২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশের নিরক্ষরতা দূর করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগকে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল - সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিরক্ষরতা দূর করতে ছাত্রলীগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ তাদের টার্গেটেড সময়ের মধ্যেই ঘোষণা করবে বাংলাদেশে কোনো নিরক্ষরতা নেই।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। 

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ছাত্রলীগ হাল ধরলে বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে লম্বা সময় লাগবে না। আমাদের পার্শ্ববর্তী তামিলনাড়ুতে ১০০ ভাগ শিক্ষিত। আমাদের দেশে এত সম্পদ রয়েছে। আমি মনে করি আমাদের সেই জায়গাতে যেতে আর লম্বা সময় লাগবে না যদি ছাত্রলীগ হাল ধরে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে যখন আমরা ক্ষমতা ছাড়ি তখন সাক্ষরতার হার ছিল ৬০ শতাংশ। ২০০৯ সালে যখন আবার ক্ষমতা গ্রহণ করি তখন এই হার ছিল ৪০-৪১ শতাংশ। এই ধরনের ইতিহাস কোনো রাষ্ট্রে হয়েছে কি না আমার জানা নেই।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চার হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ রেখে গেলাম। এসে পেলাম তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট। আমরা চালে ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রেখে গেলাম। সেখানে আমরা দেখলাম লক্ষ লক্ষ টন খাদ্য ঘাটতি। সেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কোথায় নিয়ে গেছেন। ২০০৮ সালে তিনি বলেছিলেন, বদলে দিবেন বাংলাদেশকে। তিনি যথার্থভাবেই তাঁর ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আপনারা ঘুরুন সারা বাংলাদেশে। নিজের চোখে দেখুন আমরা কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছি। পায়রা বন্দরের দিকে চলে যান, কক্সবাজারের দিক দিয়ে চলে যান, আমাদের নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে সেখানে চলে যান। কীভাবে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা মিলিয়ে গেছি সেটা লক্ষ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যেখানেই যাই, আজকে আমাদের বলে না বাংলাদেশ থেকে আসছ, ভিন্ন লাইনে দাঁড়াও। আমাদের আজকে সমীহ করে। আমি যেখানেই যাই সেখানে বলে তোমাদের সফলতার কারণটা কী। আমি বলি, প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ভালোবাসেন, জনগণ তার ওপর আস্থা রেখেছে, যেমনভাবে তাঁর পিতার প্রতি আস্থা ছিল সারা বাংলাদেশের মানুষের। ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে বেঁচে থাকতে দেয়নি।

এ সময় আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমি সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়াই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেখেছি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশা চালায় এমন সাতজন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন হল ক্যান্টিন কিশোরের হাতে বই তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরো পড়ুন : অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে অংশ নেব : কাদের সিদ্দিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৯

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে তার নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, আমি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। তবে কোনো জোটে থেকে নির্বাচন করবেন নাকি এককভাবে করবেন তা সময় বলে দেবে জানান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে শনিবার মতিঝিলস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 
কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও নির্বাচনে যাইনি। তার মানে এই নয় যে, বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে তাদের সঙ্গেই আছি। আর আগামী নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কী যাবে না, সেটি তাদের বিষয়। আমরা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে নির্বাচনে যাব।’ তিনি বলেন, আমি শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ চাই না। আমি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমার স্পষ্ট কথা, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই।

কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, জাতীয় ঐক্য এখনও গঠন হয়নি। এ নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। জাতীয় ঐক্যের স্তম্ভ কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ তৈরি করেছে। আমাদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন হতে পারে না।

ড. কামাল হোসেনসহ যুক্তফ্রন্টের নেতাদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের নিজস্ব বক্তব্য। জাতীয় ঐক্যই গঠন হয়নি। জাতীয় ঐক্য গঠন হলে তখন বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। তবে সীমা ছাড়িয়ে গেলে জাতীয় ঐক্য হবে না, ঐক্য থাকবে না।’

তিনি আরো বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সমদূরত্বে রেখে জাতীয় ঐক্য গঠন করা হোক। এখানে যদি বিএনপিকে টানা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগও চলে আসতে পারে। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যথার্থই বলেছেন (আওয়ামী লীগকে ছাড়া জাতীয় ঐক্য হবে না। তিনি বলেন, আমার স্পষ্ট বক্তব্য, যতদিন বেঁচে থাকব বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে বেঁচে থাকব। দুঃখ হয়, বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে না।

এদিকে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবীর বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রান্নায় দেয়া হলুদের মতো। তিনি বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত হলেন রান্নায় দেয়া হলুদের মতো। উনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন, পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। উনি বিএনপি আমলে সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, এরশাদের আমলে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী ছিলেন। উনি এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। উনি রান্নায় দেয়া হলুদ ছাড়া আর কিছু না।’

আরো পড়ুন : নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে নামার আহবান হাফিজ উদ্দিনের

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে নামার আহবান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সভাপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এক দলের নেত্রী সারাদেশ ঘুরে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর বিরোধীদলের নেতারা তা করতে পারছেন না। তিনি দেশবাসীকে ’৫২, ’৬৯ ও ’৭১ সালের মত আন্দোলন করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাঙ্গালিরা এক সময় খ্বুই প্রতিবাদী ছিলাম। সে সময় শুধু আন্দোলন নয়, সশস্ত্র আন্দোলন হয়েছিল। এখন সেই সাহস গেল কোথায়?

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে দি ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘উন্নয়ন, গনতন্ত্র ও সুশাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। 
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মঈনুল হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ তিতুমির, অধ্যাপক আবু আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক ড. ম. ইনামুল হক প্রমুখ।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন করার বিধান ছিল। এখন আইন করে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেনা। তারা এখন ইভিএম প্রকল্প হাতে নিয়ে আছে। প্রকল্প পাস হওয়ার আগেই একটি প্রতিষ্ঠানকে ইভিএম কিনতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে এলসিও খুলে ফেলেছে। কাজের অর্ডার পাবার আগেই কিভাবে এলসি খোলা হল তা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ইসির উচিত সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা। সবাই যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা। না হলে তাদের চলে যাওয়া উচিত। 
দেশের সর্বত্র এখন বিশৃংখলা চলছে। ব্যাংকে চরম নৈরাজ্য চলছে। সবকিছু রাজনৈতিকভাবে দেখা হচ্ছে। চাকরির জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের গিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে সে কোন দল করে, কোন দলকে ভোট দেয় ইত্যাদি। উন্নয়নের মহাসড়কে ওঠার দাবি করা হচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষের জীবনমানে কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।


আরো সংবাদ