১৯ নভেম্বর ২০১৮

ধরিয়ে দিলে ভুল শুধরে নেয়ার অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল - সংগৃহীত

সরকারের ‘অনিচ্ছাকৃত’ কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, তার দল আওয়ামী লীগ সেসব ভুল শুধরে নেবে।

শুক্রবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ‘গুজবে’ কান না দিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও ভুল করতে পারি, আমরা অনিচ্ছাকৃত অনেক কিছু করতে পারি। আপনারা যদি ভুল ধরিয়ে দেন, অবশ্যই আমরা সংশোধিত হব। সেখানে আমাদের কোনো রাখঢাক নাই।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতির প্রশ্নে সংসদ সদস্যদেরও ছাড় দেন না। দলের কেউ কোনো অন্যায় করলে সেজন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে।

‘সেখানে আমাদের কোনো কম্প্রোমাইজ নাই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, আর পথ হারাবে না কোনোদিন।’ তবে আবারও গুজব ছড়িয়ে জাতিকে যে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে- সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকালী শিক্ষার্থীদের আমরা বললাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন তোমাদের সব দাবি মানা হবে। সবাইকে বললাম আন্দোলন করতে হবে না; তোমরা ঘরে ফিরে আস।’

‘তারপরও আমরা দেখলাম, বিভিন্নভাবে যারা নাকি বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যর্থ হচ্ছিল, তারা এই বিভিন্নভাবে এদেরকে সামনে নিয়ে আসছিল। তারপর সবাই বুঝতে পেরেছিল যে এগুলো সবই মিথ্যাচার।’

ওই আন্দোলনের মধ্যে অভিনেত্রী নওশাবার ফেইসবুক লাইভের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘একজন অভিনেতা কীভাবে অভিনয় করে বলেছিল যে চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা তাকে সামনে এনে সে কেন সেটা করেছে সেটাও আমরা বলে দেওয়াতে পেরেছি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যে করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের আহ্বান করব, কোনো ধরণের গুজবে বিশ্বাস করবেন না। আগে নিজেরা যাচাই করুন, সত্যতা সম্মন্ধে নিশ্চিত হয়ে তারপরে যদি কিছু বলার থাকে আপনারা প্রতিবাদ করুন; সেখানে আমাদের কোনো কিছু নেই।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেলক হক চৌধুরীকে চাঁদাবাজির গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের এই সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : আন্দোলন ও নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার আহবান ড. খন্দকার মোশাররফের
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৩৪
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যাবে মন্তব্য করে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আজকে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। এবার কারাগারের ভেতরে আদালতও স্থানান্তর করা হয়েছে। অথচ খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ বলে আদালতকে জানিয়েছেন। কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে খারাপ অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে এক সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতির অবসান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম।


সংগঠনের সভাপতি সাইদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিক সিকদার, কৃষকদলের শাহাজাহান মিয়া , কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না, বাঞ্ছারামপুর বিএনপির দেওয়ান ফেরদাউসুর রহমান স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার একাদশ নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্যই ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়ে গেছে। জনগণ এই আওয়ামী লীগ থেকে পরিত্রাণ চায়। এই জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগকে সাথে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ওবায়দুল কাদের যে দাবি জানিয়েছেন তা হাস্যকর কথা।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই সরকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভায় লোকসমাগম দেখে এখন আতঙ্কিত। এজন্যই মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার শুরু করেছে। কিন্তু তাদেরকে বলবো-এবার জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে যুগপত আন্দোলন হবে। সেই আন্দোলনে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে। দেশনেত্রীর নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সেনা বাহিনীর তত্ত্বাধানে সেই নির্বাচন হবে। সুতরাং আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদেরকে নিতে হবে।

 


আরো সংবাদ