১৯ নভেম্বর ২০১৮

জামায়াতকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : মওদুদ

বিএনপি
ফাইল ছবি - ছবি : আর্কাইভ

২০ দলীয় জোটে বিভক্তি আনতেই জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ‘সরকার ষড়যন্ত্র করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আজ শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকার নানা ধরণের কৌশল করছেন, ষড়যন্ত্র করছেন যাতে করে আমাদের মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়। বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিভিন্ন খবর দিয়ে আমাদের মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সেটা নিস্ফল হবে। আমাদের যে জোট - সেই জোট ছিলো, সেই জোট আছে এবং সেই জোট থাকবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি : গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং জনগনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, সিলেটের একটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন- এটা এমন কোনো নির্বাচন না। তারা দলীয় একজন প্রার্থী দিয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি তাদের সাথে সমঝোতায় আসতে। আমরা বলতে চাই, জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি এক জিনিস আর স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতি আরেক জিনিস। সরকার হটাতে দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করেই বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে জানিয়ে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য কোটা আন্দোলন সরকারের ভুমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আজকে কোটা আন্দোলনে চারজন রিমান্ডে আছে এবং ৮/১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো বেশিও হতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর এখন যে নির্যাতন চলছে তাতে একটা জিনিসই প্রমাণ করে যে, এই সরকার স্বৈরাচারী একটি সরকার এই গণতন্ত্র হলো স্বৈরাচারী গণতন্ত্র, এই গণতন্ত্র হলো এক ব্যক্তির গণতন্ত্র। এটাই তারা বার বার প্রমাণ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে জমা থাকার সোনায় অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, এটা স্বাভাবিক বাংলাদেশ ব্যাংক বলবে এখানে কোনো চোর নাই, কোনো চুরি হয় নাই। এর আগে এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৮ শ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাঁচার হয়ে গেলো। আগে হয়ে টাকার চুরি এখন হয়েছে সোনা চুরি। এতো বড় চুরির পরও একজন সন্দেহভাজনকেও গ্রেফতার করা হয় নাই। কেনো? নিশ্চয়ই তাহলে সরকারের মদদপুষ্ট মানুষরা এটার পেছনে রয়েছে। না হলে তো কোনো কারণ থাকতে পারে না। আমরা জানি দেশে এখন দুই রকমের আইন চলে। একরকমের আইন হচ্ছে সরকারের পক্ষের লোকের জন্য, আরেক রকমের আইনের প্রয়োগ হলো বিরোধী দলের প্রয়োগের জন্য। আজকে দেশে যে আইনের শাসন নাই- এটাই প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ঘটনায় একজন মানুষকে গ্রেফতার করা হয় নাই।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বন্ধুদের অবদানের জন্য তৈরি স্বাধীনতা পদককে ‘সোনায় খাদ’ এর ঘটনায়ও সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান মওদুদ।


আরো সংবাদ