২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
প্রসঙ্গ খালেদা জিয়ার বিচার

`কারাগারে আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত সংবিধান লঙ্ঘন'

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকার কারাগারে আদালত স্থাপন করছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন। 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার এখন অনুষ্ঠিত হবে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় করাগারে। আদালত বসানোর এ সিদ্ধান্ত আজই হয়। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আজ এক প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। মামলার আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অপর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এই কারাগারে বন্দী আছেন। তিনি এ মামলায় নির্ধারিত তারিখে হাজিরা না দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, এটি হলে তা হবে আইনের পরিপন্থী। এরপর মির্জা ফখরুলও এর প্রতিবাদ করলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা এতদিন একটি বিশেষ আদালত তৈরি করে ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে চলছিল। এখন সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর নিচ্ছে। এটি একটি ক্যামেরা ট্রায়াল। এ ধরনের মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালের সুযোগ নেই। এ পদক্ষেপ সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই সরকার এটি করছে। অত্যন্ত হীন উদ্দেশ্যে এসব কার্যক্রম করছে ক্ষমতাসীনেরা। এ ধরনের কার্যক্রম আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। বিএনপি এটিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে, এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এরর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানানো হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে বড় কথা খালেদা জিয়া একজন প্রবীণ রাজনীতিক। তার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধান যতবার ও যতগুলো সংশোধন হয়েছে, কোনোবারই ৩৫ ধারা সংশোধন করা হয়নি। আজ একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি পরিবর্তন করেছে সরকার। বিএনপির স্থায়ী সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : কারাগারে বসবে খালেদা জিয়ার মামলার আদালত
নয়া দিগন্ত অনলাইন ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৪

আলিয়া মাদ্রসার পরিবর্তে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিশেষ আদালত বুধবার বসবে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারণ এখানে বিএনপি চেয়ারপর্সন বেগম খালেদা জিয়া বন্দী আছেন। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তবে একে ‘আইন পরিপন্থী’ বলেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন—খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অর্থদণ্ডও করা হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

আরো পড়ুন : ‘বক্তব্যে দাপট থাকলেও চেহারায় ছিল অন্যমনস্কতা ও দুশ্চিন্তার ছাপ’
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৫২

সরকার পতনের মহালগ্ন উপস্থিত হয়েছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের ভোটারদের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিত্তিত্বে ভাগ করে ফায়দা লুটার অভিনব চক্রান্ত শুরু করেছে আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা। কিন্তু আর কোনো উপায় নেই। সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে দাপট থাকলেও চেহারায় ছিল অন্যমনস্কতা ও দুঃশ্চিন্তার ছাপ। তবে আমরা সুস্পষ্টভাবে আবার জানিয়ে রাখি, গণদাবি উপক্ষো করলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

 মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


দেশব্যাপী আবারো মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

‘জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত হচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে’ ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, আকস্মিকভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আওয়ামী নেতার বক্তব্য অশুভ চক্রান্তের ইঙ্গিতবাহী। আবহমান বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্টকরে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে নেমে পড়েছেন ওবায়দুল কাদের গং।

রিজভী বলেন, জনসমাজে সাম্প্রদায়িক ঐক্য যখন অটুটবন্ধনে গ্রোথিত, তখন ওবায়দুল কাদেরের আচমকা সাম্প্রদায়িকতা টেনে আনা দেশের মানুষকে পরিকল্পিত বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়ার এক গভীর চক্রান্ত। শান্তি ও সহবস্থানের মধ্য দিয়ে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে জণগনের নির্বিঘ্নে বসবাসের ওপর ওবায়দুল কাদের বক্তব্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার শামিল। ক্ষমতার মোহে মশগুল হয়ে আওয়ামী নেতারা মনের বিকারে প্রলাপ বকতে গিয়ে এখন সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে নিয়ে আসছে। তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্র সমাজের স্থিতিকে ভেঙ্গে ফেলতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাম্প্রদায়িক হামলার আশঙ্কা করছেন কেনো? তাহলে কি তারাই সাম্প্রদায়িক হামলা করে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করবেন কিনা এ প্রশ্ন জনগণের মধ্যে দীর্ঘতর হচ্ছে। এখনো বর্তমান সংবিধানে যতটুকু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকার আছে অর্থাৎ সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার সম্বলিত যে বিধান সংরক্ষিত আছে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সেই অধিকারকেও বিপন্ন করার উস্কানি।

তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। কাদের সাহেবকে পরিস্কার বলতে চাই- কোনো প্রকার উস্কানি দিয়ে লাভ হবে না। এদেশের সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় অটুট ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ। বরং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে মন্দির গীর্জা ও প্যাগোডায় সবচেয়ে বেশী আক্রমণ হয়েছে। তার আমলেই সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত ও নিরাপত্তাহীন। তাদের ব্যক্তিগত, সাংগঠনিক ও ধর্মীয় সম্পত্তির ওপরও আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের লোকেরা হামলা করেছে। আওয়ামী লীগের লোকেরাই তাদের ঘর-বাড়ি জায়গা জমি দখল করেছে, আগুন দিয়ে মন্দিরসহ তাদের উপাসনালয় জ্বালিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ধর্মীয়সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর খুন, জখম, ধর্ষণ,অত্যাচারের বর্বরোচিত পৈশাচিকতা আওয়ামী লীগের শাসন আমলেই ঘটে, আওয়ামী লোকজনদের দ্বারাই। আওয়ামী এ আমলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অনেক ঘটনা এখনো রহস্যজনক।

