২০ অক্টোবর ২০১৮

সাঈদীর আসনে কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন

মনোনয়ন প্রত্যাশী -

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুরের তিনটি আসন নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তবে পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত আসন পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর-নেছারাবার ও নাজিরপুর)। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান এমপি এ কে এম এ আউয়ালকে নিয়ে আওয়ামী লীগে আলোচনা ও সমালোচনা দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসছে। তার নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি ওঠেছে জেলা কমিটির হাইকমান্ড থেকে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগও তার নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলে জড়িয়েছে।

এ কোন্দল মিটাতে গত বছর কেন্দ্রীয় নেতারা পিরোজপুরে এসেও ব্যর্থ হয়েছেন। এমপি আউয়ালের গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। তারা চার ভাই মূলত পিরোজপুরের আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন বহু দিন থেকে। দলের সমর্থন নিয়েই আউয়াল এমপি, মেঝ ভাই পৌরসভার মেয়র, সেজ ভাই সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছোট ভাই মশিউর রহমান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি। তিনি পিরোজপুর জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতিরও সভাপতি। এমপির স্ত্রী জেলা মহিলালীগের সভাপতি। পিরোজপুরের এক সময়ের ত্যাগী নেতারা এখন আর দলে সক্রিয় নয়। তাদের অনেকে আউয়ালের নেতৃত্ব মেনে নিতে না পেরে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন।

এক সময়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন খান বলতে গেলে পিরোজপুরই ছেড়েছেন। তিনি এখন ঢাকায় থাকেন। এমপি আউয়ালের নেতৃত্ব নিয়ে তার আপন ভাইয়েরা আপত্তি তুলে তার কাছ থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাদের সাথে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদারসহ জেলা ও উপজেলা কমিটির অনেক নেতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিভক্ত করেছেন দলকে। তারা আউয়ালের ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত। এক সময়ে যারা তার ডান-বামে থাকতেন। তারা তাকে ছেড়ে এমপির ভাই হাবিবুর রহমান মালেকের গ্রুপে ভিড়েছেন। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী শ ম রেজাউল করীম রয়েছেন আউয়ালবিরোধী গ্রুপের সাথে। সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলম, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী খান পান্না আউয়ালের সঙ্গ ছেড়েছেন।

এখন এমপি আউয়াল পিরোজপুরের রাজনীতিতে কোণঠাসা। পিরোজপুরের তৃণমূলে যুবলীগ, ছাত্রলীগও দ্বিধাবিভক্ত। সংসদ নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় দলে শুরু হয়েছে নানা হিসাব। কে পাবেন দলের মনোনয়ন তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। দলের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে হালে প্রাধান্য পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর চাচী এ্যানি রহমান, আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের কাছের মানুষ শ ম রেজাউল করীম, নির্বাচিত পৌরমেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলম, ইছাহাক আলী খান পান্না ও এমপি আউয়াল। উল্লিখিত নেতারা অনেক আগে থেকেই জানান দিয়ে যাচ্ছেন যে দল মনোনয়ন দিলে তারা নির্বাচন করবেন। তবে এক শ্রেণীর মানুষ এ-ও ভাবছেন যে দীর্ঘ দিন পর আওয়ামী লীগের আসন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দখল করে নিয়েছিলেন। তার হাত থেকে আউয়ালই আসনটি উদ্ধার করেছেন। তাই দল শেষ পর্যন্ত আউয়ালের প্রতি সদয় হতে পারেন। 

অপর দিকে পিরোজপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা হালে খুব একটি স্বস্তিতে নেই। মামলায় তারা ক্ষত-বিক্ষত। জেলা হাইকমান্ডে রয়েছে অস্থিরতা। একে অপরকে মানতে চান না। বিগত দিনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে জেলার সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে। জেলা বিএনপির সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি গাজী নূরুজ্জামান বাবুল, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, জেলা কমিটির সহসভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এলিজা জামান, জেলা কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মেজর (অব:) সরোয়ার হোসেন দলের মনোনয়ন চাইবেন। জেলা কমিটির আরেক সহসভাপতি মো: ফখরুল আলম মনোনয়ন দৌড়ে থাকবেন বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে। তারা নিজ নিজ আঙ্গিকে গণসংযোগও করছেন। জোটগত নির্বাচন হলে জোটের কাছে জামায়াতে ইসলামী এবং জাপা (জাফর) থেকেও এ আসনে প্রার্থী দিতে চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এ আসনে দুইবার এমপি নির্বাচিত হন। তার সময় পিরোজপুরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তার প্রচেষ্টায় তৎকালীন জোট সরকার ইন্দুরকানী থানাকে জিয়ানগর নামকরণ করে উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। অবশ্য সে জিয়ানগর গত বছরের ৯ জানুয়ারি আবার ইন্দুরকানী নামে ফিরেছে। সাঈদীর প্রচেষ্টায় বলেশ্বর নদের ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ হয়েছে। এ সময়ে হওয়া পিরোজপুরে নার্সিং ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমিসহ শত মসজিদ আজো দৃশ্যমান। মাওলানা সাঈদীর সময়ে যেসব হাসপাতাল ও কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে, তার সুফল পাচ্ছেন পিরোজপুরবাসী। জোটের কাছে সাঈদীর মেঝ ছেলে পিরোজপুরের আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদীর জন্য তার দল মনোনয়ন চাইবে। আর জোটগত নির্বাচন না হয়ে এককভাবে হলেও শামীম সাঈদী এ আসনে নির্বাচন করবেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক জাপার (জাফর) মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারও জোটের প্রার্থী হতে পারেন। তিনি এলাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে প্রার্থী হওয়ার মতো কাউকে এ আসনে দেখা যাচ্ছে না। উপজেলাপর্যায়ে এরশাদের দলের কোনো কমিটিও নেই। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি সরকারি জোটে থাকায় তার দল থেকে এ আসনে প্রার্থী না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


আরো সংবাদ