২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আসুন দেশকে বাঁচাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি : মির্জা ফখরুল 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আমগীর - ছবি : সংগৃহীত

দেশকে বাঁচাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার জন্য জেলখানায় আদালত বসানো হয়েছে। সরকার আইন লঙ্ঘন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ রকম কোনো নজির নেই। তিনি বলেন, ‘যেখানে আদালত করা হয়েছে, সেটি ছোট একটি রুম। অন্ধকার। হুইল চেয়ার নিয়ে তিনি সেখানে এসেছেন। বেগম জিয়া বলেছেন, ওখানে তিনি আর যাবেন না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বুধবার নাগরিক ঐক্যের ইভিএম বর্জন, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট শীর্ষক আলোচনা সভায় এই কথা বলেন মির্জা ফখরুল। 

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি, সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকারের উদ্দেশে আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন করছেন, ভালো কথা। আমরাও উন্নয়ন চাই। উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে ধাক্কা দেবেন, তা হবে না। জনগণ আর সহ্য করবে না। গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চালাবেন, তা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। হাতুড়ি দিয়ে, বন্দুক দিয়ে জনগণের ওপর হামলা করবেন আর জনগণ সহ্য করবে, তা ভাববেন না। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্রকে ঠিক রাখুন, জনগণের দাবি মেনে নিন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, মানুষকে শ্রদ্ধা করতে শিখুন। প্রতিহিংসা পরিহার করুন। আমরা রাজপথে আছি, দেশে শ্রদ্ধার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। হাতুড়ির রাজনীতি জনগণ চায় না। জনগণ আগামী নির্বাচনে দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

তিনি বলেন, এই সরকারের পতনের জন্য আমরা সারা দেশ সফর করব, জনগণের কাছে যাবো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া নির্বাচন কমিশন থেকে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করার ঘোষণা আসতে পারে না। এতেই প্রমাণ হয়, নির্বাচন কমিশন সরকারের ইশারায় চলে। এ নির্বাচন কমিশন বিকলাঙ্গ। তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখিয়ে কিছু করতে পারেনি। আপনারাও উন্নয়নের কথা বলে সবকিছু ধামাচাপা দিতে পারবেন না।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জাতি সঙ্কটে পড়লে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয় এবং সে ঐক্যে জনগণের বিজয় হবে। অতীতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছে এদেশের মানুষ। তার দলের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অভিন্ন দাবির ভিত্তিতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জনগণ দেশের মালিক-এমন মৌলিক বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই জনগণ দেশের মালিক হতে পারবে। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে জনগণ ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হবে। সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত নির্বাচন হতে হবে।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, বাংলাদেশ গড়তে, স্বৈরাচার হটাতে জনগণের ঐক্য হয়েছিল। আজো সেই রকম একটি বৃহত্তর ঐক্য হতে যাচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করুন। জনগণ দেশের মালিক। সংবিধানেও সে কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি। একদলীয় শাসনব্যবস্থা চাই না। তিনি বলেন, আমরা চাই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসুক। এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যে দ্বিমত নেই। বিতর্কের অবকাশ নেই। দেশের জনগণ ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ব্যবস্থা করতেই হবে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সামনে আমাদের অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। স্বৈরাচার সরকারের পতনের জন্য আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছিলাম। সমাজকে অন্যায়মুক্ত করতে হবে। আসুন, দলমত নির্বিশেষে সংবিধান ও মূল্যবোধের সপক্ষে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই। তিনি বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যারা আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করবেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার গণতন্ত্রের ওপর হামলা করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ভৌতিক মামলা করছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের নির্মমতা দেখেছি। বর্তমান সরকার কি এখন কম নির্যাতন করছে? আসুন, আমরা দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।

বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে নির্বাচনের আগে মুক্তির পাশাপাশি নির্বাচনের সময় জনগণের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, এখনো কারাগারের অন্ধকারে বসে সেই সংগ্রাম করছেন; সেই দেশনেত্রীর মামলার বিচারের জন্য আদালত নিয়ে যাওয়া হয়েছে পরিত্যক্ত কারাগারের অভ্যন্তরে। এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বাংলাদেশের সাধারণ যেকোনো নাগরিকের যে অধিকার আছে সেই অধিকারেও এটা করা সম্ভব নয়।

এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, দেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। আমরা শুনেছি সমস্ত স্বৈরাচারী দেশে এ রকম ক্যামেরা ট্রায়াল হয়। আজকে স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, যাকে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকার অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখেছিল তাকে আজকে কারাগারের ভেতরে আদালত বসিয়ে বিচার করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, একটি দেশ, যেখানে সংবিধান এবং আদালত বিদ্যমান সেখানে একজন রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার হচ্ছে কারাগারের ভেতর আদালতে। এটা সংবিধানের ৩৫তম অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ডিজিটাল কারচুপির জন্য ইভিএমের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মন্ত্রীরা বলছে, ক্ষমতায় না এলে এক লাখ লোক মারা যাবে। মন্ত্রীদের এ ধরনের বার্তায় কাকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। আর কাকেই বা সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের বার্তা দিয়ে সরকার নিজেই প্রমাণ করছে রাষ্ট্র কত বিপর্যয়ের মুখে। তিনি বলেন, জোট হবে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে-শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন আনতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ইবরাহিম বলেন, আজকে সারা দেশে একটি শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে। তা হচ্ছে ঐক্য, ঐক্য। আগামী চার,পাঁচ মাসে জাতির ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ ঐক্যের মাধ্যমে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এ সরকার চোর। শেয়ারবাজার, বনজঙ্গল, পানি, পাথর, কয়লা, জমি সব খেয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে দেখে কাঁদি। আর আমি যদি লিখি, তাহলে চোর বলে লিখতে হবে। লিখতে গেলে শেষ করা যাবে না। এ সরকারকে জনগণ চায় না। জনগণ বোঝে, কাকে কিভাবে শায়েস্তা করতে হয়। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিলেটে ত্রাস করেছে, খুলনায় করেছে, রাজশাহীতে করেছে। সিলেটে ত্রাস করেও জিততে পারেনি। জনগণ জবাব দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে আটক রাখা হয়েছে। সরকার একটি পাতানো নির্বাচন করার জন্য এ নিপীড়ন নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। আমি আশা করি, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের সব কূটকৌশল ভণ্ডুল হয়ে যাবে।

অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোনো সরকার যদি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়, সে সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। জনগণ দ্বারা নির্বাচিত না হলে সে সরকার কখনো জনগণের জন্য কাজ করতে পারে না। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : প্রফেসর আসিফ নজরুলের বিশ্লেষণ আফগানিস্তান নিয়ে যা বললেন ধোনি কিশোরগঞ্জের মালা-রুমা বেগমদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প রাঙ্গামাটির কাউখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২২টি দোকান পুড়ে ছাই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেই কারাদণ্ড বা জরিমানা ভেনিজুয়েলাকে একঘরে করতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের আহ্বান আন্তর্জাতিক সকল বিরোধ নিষ্পত্তি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ভারতে বন্যায় ১০ জনের প্রাণহানি ভিয়েতনামে ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের ৩ সদস্য নিহত জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী পুরস্কার পেলেন সুদানী চিকিৎসক ভারতে মধ্য আকাশে বিমানে আতঙ্ক!

সকল