মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

'রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধক ইসি'

'রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধক ইসি' - ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ও দল গড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। অথচ নির্বাচন কমিশনের কাজ রাজনীতি করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সহায়তা করা, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, তার দলের ব্যাপারে ইাস’র নেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদালতের আশ্রয় উভয় পথেই গণসংহতি আন্দোলন অগ্রসর হবেন।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহীর কমিটির উদ্যোগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখ্তার, সম্পাদকম-লীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, মনির উদ্দিন পাপ্পু, আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপক রায়, কেন্দ্রীয় সংগঠক বেলায়েত শিকদার, জুলকারনাইন ইমন, প্রবীর সাহা, আশরাফুল আলম সোহেল প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কমিশনের দেয়া সবগুলো শর্ত পূরণ করেই গণসংহতি আন্দোলন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। গণমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি নির্বাচন কমিশন গণসংহতি আন্দোলনকে নিবন্ধনের উপযুক্ত বলে মনে করেনি। অথচ এর আগে ৮ এপ্রিল গণসংহতি আন্দোলনকে চিঠি প্রদান করে নির্বাচন কমিশন অঙ্গ সংগঠন না থাকার ঘোষণা এবং প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া বিষয়ে এই দুটি বিষয়ে গঠনতন্ত্রে সংশোধনীর জন্য বলেছিল। সেটি যথাসময়ে সংশোধন করে জমাও দেয়া হয়।

অপর দিকে জোনায়েদ সাকি তার বক্তব্যে বলেন, গণসংহতি আন্দোলন একটি পরিচিত রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলটি ভূমিকা রেখেছে। গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটা বড় অংশ শ্রমিক আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, আরপিওর নামে রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণের যে বন্দোবস্ত করেছিল, বর্তমান সরকার তাকে আরও বহুগুন কঠোর করে তোলার মধ্য দিয়ে সমাজে নুতন চিন্তা ও রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণেরই বন্দোবস্ত করেছে। নির্বাচন কমিশনও সেই কাজে সহযোগীর ভূমিকাই পালন করছে। অথচ এই ধারাগুলো রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার জনগণের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। তারপরও গণসংহতি আন্দোলন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের শর্ত পূরণ করেই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। তবে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্ত পুনঃনীরিক্ষা ও পুনর্বিবেচনা করে গণসংহতি আন্দোলনের আবেদন মাঠ পর্যায়ে জরিপের জন্য প্রেরণ করবে এবং নিবন্ধন বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানান হয় ইসি’র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী ৫ জুলাই পুনঃনীরিক্ষার দাবিতে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দেয়া হবে।

আরো পড়ুন :

ঈদযাত্রায় পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদযাত্রায় যাত্রী সাধারণ যাত্রাপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও পদে পদে হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে দাবী করে অবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার সকালে আসন্ন ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের গতকয়েকদিন ব্যাপী নগরীরর বিভিন্ন বাস কাউন্টার, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে যাত্রী কল্যাণ সমিতির কাছে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানান হয়। সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান টিকিট অব্যবস্থাপনা, সড়ক অব্যবস্থাপনাসহ ঈদযাত্রার নানাক্ষেত্রে গলদ থাকায় যাত্রীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ভাড়া নৈরাজ্যে ও যাত্রী হয়রানী প্রতিরোধে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় গতানুগতিক পদ্ধতিতে ভিজিল্যান্স টিম বা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোথাও তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা রাস্তায় কারো সহযোগিতা পাচ্ছে না।

ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা রাস্তায় ইফতার বা সেহেরী করতে পারছেনা।এইসব দূর্ভোগের শিকার যাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় সরকারের লোকজন ও সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আহব্বান জানিয়েছে যাত্রীস্বার্থ সংরক্ষণকারী এই সংগঠন। তিনি আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার নানা উদ্যোগ নেওয়ার সত্ত্বেও অল্প সময়ে বিশাল যাত্রীবহর সামাল দেয়ার মতো জনবল বা প্রয়োজনীয় যানবাহন না থাকায় প্রতিবছর ঈদ আনন্দ যাত্রায় ভোগান্তি, হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানাভাবে যাত্রী সাধারণ হয়রানির শিকার হয়ে আসে।প্রতি বছর ঈদে গণপরিবহণ সংকটকে পুঁজি করে ঘটে থাকে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও হয়রানি বাণিজ্য। প্রকৃতপক্ষে গণপরিবহনের চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে আমাদের সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে গলদঘর্ম হতে হয় বলে দাবী করেন তিনি।

দেশের প্রায় প্রতিটি মহাসড়কে চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ, বিভিন্ন মহাসড়কে রাস্তার মাঝে প্রবল বর্ষনের কারণে সৃষ্ট গর্ত, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার, বিভিন্ন রোডের বিভিন্ন স্পটে রাস্তার ওপর বসা হাটবাজার, মহাসড়কে চলাচলকারী অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সাসহ অযান্ত্রিকযান এইবারের ঈদযাত্রায় যানজটের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।এছাড়াও নৌ-পথে দুর্যোগপূর্ণ মৌসুম চলছে। তাই নৌ-পথে ওভারলোড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা না হলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ব্যাপক আশঙ্কা বিরাজমান।

এতে আলোচনা করেন গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন আহম্মেদ, সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সমন্ময়ক মো. সামসুদ্দীন চৌধূরী, লায়ন মাহমুদুল হাসান রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম, সেচ্চাসেবক উপ-কমিটির আহব্বায়ক আজহারুল আলম জিকু, জিয়াউল হক চৌধুরী, মিলাদ উদ্দিন মুন্না, আজিজুল হক চৌধুরী, মো. শাহিন, কাজী মো. সালাউদ্দীন প্রমুখ। এতে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করে।


আরো সংবাদ