১৩ নভেম্বর ২০১৮

খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন সিনিয়র নেতারা

খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন সিনিয়র নেতারা - সংগৃহীত

আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপদেষ্টা মন্ডলী, যুগ্ম মহাসচিববৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শেরে বাংলা নগরস্থ শহীদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। কাল সকাল সাড়ে ১১ টায় পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন তারা। এরপর নেতৃবৃন্দ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে কারাগারে যাবেন।
আজ শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

রিজভী বলেন, মিথ্যা, সাজানো ও জালনথি তৈরি করে সরকারের নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করা মামলায় তিনি জামিন পেলেও মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং তার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়নি। তিনি বলেন, রাজনীতিতে যতই বাদানুবাদ থাক, দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল পছন্দমতো দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত হবে ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন। কিন্তু মূল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে বেগম খালেদা জিয়ার কারা মুক্তি আটকে দিয়েছে। এমনকি কারাগারে গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার জীবনাশঙ্কার কথা উল্লেখ করে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ উন্নত চিকিৎসার দাবি করলেও এখন পর্যন্ত সরকার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা তো করেইনি বরং চিকিৎসা নিয়ে পানি ঘোলা করছে। ৭৩ বছরের বয়স্কা একজন জনপ্রিয় নেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকারের চরম নিষ্ঠুরতা, সরকার অমানবিকতার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। অমানবিক ও নির্মম নিষ্ঠুরতার প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বড় বড় স্বৈরশাসকদেরও হার মানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও কারাগারে বন্দী ছিলেন। তিনি তো বন্দী থাকা অবস্থায় সকল সুবিধা ভোগ করেছেন, পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন, এমনকি শুধু বেসরকারি হাসপাতালেই নয় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অথচ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু গুরুতর অসুস্থ নন, যেকোনো মূহূর্তে বড় ধরণের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকগণ। তাকে পরিত্যক্ত, জীর্ণ-শীর্ণ কারাগারে বন্দী রেখে, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করতে না দিয়ে শেখ হাসিনা চরম প্রতিহিংসার খেলায় মেতে উঠেছেন।

তিনি বলেন, মানুষের চিকিৎসা একটি মানবিক বিষয়। অথচ সেটি নিয়েও নোংরা তামাশা শুরু করেছে সরকার। আসলে প্রধানমন্ত্রীর চোখে চিরকালই ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন। একক অপরিসীম ক্ষমতার মালিক হিসেবে টিকে থাকতেই তিনি জুলুমের পথ বেছে নিয়েছেন। সেজন্যই বেগম জিয়ার চিকিৎাসর দাবিকে অগ্রাহ্য করছেন। তবে ইতিহাস বড় নির্মম, ক্ষমতার দম্ভে, রাষ্ট্রীয় সকল শক্তি ব্যবহার করে একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যতই নিপীড়ণ করুন না কেন তাতে নিপীড়করাও নিরাপদ থাকবেন না।

রিজভী বলেন, ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী নয়, বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বন্দী করে জনগণকে বঞ্চিত লাঞ্ছিত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরে পেতে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। আমি আবারও দলের পক্ষ থেকে আহবান জানাচ্ছি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মু্ক্তি দিন, কালবিলম্ব না করে দেশনেত্রীকে তার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে দেশবাসী ও দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার জন্য দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দোয়া চেয়েছেন।

রিজভী বলেন, ঈদুল ফিতরের এই উৎসবের সময়েও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ওপর চলছে সরকারী ক্র্যাকডাউন। সরকার পতনের আগে মরণকামড় দিচ্ছে। দীর্ঘ সাড়ে চার মাস কারাবন্দী থাকার পর সকল মামলায় জামিনপ্রাপ্ত হয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সভাপতি রাজিবকে পূণরায় গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারে সরকারি অভিপ্রায় সুস্পষ্ট-সরকার অন্ধকারাচ্ছন্ন রাজনৈতিক আকাশ পরিস্কার করতে চায় না। জুলুমের পরিকাঠামো নির্মান করে দেশব্যাপী জনগণকে বন্দী করে গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ীভাবে সমাহিত করার জন্যই সরকার মামলা, হামলা, গ্রেফতার, রিমান্ড, জামিনে মুক্তি পাবার পরও জেলগেটে পূণরায় গ্রেফতারের মহা হিড়িক শুরু করে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের বর্তমান রক্তাক্ত মূর্তি দেখে মনে হয় তারুণ্যের দ্রোহকে অবদমিত করার জন্যই সকল মামলায় জামিন লাভের পরেও হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে ছাত্রদল সভাপতি রাজীবকে কারাফটক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজীব সকল মামলায় জামিনে কারামুক্তির পর রাত সোয়া আটটায় কারাগারের প্রধা ফটক থেকে বেরিয়ে আসার সাথে সাথে উপস্থিত সকলের সম্মুখে ডিবি পুলিশ কর্তৃক তাকে ফের গ্রেফতারের পর একটি গাড়ীতে করে মিন্টু রোডস্থ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়-যা উক্ত গাড়ীকে অনুসরণ করা ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ পুলিশ গত মধ্যরাতের পর থেকে রাজীবকে গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। এই ঘটনাটি অশুভ ইঙ্গিতবহ। তাকে নিয়ে কোনো অনভিপ্রেত কিছু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাবেক পৌর মেয়র ও শহর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলামকে গতকাল ইফতারের কিছ্ক্ষুণ আগে দরিদ্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণের সময় ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করায় নিন্দা জানান এবং তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

এছাড়াও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব এবং বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমানসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও অসত্য মামলা দায়ের করেছে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। আমি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।

রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার আইন সম্মত সরকার নয় বলেই সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করছে। নীচ রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার কারণেই অবৈধ সরকার জুলুমের পথে হাঁটছে। দেশে বিভেদ সৃষ্টি করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কিছু রক্তপিপাসু মানুষ দ্বারা। শেখ হাসিনা সারাদেশটাকেই অধ:পতনের সর্বনিম্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি হিংসার ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রতিহিংসা পূরণের অগ্রপথিক। আমি অবিলম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানকে রাজীবকে ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।


আরো সংবাদ