রিজভী বলেন, কয়েকবছর আগে একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকান্ড। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে পুলিশের উপস্থিতির ১০ গজের মধ্যে এ হত্যাকান্ড ঘটে। সে সময় বই মেলা চলায় সারা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। তাহলে কিভাবে অভিজিৎ রায় খুন হলেন। এর দায়তো সরকারের। এবাবে পুরোহিত, গীর্জার ধর্মীয়যাজকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয়েছে-যার রহস্য আজো উদঘাটিত হয়নি। হীনউদ্দেশ্য নিয়েই ওবায়দুল কাদের গং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জিকির তুলছেন।

‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক লাখ মানুষকে হত্যা করা হবে’ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের এই মন্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, এ তথ্য কোন পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করেছেন তোফায়েল আহমেদ-এটি জানতে জানতে চায়। এ তথ্যের উৎস কি হাসানুল হক ইনু, না সজিব ওয়াজেদ জয় ? এক লাখ লোক মারা যাওয়ার আশংকা করছেন কেনো তোফায়েল আহমেদ? আপনাদের কোন অপকর্মের কারণে আপনাদের এ আশঙ্কা করছেন? বিএনপিতো এর আগে অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কোথাওতো রক্ত ক্ষরণের কোনো দৃষ্টান্ত নেই।

রিজভী আরো বলেন, আপনাদের কোন অপরাধের কারণে এত ভয় পাচ্ছেন? আপনাদের এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দোকান পাট, গরু ছাগল বিক্রি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দেখামাত্র আওয়ামী লীগ হামলা করে, জখম করে। বিরোধী দল ও মতের যে কোন ব্যক্তিই ভোলা এলাকায় বসবাস করতে পারছে না।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নিজেদের অপকর্মের প্রতিশোধ হতে পারে এ আশঙ্কায় কি তোফায়েল আহমেদরা মানুষ হত্যার কাল্পনিক তথ্য দিচ্ছেন? আসলে ভবিষ্যতে ব্যাপক হত্যার ভীতি ছড়িয়ে জনসমাজে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করছেন। বিরোধী দল দমনে আওয়ামী নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করছেন?

তিনি আরো বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসা প্রতিশোধের রাজনীতি করে না। বিএনপির সময়ই মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পেরেছে। এ ধরণের গুজবের বিষয়ে বাংলাদেশের জনগনকে সতর্ক ও সজাগ।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, দেশব্যাপি আবারো নতুন করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অথবা নিজেরাই নাশকতার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে নির্বাচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে প্রায় ৪ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকার আতঙ্কে ভুগছে। গুম. খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা, দুর্নীতি দুঃশাসনের কাদায় আটকে পড়ে এখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে মরণ কামড় দিচ্ছে। পুরোনো মামলা চালু করা এবং নাশকতার অভিযোগ এনে দেশব্যাপি মামলা জড়ানো হয়েছে নেতা-কর্মীদের। অভিযোগের ধরণ একই রকম। সুতরাং মামলাগুলি যে পরিকল্পিত সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

রিজভী বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, প্রভাষক আকরাম হোসেন, মহসীন আলী, খলিসাকুন্ডি ইউনিয়ন বিএনপির মহসীন আলী, যুবদলের প্রভাষক আসাদুল হক, খলিলুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোঃ আকতারুল হক মাস্টার, ছাত্রদলের ফজলুল হক রানা, কৃষক দলের সাইদুল হক, ছাত্রদলের সাইফুল হক, আসাদুজ্জামান রুমন, রিজভী আহাম্মেদ, সহ ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এছাড়া ৫৫ জনকে আসামী করে দুইটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগরীর কদমতলী থানায় সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ, তানভীর আহমেদ রবিন, আনোয়ার হোসেন মজুমদার, আবু নাসের ফকির, জাফর আহমেদ বাবুল তালুকদার, সুমন আহমেদ, রাকি সরদারসহ ৬০/৬৫ জনের নামে মামলা হয়েছে। শ্যামপুর থানায় তানভীর আহমেদ রবিন, মোঃ শাহ আলম, হাফিজুর রহমান, মোঃ শওকত, মোঃ জুয়েল, মোজাম্মেল হকসহ ৯৮ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে পুলিশ।

ডেমরা থানায় মোফাজ্জল হোসেন, হাফেজ মাহবুব, মো: হানিফ, আজিজুর রহমান, হেলাল মেম্বার, আহাদুল্লাহ মিয়াসহ ১০৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ওয়ারী থানায়ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মুক্তাসহ ২২৫ জনের নামে মামলা দিয়েছে পুলিশ। সুত্রাপুরের বিএনপি নেতা মন্টু আজিজ, আক্তারসহ ১৩ জনের নামে মামলা দিয়েছে পুলিশ। যাত্রাবাড়িতেও বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবীসহ ৯৯ জনের নামে মামলা হয়েছে। তেজগাঁওয়ে যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, থানা বিএনপির রুহুল আমিন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীর, মোঃ হুমায়ুন কবির, মোঃ সোলেমান, মোঃ মনিরুজ্জামান মনির ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সাখাওয়াত হোসেনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

এছাড়া বগুড়া জেলায় যুবদলের সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার, শাহজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল বাশারসহ ৩৩ জনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বাগেরহাটের ফকিরহাট, ময়মনসিংহের ভালুকায় ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক মামলা দায়ের করেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগে এ পর্যন্ত ২৮০০’র অধিক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি নেত্রকোনা জেলা, নড়াইল জেলা, রাজশাহী জেলা, নওগাঁ জেলা, ঝিনাইদহ জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, পিরোজপুর জেলা, সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে বলে রিজভী জানান।

 


আরো সংবাদ