মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

লুটপাটে নজর থাকায় বাজেটে শিক্ষার উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি : শিবির

-

২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেটেও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না রেখে গতানুগতিক বাজেট পেশ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল ড.মোবারক হোসাইন বলেন, ‘ভোটারবিহীন অনির্বাচিত সরকার’ কখনো জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারেনা তা ২০১৮-১৯ সালের বাজেটের মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হয়েছে। এ বাজেটে সরকারের চরম অযোগ্যতারও বহি:প্রকাশ ঘটেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোকা দিতে ভোটার বিহীন, অবৈধ, অনির্বাচিত সরকার বিশাল ঘাটতির ঋণনির্ভর ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। এই অবাস্তব ও অতি উচ্চাবিলাষী বাজেটকে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বাজেট বলে অভিহিত করেছে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদগণ।
কেননা এ বাজেটের মধ্যে ৫১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বা ১৮.০১ শতাংশ অর্থই ব্যয় হবে সরকারের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধে। বিশাল অংকের ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে জনগণের ঘাড়ে করের বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক খাতে সরকার সৃষ্ট অস্থিরতা সত্তে ও বাজেটে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্পোরেট কর কমিয়ে দিয়ে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা না করে ব্যাংক মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে অবকাঠামো খাতে বেশী বরাদ্দ দিয়ে দুর্নীতির সুযোগ তৈরী করা হয়েছে। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না ঘটিয়ে ধনীকে আরো ধনী ও গরীবকে আরো গরীব করবে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত না হওয়ায় এই সরকারের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোকা দিতে বিশাল অংকের রাজনৈতিক বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ বাজেট যে রাজনীনৈতিক অপকৌশল ও গণবিরোধী তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারও বাজেটে শিক্ষাখাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই খাতে গত বছরের চেয়ে এ বছরে বরাদ্দ পরিমাণ বাড়লেও শতাংশ কমেছে। বিগত বছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিলো ৫০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১২.২৯ শতাংশ। কিন্তু এ বছরে বরাদ্দ বেড়ে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা হলেও তা মোট বাজেটের ১১.৪১ শতাংশ যা গত বছরের তুলনায় ০.৮৮ শতাংশ কম। অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় শিক্ষার জন্য জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বললেও দিয়েছে মাত্র ২.২ শতাংশ। শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোর জন্য দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র সমাজ দাবী করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হলেও শিক্ষা উপকরণের দাম কমানো হয়নি।
প্রয়োজন ক্রমবর্ধমান থাকলেও আলাদা পরিক্ষা হল নির্মাণ ও শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সুকৌশলে ধর্মীয় শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত বাজেট দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে, সরকার কওমী মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি প্রদান করলেও তাদের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন বরাদ্দ রাখেনি। বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রে সরকারি কলেজ ও স্কুলের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ব্যাপারে উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। এছাড়াও গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। শিক্ষা নিয়ে বড় বড় কথা বললেও তার উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা নেই বরং শিক্ষাখাতে বৈষম্যকেই বহাল রাখা হয়েছে। এই বাজেট শিক্ষাখাতে যথাযথ গুরুত্ব প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতোমধ্যেই এই গণবিরোধী বাজেট বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, সংস্থা, দল ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এ বাজেট সংশোধন করতে হবে। দেশের বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন হিসেবে আমাদের প্রস্তাবনা হলো, মোট বাজেটের ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে দিতে হবে। শিক্ষার উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শিক্ষায় যা বরাদ্দ হবে তার ৬০ শতাংশ শিক্ষা উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে গবেষণাগুলোকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বন্ধ করে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ছাত্রদের শিক্ষা ব্যয় কমাতে হবে। শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে। আলাদা পরিক্ষা হল নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজড করতে হবে। দেশে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করে তাতে শিক্ষা ব্যয় কমাতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিশ্চিত করার কার্যকরী ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি, কাঙ্খিত নাগরিক তৈরির লক্ষে পাঠ্যসূচি, পাঠ্যপুস্তক ও মেধা যাচাই পদ্ধতিসহ সামগ্রীক শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বিজ্ঞপ্তি


আরো সংবাদ