২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপিকে আন্দোলন করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - সংগৃহীত

করাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপিকে আন্দোলন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমসটেক সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে আসার পর রোববার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাদের নেত্রী বন্দি হয়ে আছে, এতে আমাদের কী করার আছে। তাকে মুক্ত করার জন্য তারা আন্দোলন করুক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া গ্রেফতার হয়েছেন এতিমের টাকা চুরি করে। আদালত তাকে শাস্তি দিয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নাই। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে। যে মামলায় তার শাস্তি হয়েছে ওই মামলা আমরা করি নাই। সে সময় তাদের পছন্দের সেনা সমর্থিত সরকারই ক্ষমতায় ছিল। তারাই ওই মামলা দিয়েছে। আইনের বাইরে আমার কিছু নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নেত্রী এখন কারাগারে বন্দি। তারা পারলে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করুক।

আজ রোববার বিকেল ৪টায় গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। শুরুতে বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে লিখিত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই শুরু হয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের পালা।

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা যোগাযোগ করার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি ডাক দিচ্ছে, হুংকার দিচ্ছে ভালো। আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাতে বাধা দেওয়ার কিছু নেই।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর তো ওদের সঙ্গে কথা বলব না। তাঁর (খালেদা জিয়ার) যারা আমার বাড়িতে এসে বসে থাকত তারা আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আমার তো একটা আত্মসম্মান বোধ আছে। আমি বারবার অপমানিত হতে কেন যাব?’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়াকে তো আমি গ্রেপ্তার করিনি। সে গ্রেপ্তার করেছে এতিমের টাকা চুরি করে। তাদের আমলে দুর্নীতি, ঘুষ নেওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যদি মুক্তি চান কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে। দ্রুত চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। মামলা আমাদের সরকারের দেওয়া নয়। ওনারাই পছন্দের ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন সাহেবের আমলে দেওয়া।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডু গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ওই দিন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। বিমসটেক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রচেষ্টা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার মাধ্যমে বিমসটেক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।

আরো পড়ুন : সরকারের নির্দেশেই খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৪


‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আওয়ামী লীগ নয়, নির্ভর করছে আদালতের ওপর......’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি বলছে, সরকারের নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে আটকে আছেন। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বার বার বাধাগ্রস্ত করছে সরকার। তিনি একের পর এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আবার তা নানা কায়দায় আটকে দিচ্ছে সরকার। সরকারের নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে আটকে আছে। বেগম জিয়া সুবিচারে নয় প্রতিহিংসামূলক সরকারি বিচারে কারাবন্দি। তার কারাবন্দীত্ব শুধু সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে।

আজ রোববার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন।


এছাড়া গতকাল ঢাকা সহ সারাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে সফল করায় সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদেরকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানান রিজভী।

গতকাল রাতে বিএনপির জনসভার বক্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির সরকার পদত্যাগের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

এই প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকালের জনসভায় বিপুল মানুষের সমাগমেই প্রমাণিত হয়েছে জনগণ এ সরকারকে আর চায় না।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন আওয়ামী মন্ত্রীরা। কিন্তু সংবিধান তো পরিবর্তন করেছেন আপনারা। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন বাতিলের মাধ্যমে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। সুতরাং গতকালের ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও সত্যের অপলাপ। সংবিধান সংশোধন করা যায়- যেমনটি ক্ষমতাসীনরা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আপনারা কিভাবে বাদ দিয়েছেন, আপনারা যেভাবে বাদ দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই আবার তা সংবিধানের সংযোজন করা সম্ভব।

রিজভী বলেন, যতই ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা ও অপলাপ করুন না কেনো আপনাদের এবার বিদায় নিতেই হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো গড়িমসি চলবে না। জনগণের ভোট জনগণ দিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দিবে না। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের শত্রু পক্ষ। তার অধীনে নির্বাচনের অর্থই হচ্ছে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ।

তিনি বলেন, জালিয়াতির মেশিন ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নীলনকশা বন্ধ করুন। পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্প সংখ্যক দেশে যারা ইভিএম চালু করেছিল তারাও এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ সকল প্রতিবাদ উপেক্ষা করে কেনো এ গণবিরোধী সরকার ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট করতে চায়, সেটি এখন জনগণ টের পেয়ে গেছে। সারাবিশ্বব্যাপি ইভিএম নিয়ে সন্দেহ প্রবণ এ মাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে তখন বাংলাদেশের ভোটারবিহীন সরকার এ মেশিন চালু করতে এতো উৎসাহি কেনো তা সুস্পষ্ট। এক শুভঙ্করের ফাঁক দিয়ে তিনি বাজিমাত করতে চান। তবে তার দুরভিসন্ধি জনগণের কাছে ধরা পড়ে গেছে। ভোট ডাকাতির বিপক্ষে ও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষেই বাংলাদেশের জনগণ।

সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে রিজভী আরো বলেন, গতকাল বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার, বাড়ীতে-বাড়ীতে হানা ও কর্মসূচী স্থলে আসার পথে ব্যাপকভাবে বাধা দিয়েছে। গতকাল ঢাকার বিশাল জনসমাবেশে আসার সময় পথে গাড়ী আটকে দিয়ে নেতাকর্মীদের নামিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ঢাকার প্রবেশ পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহনকেও সমাবেশ স্থলে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, থানা বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ চান ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ আলী তালুকদারসহ ১৬ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গতকাল চারঘাট থানার মারিয়ার ঈদগাহ ময়দানের সামনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ শেষ করার সাথে সাথেই পুলিশ আকস্মিক আক্রমন চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পরশু রাতে ভোলা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ট্রুম্যানকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে আসার পথে বনানী থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল কাদেরসহ ৮ জনকে বিনা কারণে পুলিশ গ্রেফতার করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসার পথে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ গাড়ি আটকিয়ে দিয়ে কিছু নেতাকর্মীকে ছেড়ে দিলেও পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমত, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল কবির লিন, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম নজিবুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

রিজভী বলেন, কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব, কমিশনার মহিউদ্দিন মিলন, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের সাবেক জিএস উজ্জল, যুবদল সদস্য শাহীন, হান্নান ও শহর বিএনপির সম্পাদকের আপন দুই ভাই হেলাল ও রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেড়ামারা উপজেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম বাবুসহ আটজনসহ কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ৫৮ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে যুবদলের সাবেক সভাপতি আনসার উদ্দিনকে না পেয়ে তার ছোট ভাই আওলাদ উদ্দিন ও সুজন উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এছাড়া গতকাল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, নওগাঁর আত্রাইসহ বিভিন্নস্থানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাধা দিয়েছে এবং হামলা করেছে পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা। পুলিশী বাধা উপেক্ষা করেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মস–চি পালন করে বিএনপি। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে গ্রেফতার ও হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করছি।


আরো সংবাদ