২০ নভেম্বর ২০১৮

নিয়ম ভাঙ্গায় তোফায়েলের গাড়ি ঘুরিয়ে দিল শিক্ষার্থীরা

তোফায়েল আহমেদকে আঙুল দিয়ে পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা - সংগৃহীত

নিয়ম ভেঙ্গে উল্টো পথে যাওয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকা দিয়ে উল্টোপথে যাওয়ার সময় মন্ত্রীর বিএমডব্লিউ গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পুলিশ প্রোটোকলে থাকা গাড়িটি শেষ পর্যন্ত ওই পথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

বুধবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িটি প্রায় ১০-১৫ মিনিট আটকে রাখা হয়। এদিন সকাল থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার একপাশে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়িটি পুলিশ প্রোটোকলসহ শাহাবাগ থেকে উল্টো পথে এগিয়ে যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ মিনিট গাড়িটি সেখানে আটকে থাকে।

এ সময় তোফায়েল আহমেদ গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।

শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর কাছে সড়ক দুর্ঘটনার বিচার চেয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে পুলিশ প্রোটোকলে থাকা কর্মকর্তা গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা ‘আইন সবার জন্য সমান’ বলেও স্লোগান দেন।

পরে প্রোটোকলসহ গাড়িটি যে পথে আসছিল সে পথে ফিরে যায়।

গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী।

তাদের বিচারের দাবিতে সেদিন থেকেই রাজপথে অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

আরো পড়ুন : দুর্ঘটনায় মানুষ মারলে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হবে : আইনমন্ত্রী
নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুর্ঘটনায় মানুষ মারলে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দ্রুত বিচার করে দোষীদের সাজা দেয়া হবে।

সচিবালয়ে বুধবার নিজের দপ্তরে আনিসুল সাংবাদিকদের একথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি যেই মুহূর্তে (বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মামলার) তদন্ত শেষে এই মামলা আদালতে গড়াবে আমি প্রসিকিউশনকে বলে এটার তড়িৎ বিচারের ব্যবস্থা করব।

“কেউ যদি মনে করেন মানুষ মেরে কম শাস্তি নিয়ে চলে যেতে পারবেন- এটা তো হয় না। আবার এটাও ঠিক একজনের ভুলের জন্য সকলকে দায়ী করাও ঠিক না। যে ভুল করেছে তার বিচার করা উচিত কিন্তু সম্প্রদায়কে দায়ী করা ঠিক হবে না।”

সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৯১ সালের নিজের স্ত্রীর মারা যাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সড়ক বা রেল দুর্ঘটনায় কেউ যদি নিহত হয় সেটার সম্বন্ধে আমার অভিজ্ঞতা আছে। দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যাথিত।

“এ রকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেটা সম্বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার যা যা উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা গ্রহণ করবে।”

সড়ক পরিবহন আইনে বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আনিসুল বলেন, “আশা করছি আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনটি উঠবে।”

সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব জিনিস রাখা উচিত তা নতুন আইনে রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি যে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে তাদের বিচার যেমন তড়িৎ হওয়া উচিত সব দুর্ঘটনার বিচারও তড়িৎ হওয়া উচিত।”

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের বাধ্যবাধকতা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রেখে গত বছরের ২৭ মার্চ এই আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর থেকে আইনের খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ছিল।

মন্ত্রী জানান, অন্যান্য দেশের মত প্রস্তাবিত আইনে চালকদের জন্য ১২ পয়েন্ট রাখা হয়েছে, বিভিন্ন অপরাধের সাথে সাথে সেই পয়েন্ট কাটা যাবে। যদি ১২ পয়েন্ট কাটা যায় তাহলে সে কোনো দিন আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না।

“বিদেশে চালকের ভুল যদি হয় একেবারে জেল-হাজলে না রেখে পয়েন্ট কাটা হয়, এখানেও সেই পদ্ধতি রাখা হয়েছে।”

নতুন আইনে অনেক সাজার বিধান রাখা হচ্ছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে হলে যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে সেটা পর্যাপ্ত।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ইন্সুরেন্স, জরিমানা, সাজা, চালকদের কোন ধরনের যেসব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন সেসব বিষয়ও আইনে বিস্তারিতভাবে বলা আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।


আরো সংবাদ