২১ নভেম্বর ২০১৮

সরকার পালানোর পথ খুঁজছে : মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। - ফাইল ছবি

সরকার পালানোর পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পরাজিত হচ্ছে, সরকার পরাজিত হচ্ছে, আর সেই জন্য পালাবার পথ খুঁজছে। কীভাবে পালাবে সেই পথ খুঁজছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়ে পালাবার পথ খুঁজছে, যার জন্য আজ মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা করছে কীভাবে বিএনপিকে দমন করা যায়, জনগণের ঐক্য বন্ধ করা যায়, জাতীয় ঐক্যকে বন্ধ করা যায়।’

কারাগারে আদালত স্থানান্তরের সমালোচনা করে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বেআইনি পন্থায় কারাগারে আদালত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিয়াউর রহমান কারাগারে আদালত স্থাপন করেছেন। এটা ঠিক না, ওই সময় যে বিচার কাজ হয়েছে সেটি ছিল একটি মার্শাল ল’র অধীন। আজ যা হচ্ছে সেটি মানবতাবিরোধী।’

বিএনপি মহাসচিব সরকারকে দানব আখ্যা দিয়ে বলেন, দানবীয় একটি সরকার জনগণের উপর চেপে বসেছে। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশের জনগণের ওপর নির্যাতন করছে। নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছে।

সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই কিছু ছাড় দিয়ে হলেও একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

বিরোধীদল ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ দেশের জনগণ কখনও কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায়নি। প্রবল শক্তিশালী পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছে। পরবর্তীতে স্বৈরাচারের সাথে যুদ্ধ করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে। এবারও গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাঝে একটা ভুল ধারণা কাজ করছে- সেটি হলো অনেকে বলে থাকেন খালেদা জিয়াকে ছাড়া আলোচনার কথা। এটা আপনাদের ভুল ধারণা। খালেদা জিয়ার মুক্তি বাদ দিয়ে কোনো আলোচনা নয়। সবাই তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছেন। বি. চৌধুরী নিজেই বিৃবতি দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 

আরো পড়ুন: অসুস্থ খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা চলছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, কারাবন্দী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচন নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করবার নীল নকশা নিয়েই এই অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।

এই গণবিরোধী সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হতে বাধ্য। এটা এখন শুধু আমাদের কথা নয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক ভট্টাচার্য সম্প্রতি তার লেখায় বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটবে। আর সেই কারণেই তারা আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়া যেন নেতৃত্ব দিতে না পারে এবং জনগণ যেন তাদের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারে, সেই জন্যই তারা দেশনেত্রীর চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বেআইনীভাবে সাজা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এত ভয় কেনো? এত ভয়টা কেনো? কারণটা বুঝি না! উনারা তো সব সময় বলেন, উনারা গণতন্ত্রের পথেই চলছেন, সবচেয়ে বেশি উন্নতি হচ্ছে, মানুষ তাদের সঙ্গে আছে। মানুষ সঙ্গে থাকলে ভোট ঠিকঠাক মতো দেন না? অবাধ ও নিরপেক্ষ করেন। দেশনেত্রীকে মুক্তি দেন। আপনি যেমন ভোট করছেন। দেশনেত্রীকেও জনগণের কাছে যেতে দেন। দেখেন কে কত ভোট পায়? ভয় পান কেনো? ভয় এজন্যই পাচ্ছেন, কারণ আপনারা জেনে গেছেন যে, জনগণ আপনাদের সাথে আর নেই।’

গতকাল খালেদা জিয়ার সাথে তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাত করেছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বজনেরা জানিয়েছেন যে, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার বা হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। একই কথা তিনি বলেছেন, ৫ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত বেআইনী আদালত কক্ষে। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন তার স্বাস্থ্য নিয়ে।’

অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে বেগম জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া তার জীবন রক্ষার জন্য অতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

সরকার বেগম জিয়াকে শাস্তি দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনবর্হিভূতভাবে দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই মামলায় উচ্চতর আদালত জামিন দেয়ার পরও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সম্পূর্ণ মিথ্যা, সন্ত্রাসী ও নাশকতার মামলায় তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না।

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতায় দেশ চলছে। বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জনগণ এদের পরিবর্তন চায়।’

মির্জা ফখরুল জানান, ‘বেগম জিয়ার সাথে দেখা করার জন্য আজ আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেবো। কারণ তার সঙ্গে আমরা দেখা করতে চাই। এরপর আমরা তাকে চিকিৎসার জন্য দাবি জানাবো।’

তিনি বলেন, দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো অসুস্থ নাগরিককে সুস্থ না হলে বিচারকার্য চালানো যায় না। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থী। আমরা অনেকবার বলেছি, তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরাও বলেছেন যে, তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ। অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে তাকে চিকিৎসা দেয়া তার জীবন রক্ষার জন্য অতি প্রয়োজন। আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি তার জীবন রক্ষার জন্য। এখন যে অবস্থায় তিনি আছেন তাতে তার জীবন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, তিনি এই অবস্থায় কতদিন বেঁচে থাকতে পারবেন। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। আমরা কারা কর্তৃপক্ষকেও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ। আপনাদের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে আইন ও বিধান দ্বারা পরিচালিত। এই দায় আপনাদেরও বহন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