২০ জুলাই ২০১৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল

সচিবালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল - সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিএনপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আজ রোববার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঙ্গে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, মঈন খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে এর আগে গত ২৭ মার্চ ও ২৩ এপ্রিল দুই দফা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন বিএনপি নেতারা।
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একটি বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবার কথা।
বিএনপি এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ওরপর ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিচ্ছে জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনে রোববার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে আমাদের দলের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানাবেন যে, অবিলম্বে বেগম জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে তার চিকিৎসা করা হোক।”
এর আগে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ তাঁর আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। আগামীকাল সোমবার রিটের ওপর শুনানি হবে।
৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘আগে চিকিৎসা, তারপর বিচার। খালেদা জিয়ার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আজ সাক্ষাতে ম্যাডামকে যেভাবে দেখেছি, তাতে তিনি কীভাবে আগের দিন আদালতে এসেছেন, সেটা ভাবছি। তিনি বাঁ হাত নাড়াতে পারেন না। বাঁ পাশ পুরো অবশ হয়ে গেছে। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা হয়। চোখের ভবিষ্যৎ কী, সেটা বলা যাচ্ছে না।’
গত ৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়। শুনানিকালে বিশেষ জজ আদালতের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জজ সাহেবের কাছে কোনো কথা বা নিবেদন করা যায় না। উনি তারিখ দিয়ে উঠে চলে যান। আমাদের কারো কথা শোনেন না। সরকারের হুকুমে এবং নির্দেশে তিনি সবকিছু পরিচালনা করছেন। আমার পায়ে ব্যথা। ডাক্তার আমাকে পা সব সময় উঁচু করে রাখতে বলেছেন। হাতেও প্রচণ্ড ব্যথা। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। আমি খুবই অসুস্থ। আমি ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারব না। রায় তো লেখাই আছে। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের যা ইচ্ছা রায় দেন, যত খুশি সাজা দিয়ে দেন।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। সেই থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছে।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi