২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয় না : মওদুদ

বিএনপি
বক্তব্য রাখছেন মওদুদ আহমদ - ছবি : নয়া দিগন্ত

নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো স্বৈরাচার সরকারের পতন হয় না মন্তব্য করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হয়।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, ১৯৭৫ সালের আওয়ামী লীগ আর বর্তমান আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা তখন যে বাকশাল কায়েম করেছিলো। যদিও সেটা লিখিত ছিলো। কিন্তু বর্তমানে অলিখিতভাবে প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার মধ্য দিয়ে সরকার দেশ চালাচ্ছে। এই যে কলঙ্ক আওয়ামী লীগ লেপন করলো এ থেকে আওয়ামী লীগ কোনোদিনই মুক্ত হতে পারবে না।

সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময়- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের বাকি নির্বাচন সরকারের জন্য পরীক্ষা। আর আমাদের জন্য যে দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না সেটা জনগণকে বুঝানো। বাকি তিন সিটি নির্বাচনেও যদি গাজীপুর ও খুলনার পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে আমাদের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের প্রথম এজেন্ডা হলো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। সরকার চেষ্টা করবে তাকে বেশিদিন কারাগারে রাখতে। কারণ সরকার তাকে ভয় পায়। তিনি অবশ্যই মুক্তি পাবেন এবং যেদিন তিনি মুক্তি পাবেন সেদিন নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে। এজন্য আমাদের আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের বাইরের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ঐক্য হবে সরকার পতনের মূল কারণ। এই ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঐক্য গড়ে তোলার পর উপযুক্ত সময়ে কর্মসূচি দেয়া হবে। এবং এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যাতে সরকার পরিবর্তন হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রবীণ এই আইনবিদ বলেন, তখন আর আপনাদের এই বদ্ধ ঘরে থাকতে হবে না। আপনারা তখন রাজপথে থাকবেন। কারণ কোনো স্বৈরাচার সরকারের পতন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে হয় না।

নাগরিক অধিকার আন্দোলন মঞ্চ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও চিকিৎসা নিয়ে সরকারের নোংরা কৌশল বন্ধের দাবিতে করা হয়।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, নাজিম উদ্দিন, খালেদা ইয়াসমিন প্রমুখ।


আরো সংবাদ