২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে সরকার

-

সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, সরকার সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা আশ্বাস এবং কিছুদিন পূর্বে কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ পর্যায়ের ছলচাতুরির ফলে সরকারের মুখের কথা জনসাধারণের বিশ্বাস হচ্ছে না। ছাত্রদের গায়ে হাত দেবেন না বরং মন্ত্রিসভা মাফিয়ামুক্ত করুন।

সিপিবি’র উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন। নিরাপদ সড়ক, হত্যাকাণ্ডের বিচার, উদ্ধত মন্ত্রী শাজাহান খানের অপসারণ এবং পরিবহন খাতে নৈরাজ্য ও মাফিয়াতন্ত্রের অবসানের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে দেশব্যাপী সংহতি অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেব ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিকেল ৪টায় সংহতি অবস্থানে অপরাপর বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সংহতি অবস্থানে অংশ নিয়ে সেলিম আরো বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম সমগ্র দেশবাসীর সংগ্রাম। দেশ যে অরাজকতা ও বৈষম্যের ধারায় চলছে তা আর কোনোভাবেই চলতে দেয়া হবে না, এটাই এই আন্দোলনের মর্মকথা। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, চাইতে চলমান আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অন্তত সংখ্যার বিচারে ’৬৯-এর গণআন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেছে।

অবিলম্বে মন্ত্রী শাজাহান খানকে অপসারণের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, চলমান ধর্মঘট পরিবহন শ্রমিকরা করে নাই, এটা লুটেরা মালিকদের স্বার্থে করা হচ্ছে। তিনি লুটেরা মালিকদের শোষণের জাল ছিড়ে পরিবহন শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অনেক কিছুর মত পরিবহন খাত যখন লুটেরা ও মাফিয়াতন্ত্রের হাতে সম্পূর্ণ জিম্মি, তখন এই জিম্মিদশা ও নৈরাজ্য থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে জাগ্রত ‘কিশোর বিদ্রোহীরা’।নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রদের ন্যায্য ৯ দফা দাবি মেনে নিতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ছাত্রদের গায়ে হাত দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। বরং মন্ত্রীসভা যদি মাফিয়ামুক্ত করা হয় সেটাই হবে প্রসংশিত কাজ।

সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ঐক্য ন্যাপের সহ-সভাপতি অ্যাড এস এম এ সবুর, সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ এন রাশেদা, শিশু-কিশোর সংগঠক অধ্যাপক এম এ সাঈদ, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. আহমদ সাজেদুল হক রুবেল, আইনজীবী নেতা অ্যাড. আইনুন্নাহার লিপি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জলি তালুকদার।

 

 

আরো দেখুন: ঐক্যের মাধ্যমেই নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করবো : ড. কামাল

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা জনগণের ঐক্যের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অতীতে সব সময় আমরা ঐকবদ্ধ আন্দোলন করে জনগণের দাবি আদায় করে নিয়েছি। তাই সামনের দিনে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করে নিবো-ইনশাল্লাহ। গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, এসরকারের প্রতি যোল আনা অবিশ্বাস জন্মাছে। সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তাদেরকেই জনগণের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে তারা নিরপেক্ষ। তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে তাদের এধরণের কর্মকাণ্ড কেউ আশা করেনি। এখানেও তারা দু’নম্বরী করেছে। বঙ্গবন্ধুর নামে তারা এসব করছে। তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করছে। এটা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ না।


তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনতো একটা বিচারকের ভূমিকায় থাকবে। একজন বিচারক তো পক্ষপাতিত্ব করতে পারে না। তাদের তো নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চায় জনগণ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনতো এখানে স্বাক্ষী গোপালের মত আছে। তাদেরতো সব কিছুতে সব ঠিক সব ঠিক বলার মত অবস্থান জনগণ আশা করে না।

পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আ.ও.ম শফিকউল্লাহ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ, সাইদুর রহমান সাইদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ।


আরো সংবাদ