২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মাহমুদুর রহমানের ওপর আক্রমণ : বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

‘মাহমুদুর রহমানের ওপর আক্রমণ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি’ - নয়া দিগন্ত

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও কলামিস্ট মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। এ দাবি জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগের ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করে বলেন, এই রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখন রাষ্ট্র নেই, এটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

এখানে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না। আজকে পুলিশ চলছে আওয়ামী লীগের নির্দেশে এবং দুঃখজনকভাবে বিচারাঙ্গনকেও তারা প্রায় দখল করে ফেলেছে। আমরা দেশের জনগণের কাছে এই কথাটা পৌঁছাতে চাই, এ দেশে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এর আগে সেখানে দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকদের নিয়ে এক সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাহমুদুর রহমান যখন আদালতের কাছে প্রোটেকশন চান, কোর্ট থানায় ফোন করে এবং ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু ওসি সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর আরো উচ্চ মহল পর্যন্ত যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সরকারের পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু আদালতে যে ওসি থাকেন তিনি মাহমুদুর রহমান ও অন্যদের বলেছেন, আপনারা বাইরে আসেন, বের হন। যাকে বলা যায় যে, জোর করে বের করে ওই সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। যার ফলে সাথে সাথে তাদের আক্রমণ করা হয়েছে বিশেষ করে মাহমুদুর রহমানকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে। সেখানে অন্য যারা ছিলেন তারাও আহত হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাননি। কোনো গাড়ি পর্যন্ত তাদের দেয়া হয়নি। সরকারের দায়িত্ব ও উচিত ছিল সাথে সাথে পুলিশি হেফাজতে তাকে হাসপাতালে পাঠানো ও তারপর তাকে ঢাকায় আসার ব্যবস্থা করা। আমরা ক্ষোভের সাথে লক্ষ করেছি, তারা এই ব্যবস্থা তো করেইনি উপরন্তু যেন মাহমুদুর রহমানের ওপর এই আক্রমণ যাতে করে তার ব্যবস্থা তারা করেছে। আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা অবিলম্বে যারা কুষ্টিয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। এই সরকারের পতন না ঘটানো গেলে এসব অন্যায়ের বিচার হবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।


আরো সংবাদ