২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সরকার আইনকানুনের কোনো ধার ধারছে না : রিজভী

বিএনপি
বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী - ছবি : নয়া দিগন্ত

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালত বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসার স্থলে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে আদালত বসানোর কড়া সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারপ্রধানের অদম্য প্রতিহিংসার দ্রুত চরিতার্থ করার জন্য আদালত স্থানান্তরের এই অসাংবিধানিক ন্যাক্কারজনক কাজটি করা হয়েছে। সরকার আইনকানুনের কোনো ধার ধারছে না। আদালতকে বন্দি করা হয়েছে কারাগারে। যেমন দেশের বিপুল জনসমর্থিত নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে গণতন্ত্রকেই বন্দী করে রাখা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন। তিনি জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছে ১৫ শতাধিক এবং মামলা হয়েছে ১২ শতাধিক। নাম উল্লেখ করে আসামি সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা আসামি সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মো: মুনির হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য দুটি। একের পর এক মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে সাজার স্তুপ বৃদ্ধি করা, আরেকটি উদ্দেশ্য দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক অসুস্থতার আরো অবনতি ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে বিপর্যস্ত করা। গতকালও আপনারা দেখেছেন হুইল চেয়ারে করে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। হাত-পা নড়াতে তার অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি এতোটাই অসুস্থ ছিলেন যে, তিনি রীতিমতো কাঁপছিলেন এবং চেয়ার থেকে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বার বার দাবি করা সত্যেও তার সু-চিকিৎসায় সরকার অবহেলা করেছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শনুযায়ী তার যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়নি। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার সু-চিকিৎসার দাবি বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কর্মীরা গতকাল স্বচক্ষে দেখলেন এবং তাদের মাধ্যমে জাতি আবারো জানলো বেগম খালেদা জিয়া কতটা গুরুতর অসুস্থ। তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে রেখে নির্যাতন করছেন সরকার প্রধান। পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে যে কক্ষটি দেয়া হয়েছে তা বাস করার জন্য অনুপযুক্ত। মেরামতহীন অপরিচ্ছন্ন জরাজীর্ণ কক্ষটি দেয়া হয়েছে সরকারের ইচ্ছায়। বেগম জিয়া যাতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিজ কক্ষে নির্বিঘ্নে বাস করতে না পারেন, তিনি যেন সারাক্ষণ কষ্ট পান সে জন্যই এই ব্যবস্থা।

রিজভী বলেন, সামগ্রিকভাবে আইন ও বিচারিক কার্যক্রমেই দেখা যায় বেগম জিয়ার ওপর জুলুমের প্রকাশ। দেশনেত্রী অসুস্থ থাকলেও জোর করে হলেও আদালতে নিয়ে আসতে হবে- এ ধরনের এক আক্রোশের মনোবৃত্তি ফুটে ওঠে আইনী কার্যক্রমে। গতকালও বেগম জিয়াকে জোর করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অন্ধকার কারাগারে আদালত গঠন দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করার শামিল। বেগম জিয়ার ওপর সরকারের এই বেআইনী অসদাচরনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার ওপর যে অবিচার চলছে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি সরকারের বেআইনী হিংস্র আচরণ। এর জবাব ক্ষমতাসীনদের জনগণের কাছে দিতেই হবে। যে মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল, সেই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। অর্থাৎ বেগম জিয়াকে এখন বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সিনিয়র নাগরিক তার প্রতি সরকারের এমন নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না। কারণ এ ধরনের নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনা সারাদেশে বিরোধীদলশূন্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া, পরিবার ছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাসা ও বাড়িতে হানা দিচ্ছে, তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সাথে করা হচ্ছে দুর্ব্যবহার, গ্রেফতার করছে এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো মামলা দিয়ে সারাদেশকে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারের বাহিনীগুলো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জান্তব হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, দপন-পীড়নের এতো তীব্র মাত্রার পরও জাতীয়তাবাদী শক্তির ক্ষয় হয়নি। জনগণের নীরব ক্ষোভ প্রতিদিন বেড়েই চলছে। সরকার বিরোধী দলের ওপর যত জুলুম করছে ততই সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে। অশান্তির আগুনে ভিতরে-ভিতরে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। জনগণের সাথে প্রতারণার মাশুল সরকারকে দিতেই হবে।

গ্রেফতার, মামলা ও বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি :
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর বাসায় বারবার পুলিশ তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তল্লাশি চালিয়েছে। এছাড়া সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলামের সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে বারবার পুলিশ হানা দিচ্ছে এবং পরিবারের লোকজনদের কাছে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও তার সন্ধান চাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সাত্তারের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে।

তিনি বলেন, সূত্রাপুরে বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, জাবেদ কামাল রুবেল, আবু সাহেদ মিন্টু, আনু ও দেলোয়ারসহ ২০ জনের নামে গতকাল দু’টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পিরোজপুরের মঠবাড়ীয় উপজেলা বিএনপির সদস্য শামীম মৃধা, শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান, জানখালী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সেলিম মিয়াকে আজ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নাটোরের সিংড়া উপজেলা বিএনপির নেতা জয়নাল, রতন, আকরাম, সজিবসহ ছয়জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে ১০টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গতরাতে ডা: আব্দুল হালিম, আব্দুর রহিম, মো: আলিমসহ ২১ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মোট ২৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।


আরো সংবাদ