২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু করেছিল ছাত্রশিবির : শাজাহান খান

শাজাহান খান
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান (ফাইল ফটো), ছবি- - সংগৃহীত

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান স্বাধীনতার বিপক্ষের সব অপশক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন দুটি ধারার রাজনীতি চলছে। একটি হলো স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর অপরটি হলো স্বাধীনতার বিপক্ষের অপশক্তি। স্বাধীনতার বিপক্ষের সব অপশক্তিকে চিরতরে নির্মূলকরতে হবে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে উন্নয়নের পথে আরো এগিয়ে নিতে হবে।’

শাজাহান খান আজ জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ছয়-দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল অভিমুখে ‘জনতার অভিযাত্রা’ কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

‘জনতার অভিযাত্রায়’ অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম, ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, সালাউদ্দিন আহমেদ, আলাউদ্দিন মিয়া, নাট্য ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শাজাহান খান বলেন, ২০০৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু করেছিল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে এখন ষড়যন্ত্র করছে। তারা কোটা সংস্কারের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে কোটা পদ্ধতি চালু রাখতে হবে। জামায়াত-শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা এবং তাদের সন্তান ও উত্তরসূরিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী সব অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে ছয়-দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল অভিমুখে ‘জনতার অভিযাত্রা’ আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গিয়ে শেষ হবে। পথিমধ্যে নরসিংদীর ইটাখোলা মোড়, ভৈরব বাস টার্মিনাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চৌরাস্তায় ছয়-দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমাবেশ, হবিগঞ্জের মাধবপুরে লিফলেট বিতরণ এবং শায়েস্তাগঞ্জে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ ‘জনতার অভিযাত্রা’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহবায়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান অভিযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

 

আরো পড়ুন : জালিয়াতির অভিযোগে জবি ছাত্রলীগ নেতা স্থায়ী বহিষ্কার

জবি সংবাদদাতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির পরীক্ষায় জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ও জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিব বিন বারীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ,তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ফার্মেসি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকিব বিন বারীকে (আইডি-বি ১৩০৬০৬০২০) সাময়িক বহিস্কার করে এবং তাকে স্থায়ীভাবে কেন বহিস্কার করা হবে না তার লিখিত জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়। আকিব বিন বারী ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত জবাব দেয়। কিন্তু তার লিখিত জবাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বিবেচিত হয়নি। বরং এতে ভর্তি জালিয়াতিতে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুলভ আচরণ নয় এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ পরিপ্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫-এর ১১(১০) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে আকিব বিন বারীকে ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে।

জানা যায়, গত ১১ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে ভর্তি জালিয়াতিতে জবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিব বিন নাম উঠে আসে।

এ অভিযোগে ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আকিব বিন বারীকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ সময় আকিব বিন বারিও আটক হন।


আরো সংবাদ