২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিরক্ষতার বেড়াজাল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে : শিবির সভাপতি

-

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, নিরক্ষরতা একটি জাতির জন্য অভিশাপ। এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায়। তাই নিরক্ষরতার বেড়াজাল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যার যার অবস্থান থেকে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আজ ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে সাক্ষরতা কর্মসূচির উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম সজিবের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী অর্থ সম্পাদক জাকিরুল ইসলামসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন নাগরিক নিয়ে পৃথিবীর বহু দেশ প্রতিদিনই এগিয়ে যাচ্ছে। সফলতার নিত্য নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। কিন্তু শত সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এর অন্যতম কারণ হচেছ জনসংখ্যার বিশাল একটা অংশ এখনো নিরক্ষর। নিরক্ষতার দূর করতে সরকার মুখে মুখে সফলতার বুলি আওড়ালেও বাস্তবে অবস্থা শোচনীয়। নিকট ভবিষ্যতে দ্রুত নিরক্ষরতা দূর করার সম্ভাবনাও কম। তাই সরকারের আশায় বসে থেকে লাভ নেই। দেশ আমাদের, জনগণ আমাদের সুতরাং দায়িত্বও সবার। যার যার অবস্থান থেকে যদি আমরা নিরক্ষরতা দূর করতে আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করি তাহলে অল্প সময়ের ব্যবধানে নিরক্ষরতার বেড়াজাল থেকে জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ যদি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে তাহলে লক্ষ্যপূরণ আরো সহজ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে দেশকে নিরক্ষরতা থেকে মুক্ত করতে সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে শিক্ষা অর্জন প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং নিরক্ষরতার বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। আমরা দেশের ছাত্রসমাজসহ প্রতিটি শিক্ষিত মানুষকে নিরক্ষরদের অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করতে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
পরে নেতৃবৃন্দ পথশিশু ও নিরক্ষরদের মাঝে বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সাক্ষরতা অভিযান কর্মসূচি ঘোষনা করেছে ছাত্রশিবির। এসব কর্মসূচির আলোকে প্রতিটি জনশক্তি একজন নিরক্ষরকে অক্ষরজ্ঞান দান নিশ্চিত করা, উপশাখা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা, পথশিশু ও শ্রমজীবীদের অগ্রাধিকার দেয়া, পথশিশু, শ্রমিক ও অশিক্ষিতদের মাঝে খাতা-কলম, পেন্সিল, চক-ডাষ্টার, বোর্ড, বর্ণমালার বই বিতরণ করা ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শহীদ মো. আমিনুল ইসলামের মায়ের ইন্তেকালে শোক
ছাত্রশিবিরের ২২তম শহীদ মো. আমিনুল ইসলামের শ্রদ্ধেয় মাতার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ শোকবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২২তম শহীদ মো. আমিনুল ইসলামের শ্রদ্ধেয় মাতা আজ দুপুর ১টায় কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার ইন্তেকালে ছাত্রশিবির একজন শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবককে হারালো। তিনি একজন রত্নগর্ভা মা। তার প্রিয় সন্তান শহীদ মো. আমিনুল ইসলামকে হারিয়েও তিনি ছিলেন দ্বীনের পথে অবিচল। আমাদের জন্য তিনি ছিলেন প্রেরণা। ছাত্র শিবিরের প্রতি তার ভালবাসা, উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা ছাত্র শিবির নেতাকর্মীরা কোন দিন ভুলবে না। তাকে হারিয়ে ছাত্রশিবিরের সকল জনশক্তি আজ শোকাহত।
আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য যে ১৯৮৮ সালের ২৮শে এপ্রিল চট্টগ্রাম বটতলী রেলস্টেশনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন থেকে নামিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মো. আমিনুল ইসলামকে। বিজ্ঞপ্তি

 

 

 

 


আরো সংবাদ