২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার, থাকছে না বিএনপি

আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার, থাকছে না বিএনপি - সংগৃহীত

আগামী ২০ দিনের মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এই সরকারে অংশগ্রহণ থাকবে না জাতিয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। তবে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মডেল অনুযায়ী হবে। তাকে প্রধান করে স্বল্পসংখ্যক মন্ত্রী নিয়ে এ সরকার হবে।

ভোটের তারিখ নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত করবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুনেছি নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৭ ডিসেম্বর দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সংসদে দলটির কোনও প্রতিনিধি নেই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, নির্বাচনকালীন সরকারে নাকি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও থাকবেন। কিন্তু এ তথ্যটি ঠিক নয়। নির্বাচনকালীন সরকারে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি থাকার কোনও সুযোগ নেই।’

ইভিএম ছাড়া নির্বাচন কখনোই পুরোপুরি সুষ্ঠু করা সম্ভব নয় মন্তব্য করেন মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনে অনেক সংস্কার হয়েছে। এবার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : সরকারকে একা খেলতে দেয়া হবে না : দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৫

কোনো ষড়যন্ত্র করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, যত যাই কিছু করেন না কেনো কোনো লাভ হবে না। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি বিএনপির সময়। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি ২০ দলের সময়। এই দুটি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ধানের শীষের সরকার ক্ষমতায় আসবে। এর বাইরে কোনো সত্য নেই।

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আরো বলেন, ‘যদি আপনি পদত্যাগ না করেন ভালো কথা। আমরা তখন সেই ব্যবস্থা করবো। আপনি যেভাবে চাইবেন আমরা সেই ভাবেই খেলবো। একা একা খেলে আপনি জয়লাভ করবেন এবার আর সেটা হবে না। মাঠে আমরা আছি আন্দোলনের মাঠেও থাকবো নির্বাচনের মাঠেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।’

আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির আরেক ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। এসময় আরো বক্তব্য দেন-বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিঙ্কন প্রমুখ।

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, ‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন, হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। কিসের কর্মসূচি? কর্মসূচি ছাড়াই আমাদেরকে রাজপথে থাকতে হবে। বিএনপি শহীদ জিয়ার হাতেগড়া দল যতবার ক্ষমতায় এসেছেন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কখনো সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর বলতে হয়নি আই এ্যাম নট আনহ্যাপি। আমাদের বলতে হয়নি এই সরকার অর্থাৎ মঈন উদ্দীন ফখরুদ্দীনের সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল। আমরা গণঅভ্যুত্থান করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গেছি। বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনের দল। আগামী দিনে আন্দোলনে জয়লাভ ছাড়া এই দেশে ভালো নির্বাচন হবে না।’

২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, দেশে কিন্তু বর্তমানে কোনো আন্দোলন নেই তারপরও নাশকতার অভিযোগে এসব নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের ওসিদের মনে হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগের থানা কমিটির সদস্য। ডিসিদের মনে হচ্ছে তারা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। আওয়ামী লীগ বলে এখন বাংলাদেশে কিছু নেই। পুলিশ প্রশাসন এখন আওয়ামী লীগ পরিচালনা করছেন। তারা যেন একধরনের গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রীকে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী করতেই হবে। কিন্তু এগুলো করে শেষ রক্ষা হবে না।

ক্ষমতাসীনদলের নেতাদের উদ্দেশ্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলে নাকি আওয়ামী লীগের লাখ লাখ লোক মারা যাবে সেই দলটির নেতারাই বলছেন কিন্তু কেন মারা যাবে? বাংলাদেশের মানুষ কি বর্বর নাকি? বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেননি?

বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্যই সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে টার্গেট করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান এমপি হন নাই, মন্ত্রী হন নাই তার পরও শুধু তার জনপ্রিয়তার কারণেই সরকারের রোষানলে পড়েছেন। তিনি ইচ্ছে করলে মন্ত্রী হতে পারতেন এমনকি তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিও হতে পারতেন কিন্তু হননি। তারপরও এমন কোনো অপপ্রচার নেই যে আওয়ামী লীগের নেতারা তার বিরুদ্ধে করছেন না।

 


আরো সংবাদ