১৭ নভেম্বর ২০১৮

ধরলার ডলফিনটি ছাড়া হলো চিড়িয়াখানার লেকে

জাল টানতেই ওঠে এলে ডলফিন - ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে জেলের জালে আটকা পড়া বিলুপ্ত প্রজাতির সামুদ্রিক ডলফিস ইরাবতির দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বুধবার ডলফিনটি চিড়িয়াখানার শিশু পার্কের লেকে ছেড়ে দেয়া হয়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, ডলফিনটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাকে বাঁচিয়ে রাখার সব চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল হক প্রধান নয়া দিগন্তকে জানান, মঙ্গলবার সকালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলা শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর এক কিলোমিটার পশ্চিমে ধরলা নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের হাড্ডু মিয়াসহ একদল জেলে। জাল টেনে কিনারে নিয়ে আসার একপর্যায়ে সামুদ্রিক ইরাবতী ডলফিন লাফালাফি শুরু করে। জেলেরা খুশি হয়ে সকলে মিলে ডলফিনটিকে নৌকায় তোলে। তারা ডলফিনটিকে মাছ ভেবে বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারে নেয়। কিন্তু সেটি মাছ না হওয়ায় কেউ ক্রয় করেনি।

এমতাবস্থায় স্থানীয় কিছু যুবক ডলফিনটিকে ভ্যানে করে গ্রামে গ্রামে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ান। একপর্যায়ে তারা একটি স্কুল মাঠে গর্তে পানি দিয়ে তাতে রাখার ব্যবস্থা করেন। এদিকে ডলফিন ধরা পড়ার খবরে ধরলা তীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা দেখার জন্য শত শত মানুষ ভিড় জমায়। সেখানে যুবকরা টিকেট কেনে ডলফিনটি দেখার ব্যবস্থা করেন।

রাশেদুল হক জানান, আমরা খবর পেয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় বিলুপ্ত প্রজাতির ওই ডলফিনকে উদ্ধার করি এবং সেটি দেখভালের জন্য রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি।
রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মোঃ জসিম উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, দীর্ঘক্ষণ পানির বাইরে থাকা এবং ভ্যান গাড়িতে করে বেঁধে পরিবহনের ফলে ডলফিন ইরাবতিটি দুর্বল হয়ে গেছে। আমরা এটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। ডলফিনটি চিড়িয়াখানার শিশু পার্কের লেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা অব্যহত রেখেছি।

তিনি আরো বলেন, রংপুরে চিড়িয়াখানায় এ ধরণের প্রাণী সংরক্ষণে এটাই প্রথম। এই ডলফিনটি সামুদ্রিক প্রাণী। মূলত: এদের বসবাস বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রে। লবণাক্ত পানিতে থাকতে অভ্যস্ত ডলফিন ইরাবতির ছোট মাছ ও শামুকই খাবার। অস্ট্রেলিয়ান ডলফিন ও নীল তিমির সাথে এর বেশ কিছু সাদৃশ্যগত মিল রয়েছে। এই ধরণের ডলফিন ২৫ থেকে ৩০ বছর বেঁচে থাকে।


আরো পড়ুন :
ঠাকুরগাঁওয়ে গর্ভবতী নীলগাই ধরা পড়ল
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা কুলিক নদীতে পারাপারের সময় একটি গর্ভবতী নীলগাই আটক করেছে স্থানীয় কয়েজন যুবক। পরে জনৈক জাহিদের বাড়িতে রাণীশংকৈল যদুয়ার এলাকায় নিয়ে রাখা হয় ওই নীলগাইটিকে। বিলুপ্তপ্রায় এই নীলগাইটি পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে দলছুট হয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার পটুয়া এলাকায় পথচারীরা ওই নীলগাইটিকে ধাওয়া করলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৌড়ে কুলিক নদী পারাপারের সময় নদীতে জাহিদ, বুধু, মকবুলসহ প্রায় ৫০ জন এলাকাবাসী পানিতে নীলগাইটিকে আটকের চেষ্টা করে। এসময় বুধু ও মকবুল আহত হয়। পরে অনেক কষ্ট করে এলাকাবাসী ওই নীলগাইকে উদ্ধার করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে।

পরে খবর পেলে বন বিভাগের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, রাণীশংকৈল থানা পুলিশ উপস্থিত হয়। জাহিদের ভাই আবুবক্কর কোনো অবস্থাতে নীলগাইটিকে হস্তান্তর করতে না চাইলে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা ওই স্থানে উপস্থিত হয়ে আবু বক্করকে বুঝিয়ে নীলগাইটি বুঝে নেন। রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরোজা বলেন, জেলা প্রশাসক মো. আখতারুজ্জামান স্যারের নির্দেশে নীলগাইটিকে দ্রুত জাতীয় উদ্যানে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নীলগাই উদ্ধার কারী জাহিদ বলেন, দ্রুতগতিতে আসা নীলগাইটি যদুয়ার এলাকায় কুলিক নদীর পানিতে পরে গেলে কয়েজন মিলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে নিরাপদে স্থানে রাখি।
নীলগাইটি দীর্ঘদিন ধরে থাকা জঙ্গলের মালিক সদর উপজেলার পটুয়া ফকদরপুর এলাকাবাসী আকরাম বলেন, নীলগাইটিকে প্রায় ৩-৪ মাস ধরে ভুট্রার ক্ষেতে দেখেছিলেন। জঙ্গলের পাশে ধান ক্ষেত নষ্ট করলে মঙ্গলবার কয়েজন মিলে নীলগায়টিকে ধাওয়া দিলে নীলগাইটি পালিয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নীলগাইটি দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। এই প্রাণীটির যেন কোনো সমস্যা না হয় সে দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

ঠাকুরাগাঁও জেলা প্রশাসক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, নীলগাইটি এলাকাবাসী আটক করার সময় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পরে। ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় উদ্ধারকৃত নীলগায়টি চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর জাতীয় উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। নীলগাই সুস্থ হলে সেটি কোথায় পাঠালে ভালো হয় বন বিভাগের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ।


আরো সংবাদ