ হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, মঈন খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এর আগে খালেদা জিয়া ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাই ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানেন তার সমস্যাগুলোর কথা। তাই, খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছি সেখানেই চিকিৎসা দিতে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কারাগারে বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তার অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছি। এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলাম আমরা।’

এর আগে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার তার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। সোমবার রিটের ওপর শুনানি হবে।

রিটকারী আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার পছন্দমতো কোনো হাসপাতালে সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে রোববার দুপুরে রিট করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি শেখ আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়। শুনানিকালে আদালতের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জজ সাহেবের কাছে কোনো কথা বা নিবেদন করা যায় না। উনি তারিখ দিয়ে উঠে চলে যান। আমাদের কারো কথা শোনেন না। সরকারের হুকুমে এবং নির্দেশে তিনি সবকিছু পরিচালনা করছেন। আমার পায়ে ব্যথা। ডাক্তার আমাকে পা সব সময় উঁচু করে রাখতে বলেছেন। হাতেও প্রচণ্ড ব্যথা। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। আমি খুবই অসুস্থ। আমি ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারব না। রায় তো লেখাই আছে। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের যা ইচ্ছা রায় দেন, যত খুশি সাজা দিয়ে দেন।’

পরে ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘আগে চিকিৎসা, তারপর বিচার। খালেদা জিয়ার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আজ সাক্ষাতে ম্যাডামকে যেভাবে দেখেছি, তাতে তিনি কীভাবে আগের দিন আদালতে এসেছেন, সেটা ভাবছি। তিনি বাঁ হাত নাড়াতে পারেন না। বাঁ পাশ পুরো অবশ হয়ে গেছে। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা হয়। চোখের ভবিষ্যৎ কী, সেটা বলা যাচ্ছে না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। সেই থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন : বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে খালেদা জিয়ার রিট
নয়া দিগন্ত অনলাইন 

বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ রোববার তার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। আগামীকাল সোমবার রিটের ওপর শুনানি হবে।


রিটকারী আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার পছন্দমতো কোনো হাসপাতালে সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে আজ দুপুরে রিট করা হয়েছে। আগামীকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি শেখ আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কায়সাল কামাল বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল দাবি করেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। এ জন্য আদালত কারাগারে বসানো হয়েছে। এতে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত হয় যে খালেদা জিয়া অসুস্থ। খালেদা জিয়া নিজেও ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে বলেছেন, তাঁর হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। এ কারণে ওনার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমাকে রিট করার দায়িত্ব দিয়েছেন।’

গত ৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর হওয়া অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়। এ জন্য সেদিন দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে খালেদা জিয়াকে একটি হুইল চেয়ারে করে আদালতে নেয়া হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।


আরো সংবাদ