২২ জুলাই ২০১৮

চার সিটিতে জয়ের প্রস্তুতি আ’লীগের

-

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এর আগেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাজিমাত করেছে আওয়ামী লীগ। খুলনা সিটির মতো জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় দলটি। এ জন্য দলীয়ভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। 
দলটির নেতারা মনে করেন, সিটি নির্বাচনে জয় পরাজয়ের একটা প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ জাতীয় নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের মেয়রপ্রার্থী হেরে গেলে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হবে। সেই সুযোগ আওয়ামী লীগ দিতে চায় না। তাই যেকোনো মূল্যে গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে জয় চায় আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনেও জয়ের পথ সুগম করতে চায় তারা।

২০১৩ সালের নির্বাচনে গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে বিএনপি জয়লাভ করে। এ ছাড়া কুমিল্লা ও খুলনা সিটিতেও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নির্বাচিত হন। শুধু নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়রপ্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে গত বছর কুমিল্লা সিটিতে পুনরায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নির্বাচিত হলে চাপে পড়ে ক্ষমতাসীনরা। এরপরই নারায়ণগঞ্জ সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করে জয়ের ধারায় আসে আওয়ামী লীগ। তবে ওই নির্বাচনের পরই অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে হেরে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে ফের জয়ের ধারায় ফিরেছে ক্ষমতাসীনরা। এ জন্য নির্বাচনের আগে নানা হিসাব-নিকাশ কষতে হয়েছে দলটিকে। গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন বর্তমানে বিএনপির দখলে রয়েছে। এটি পুনরুদ্ধার করার কোনো বিকল্প দেখছে না আওয়ামী লীগ। তাই নির্বাচনে জেতার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বিভক্তির দেয়াল ভেঙে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর জন্য কেন্দ্র থেকে ফোন করা হচ্ছে। হেরে যাওয়ার পরিণতি উল্লেখ করে সতর্কও করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গাজীপুরে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা।

২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে আজমত উল্যাহ খানকে আওয়ামী লীগ সমর্থন জানালে জাহাঙ্গীর আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হন। সেই সুযোগে বিজয় ছিনিয়ে আনে বিএনপি। সেই জাহাঙ্গীর আলমকে এবার আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। আর আজমত উল্যাহ খানকে জাহাঙ্গীরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট করা হয়েছে। নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গত সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক করেছে দলটি। একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠক থেকে ওবায়দুল কাদের প্রথমে আজমতউল্যাহ খানের সাথে কথা বলে মাঠের পরিস্থিতি ও প্রচারণার খোঁজখবর নেন। এর পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আখতারুজ্জামান ও ইকবাল হোসেন সবুজের সাথে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাদের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে সবাইকে আরো সিরিয়াস হতে হবে। সব ভেদাভেদ ভুলে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নেমে পড়তে হবে। গাজীপুরে কেন্দ্রীয় নেতারা কিভাবে প্রচারণায় অংশ নেবেন এবং কিভাবে নির্বাচন মনিটরিং করবেন বৈঠকে তাও ঠিক করা হয়েছে।

এ দিকে আগামী ৩০ জুলাই একযোগে অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ওই নির্বাচনে নগর ভবনের হারানো সিংহাসন ফিরে পেতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সিলেট সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গত মঙ্গলবার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচ নেতার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার, অধ্যাপক জাকির হোসেন এবং শিাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। যদিও কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মেয়র পদে মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে তিনজনের নাম পাঠাতে বলা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, দেশের মানুষ এখন উন্নয়নের পক্ষে। গত সাড়ে ৯ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে মানুষ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর বিএনপির মেয়রেরা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। এতে তাদের ব্যাপারে জনগণ হতাশ। ফলে আগামীতে যে চার সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাতে জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি এখন গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। নৌকার পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গাজীপুর সিটিতে বিএনপির মেয়র ছিল। কিন্তু তারা কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন উন্নয়ন চায়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গাজীপুরের জনগণ নৌকা মার্কার প্রার্থীকে ভোট দেবেÑ এটা আমার বিশ্বাস। শামীম বলেন, গাজীপুরসহ চার সিটি নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হবো- ইনশাআল্লাহ।

আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাররা সাধারণত প্রার্থীর ইমেজ দেখে ভোট দেন। আর জাতীয় নির্বাচনে যেহেতু ক্ষমতার পালাবদলের একটি বিষয় থাকে, সেহেতু এখানে পুরোপুরি দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে ভোটাররা ভোট দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয় জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে না। কিছুটা প্রভাব ফেলে।


আরো সংবাদ